মুম্বই: অনিল কুম্বলেকে সরিয়ে ভারতীয় দলের হেড কোচ হওয়া যাবৎ নেটিজেনদের বড় একটা অংশের চক্ষুশূল রবি শাস্ত্রী৷ সময়ে সময়ে শাস্ত্রীর বিতর্কিত কথাবার্তা ও আচরণ নিয়ে তাদের রীতিমতো ক্ষোভ উগড়ে দিতে দেখা গিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়৷ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরে ভারতের বিদায় নেওয়ার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় শাস্ত্রীর পরিবর্তে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের টিম ইন্ডিয়ার কোচ হওয়ার সম্ভাবনার কথা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে৷ ভারতীয় ক্রিকেটমহলেও ইতিউতি এমন সম্ভাবনার কথা ঘোরাফেরা করতে শুরু করেছিল৷ তবে সৌরভ সমর্থক ও শাস্ত্রী বিরোধীদের সেই প্রত্যাশার বেলুনে পিন ফুটিয়ে দেয় বিসিসিআই৷

কোচ হওয়া তো দূরের কথা, কোচের পদের জন্য আবেদনই করতে পারবেন না সৌরভ৷ গতবার শাস্ত্রীর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে নিজেকে তুল ধরলেও এবার আর তাঁকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারবেন না বীরেন্দ্র সেহওয়াগও৷ এমন কী কিংবদন্তি সচিন তেন্ডুলকর যদি যদি ইচ্ছা প্রকাশ করেন বিরাট কোহলিদের কোচ হওয়ার, তবে তিনিও পারবেন না আবেদন করতে৷

ভারতীয় বোর্ড শাস্ত্রীর পথের কাঁটা দূর করতে আগেই প্রতিযোগিতা থেকে সরিয়ে দিয়েছে সচিন, সৌরভ লক্ষ্মণ, সেহওয়াগদের মতো প্রাক্তন তারকাদের৷ অনিল কুম্বলে যদি ফিরতে চান, তা হলেও নিয়মে আটকে যাবেন তিনি৷ আসলে টিম ইন্ডিয়ার কোচ হওয়ার জন্য বিসিসিআই যে যোগ্যতামান নির্ধারণ করেছে, তা পূরণ করতে পারবেন না সৌরভরা৷ শুধু রাহুল দ্রাবিড় চাইলে জোর টক্কর দিতে পারেন শাস্ত্রীকে৷

ভারতের কোচ হতে গেলে প্রথম শর্ত কোনও টেস্ট খেলিয়ে আইসিসি’র পূর্ণ সদস্য দলকে অন্তত দু’বছরের জন্য কোচিং করাতে হবে৷ অথবা আইপিএল বা ঘরোয়া কোনও দলের হেড কোচের দায়িত্ব পালণ করতে হবে তিন বছর৷ সঙ্গে ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা ও বয়ঃসীমাও ধার্য্য করেছে বিসিসিআই৷

৩০টি টেস্ট বা ৫০টি ওয়ান ডে খেলার যোগ্যতামান এবং ৬০ বছরের কম বয়ঃসীমায় আটকাচ্ছেন না সৌরভরা৷ তবে কোচিং করার অভিজ্ঞতার বিষয়টিই তাঁদের লড়াই থেকে ছিটকে দিচ্ছে৷ সচিন, সৌরভ, সেহওয়াগরা কেউই কোনও দেশের জাতীয় দলের হেড কোচ হননি৷ সেহওয়াগ আইপিএলে পঞ্জাবের হেড কোচ হলেও তিন বছরের সময়সীমার শর্ত পূরণ করতে পারবেন না৷ সৌরভ ও সচিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে আইপিএলে পরামর্শদাতার৷ তবে দু’জনের কেউই হেড কোচ হননি কখনও৷ কুম্বলে অতীতে ভারতীয় দলকে কোচিং করালেও তাঁর মেয়াদ ছিল এক বছর৷ সুতরাং বিদেশী কাউকে কোচ করতে না চাইলে শাস্ত্রীর পুনরায় হটসিটে বসার রাস্তা ফাঁকা৷