মুম্বই: শেষকৃত্য সম্পন্ন হল ক্রিকেট গুরু রমাকান্ত আচরেকরের৷ দীর্ঘ রোগভোগের পর বুধবার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে সচিন তেন্ডুলকরের ছোটবেলার ক্রিকেটগুরু আচরেকর স্যার৷ মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর৷

বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর মরদেহ শিবাজী পার্কে নিয়ে আসা হয়৷ কোচিং কেরিয়ারে দীর্ঘ সময় এই শিবাজী পার্কেই কাটিয়েছেন প্রখ্যাত কোচ৷ এই শিবাজী পার্কেই সচিনকে আবিষ্কার করেছিলেন আচরেকর স্যার৷ সেখানেই অগুণিত ক্রিকেট ছাত্ররা আজ তাঁকে শেষশ্রদ্ধা জানায়৷ খুদে ক্রিকেট ছাত্ররা ব্যাট উঁচিয়ে এদিন ভারতীয় ক্রিকেটের সর্বকালীন সেরা কোচকে গার্ড অফ অনার দেয়৷

আরও পড়ুন- ক্রিকেটের স্বর্গোদ্যানে ঐতিহাসিক ‘দিল্লি জয়’ বাংলার

দুই প্রধান ছাত্র সচিন ও বিনোদ কাম্বলিকে এদিন আচরেকর স্যারের বিদায়ী যাত্রায় কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়৷ স্যারের উদ্দেশে তাঁর ছাত্ররা শেষযাত্রায় এদিন ‘অমর রহে’ স্লোগান তোলে৷ অন্তিম যাত্রায় গুরু আচরেকরকে কাঁধ দেন সচিন তেন্ডুলকর৷ অজি ভূমি সিডনিতে এদিন সিরিজের শেষ ম্যাচ খেলতে নামে কোহলিব্রিগেড৷ কালো ব্যাচ পড়ে মাঠে নেমে কিংবদন্তি কোচকে সম্মান জানান বিরাটরা৷

আরও পড়ুন- বিশ্বকাপের মূলপর্বে যেতে ব্যর্থ শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ

সচিন ছাড়াও ভারতকে বিনোদ কাম্বলি, প্রবীণ আমরে, সমীর দীঘে এবং বলবিন্দর সিং সাঁধুর মতো ক্রিকেটার দিয়েছেন আচরেকর৷ মুম্বইয়ের দাদরের শিবাজী পার্কে তাঁর ক্রিকেট কোচিং ক্যাম্প কারোর অজানা নয়৷ শিবাজি পার্কে আচরকেরের হাতেই ক্রিকেটের হাতেখড়ি হয়েছিল সচিন রমেশ তেন্ডুলকরের৷ বাকিটা ইতিহাস! জীবনে একমাত্র প্রথমশ্রেণির ম্যাচ খেলা আচেরকর সচিনের ক্রিকেটগুরু হিসেবে ক্রিকেটবিশ্বে পরিচিত ছিলেন৷ শুধু ক্রিকটগুরু নয়, আদর্শ মানুষ হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে সচিনের জীবনে বড় ভূমিকা ছিল আচেরেকরের৷ মুম্বইয়ে বিভিন্ন জায়গা ম্যাচ খেলতে গুরু আচেরেকরের স্কুটারে করে যেতেন লিটল মাস্টার৷

ক্রিকেট গুরু হিসেবে অসামান্য সাফল্যের জন্য ১৯৯০ সালে দ্রোণাচার্য পুরস্কার পান আচরেকর৷ কুড়ি বছর পর অর্থাৎ ২০১০-এ পদ্মশ্রী পুরস্কারে সম্মানিত হন সচিনের ক্রিকেটগুরু৷