সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : আবারও মাঠে ফিরছে সচিন সৌরভ জুটি। সচিন সৌরভ উইকেটে বেশিক্ষণ সময় কাটিয়ে ফেলার অর্থ ধামাকাদার কিছু। গত তিন দিনে সাফারি পার্কের চিতার এনক্লোজার হতাশ করেছে দর্শকদের। দর্শক এসে দেখছিল চিতাদের এলাকা ফাঁকা। কারণ সচিনের কাণ্ডে বিব্রত বনদফতর সৌরভকে নিয়ে গিয়েছিল নাইট শেল্টারে। সচিনের ফিরে আসায় জুটি আবারও ফিরছে সাফারি পার্কে।

পার্টনার নেই, তাই পার্টনারশিপ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তিন দিনে ধরে সচিন যখন এলাকার বাইরে তখন সৌরভের অবস্থা শুধুই ইতিউতি ঘুরে বেড়ানো। আর মাঝে মাঝে বন্ধু চিতার জন্য হালুম হুলুম ডাক। খুব একটা ভালো লক্ষণ নয় বুঝে বনকর্মীরা তাকে নিয়ে গিয়ে রেখেছিল নাইট শেল্টারে। সচিন ফিরেছে , তাই সপ্তাহের শুরুতে জুটি ভাঙার পর সপ্তাহান্তে সাফারি পার্কের দর্শকদের জন্য খুশির খবর হতে চলেছে বলে মনে করছে পার্ক কর্তৃপক্ষ।

মাস ছয়েক আগে দর্শকদের মনোরঞ্জনের জন্য খয়েরবাড়ির জঙ্গল থেকে দুটি চিতাবাঘ আনা হয় শিলিগুড়ির বেঙ্গল সাফারি পার্কে। একটির নাম রাখা হয় সচিন, আর অপরটির সৌরভ। নিয়মমাফিক কয়েকদিন পর্যবেক্ষণে রাখার পর, দুটি পুরুষ চিতাবাঘকে ছেড়ে দেওয়া হয় খোলা এনক্লোজারে। দ্রুত নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছিল সচিন। কিন্তু, সৌরভকে নিয়ে বিপাকে পড়তে হয় সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষকে। পশুদের খোলা এনক্লোজারে রাখা হলেও, নির্দিষ্ট সময় অন্তর খাঁচায় ঢোকানোই নিয়ম। খাঁচায় যেমন খাবার দেওয়া হয়, তেমনি প্রয়োজনমতো চিকিৎসাও চলে। পুরো বিষয়টির ছন্দপতন হয়েছিল। সচিনের ফিরে আসায় আবারও শুরু হবে পার্টনারশিপ।

মঙ্গলবার ভোরে এনক্লোজার থেকে পালিয়ে যায় সাফারি পার্কের চিতাবাঘ সচিন। পার্কে টহল দেওয়ার সময় ঘটনাটি নজর পড়ে মনিটারিং টিমের। নতুন বছরের প্রথমদিন পার্ক বন্ধ রেখে চলে তল্লাশি। কিন্তু, চিতাবাঘের সন্ধান মেলেনি। বুধবার সকাল থেকে ফের বেঙ্গল সাফারি পার্কে তল্লাশি শুরু হয়। কুনকি হাতি নিয়ে চলছে তল্লাশি। ড্রোনও ব্যবহার কড়া হয়। তবে সচিনের সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে খবর পাওয়া গিয়েছিল। শুরু হয়েছিল নানা মত। কিন্তু শুক্রবার নিজেই ফিরে আসে সচিন। শনিবার থেকে আবারও দেখা যাবে তাকে। দেখা যাবে জিগরি দোস্ত’দের পার্টনারশিপ। তবে দুজনের উপরেই রাখা হবে কড়া নজরদারি।