নয়াদিল্লি : জল ক্রমশই ঘোলা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই রাজ্যের প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে সচিন পাইলটকে। হারিয়েছেন উপমুখ্যমন্ত্রীর পদও। সব মিলিয়ে বেশ কোনঠাসা সচিন। শীর্ষ নেতৃত্ব কথা বলার জন্য ডাকলেও তিনি যাননি। ফলে ক্ষুব্ধ কংগ্রেস হাইকমান্ডও। এই পরিস্থিতিতে রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলটের নয়া অভিযোগ।

রাজস্থানের কংগ্রেস সরকার ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে বিজেপি। এই অভিযোগ আগেই করেছিলেন গেহলট। এবার তাঁর সংযোজন, বিজেপির সঙ্গে সরকার ফেলে দেওয়ার চক্রান্তে হাত মিলিয়েছেন সচিন পাইলটও। উপ মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সচিনকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের ব্যপারে তিনি বলেন কংগ্রেস হাই কমান্ডের সিদ্ধান্ত এটি। তাঁর কিছু বলার নেই। সচিনের বিরুদ্ধে যা ব্যবস্থা নেওয়ার, তা কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্ব নিয়েছে বলে জানিয়েছে রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী বলেন গোটা ষড়ষন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে সচিন।

বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়ে কাজ করছে সে। পাইলটের মগজ ধোলাইয়ের জেরে তাঁদের কিছু বিধায়ক দিল্লি গিয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু তাঁরা সেই বিপথে যাওয়া থেকে বেঁচে গিয়েছেন। ফিরে এসেছেন কংগ্রেস শিবিরেই। অশোক গেহলটের অভিযোগ গোটা বিষয়টিই বিজেপির নোংরা রাজনীতির খেলা।

তাঁরাই সচিন পাইলটকে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে নিয়ে গিয়েছে। মধ্যপ্রদেশে য়ে দলটা কংগ্রেসের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করেছিল, সেই দলই রাজস্থানে এখন সক্রিয় বলে সমালোচনা করেন গেহলট। এদিন রাজস্থানের রাজ্যপাল কলরাজ মিশ্রের সঙ্গে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী গেহলট। সচিন পাইলটকে উপমুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরেই রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। তাঁকে গোটা পরিস্থিতি বুঝিয়ে বলেন।

এদিকে, সচিন পাইলটের মান ভাঙাতেও তৎপরতা চালিয়ে গিয়েছিল কংগ্রেস। দলের মুখপাত্র জানান, অসন্তোষ থাকলে দলেই তা আলোচনা করে মিটিয়ে নিতে পারেন সচিন। বিদ্রোহী সব বিধায়ককেই এই একই পরামর্শ দিয়েছিলেন সুরজেওয়ালা। যদিও তারপরেও অবস্থানে অনড় ছিলেন সচিন পাইলট।

সোমবার তাঁকে ডাকা হলেও গেহলটের বাড়িতে দলের উচ্চ পর্যায়ের সেই বৈঠকে যাননি সচিন। সরকারে সংকট নেমে আসতেই তড়িঘড়ি তা সামাল দিতে দেরি করেননি বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ তথা রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট।

সোমবারই তিনি দলের ১০৭ বিধায়কের মধ্যে ১০০ জনের সমর্থন আদায় করে নিয়েছিলেন। গেহলটের বাড়িতে ডাকা বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন কংগ্রেস বিধায়করা। প্রত্যেকেই মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলটের নেতৃত্বে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

অন্যদিকে, মঙ্গলবারও কংগ্রেস বিধান পরিষদীর দলের বৈঠকে যোগ দিতে বলা হলেও এড়িয়ে যান সচিন। শেষমেশ এদিন রাজস্থান কংগ্রেসের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা অবিনাশ পান্ডে জানান, দল সচিনকে দ্বিতীয় সুযোগ দিতে চায়। সেই কারণেই মঙ্গলবারের বৈঠকে তাঁকে যোগ দিতে বলা হয়েছে। তবে এদিনও বৈঠক এড়িয়েছেন সচিন।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ