নয়াদিল্লি: একাধিক শারীরীক সমস্যা নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন হাসপাতালে। দু’সপ্তাহ লড়াইয়ের পর পবিত্র ঈদের সকালে ৯৬ বছর বয়সে জীবনযুদ্ধে হার মানলেন কিংবদন্তি অলিম্পিয়ান বলবীর সিং সিনিয়র। শুধুমাত্র কিংবদন্তি বললে বোধহয় কম বলা হয়। ভারতীয় ক্রীড়াজগতের অন্যতম সেরা আইকন বলবীর সিংকে প্রয়াত মেজর ধ্যানচাঁদ কিংবা সচিন রমেশ তেন্ডুলকরের সমগোত্রীয় বললে একেবারেই অত্যুক্তি করা হয় না। তাই ভারতীয় ফিল্ড হকির অন্যতম সেরা সেন্টার ফরোয়ার্ডকে হারিয়ে শোকার্ত দেশের ক্রীড়ামহল।

১৯৪৮ ব্রিটেনের মাটিতে দাঁড়িয়ে অলিম্পিক ফাইনালে তাদেরকেই ৪-০ গোলে হারিয়েছিল ভারত। ফিল্ড হকিতে স্বাধীন ভারতীয় দলের প্রথম সোনাজয়ী দলের সদস্য হওয়ার মুহূর্ত বলবীর সিং সিনিয়রের জীবনের সেরা মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হতে বাধ্য। সেখানেই শেষ নয়। এরপর ১৯৫২ হেলসিঙ্কি অলিম্পিক এবং ১৯৫৬ মেলবোর্ন অলিম্পিকেও সোনাজয়ী দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন বলবীর সিং সিনিয়র। ১৯৫৬ দলের অধিনায়কত্বের ব্যাটন ছিল কিংবদন্তির কাঁধে। ১৯৫২ হেলসিঙ্কি অলিম্পিকে ডাচদের বিরুদ্ধে স্বর্ণপদকের ম্যাচে একাই ৫ গোল এসেছিল বলবীর সিং’য়ের স্টিক থেকে। অলিম্পিক গোল্ড মেডেল ম্যাচে তাঁর করা সেই সর্বাধিক গোলের রেকর্ড ছয় দশক পরেও অক্ষত।

বলবীর সিং নাকি ভারতীয় ক্রীড়াজগতের সবচেয়ে অলংকৃত ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব। কারণটা অবশ্যই আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির সেরা ১৬ জন আইকনিক অলিম্পিয়ানের যে তালিকা, তাতে ভারত তো বটেই এমনকি এশিয়া থেকে একমাত্র নাম বলবীর সিং সিনিয়রের। এহেন ক্রীড়াব্যক্তিত্বের মৃত্যুতে স্বভাবতই শোকাহত ভারতীয় ক্রিকেটের মাস্টার ব্লাস্টার সচিন রমেশ তেন্ডুলকর। প্রয়াত বলবীর সিং’য়ের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করে টুইটে শোকবার্তা জ্ঞাপন করেছেন তিনি। সচিন লিখেছেন, ‘বলবীর সিং সিনিয়র মহাশয়ের পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা। তিনি ছিলেন এক মহান ক্রীড়াব্যক্তিত্ব যাঁর হাতে সমৃদ্ধ হয়েছিল ভারতীয় হকি।’

বর্ষীয়ান কিংবদন্তির মৃত্যুতে সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক বিরাট কোহলিও। টুইটারে তিনি লেখেন, ‘কিংবদন্তি বলবীর সিং সিনিয়রের মৃত্যু সংবাদ পীড়া দিচ্ছে। কঠিন সময় তাঁর পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা রইল।’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী লিখেছেন, ‘পদ্মশ্রী বলবীর সিং চিরস্মরণীয় থাকবেন তাঁর ক্রীড়াশৈলীর মধ্যে দিয়ে। দেশকে একাধিক ক্ষেত্রে গর্বিত করেছিলেন। খেলোয়াড় হিসেবে মহান তো ছিলেনই, পাশাপাশি মেন্টর হিসেবেও তাঁর প্রতিভার ছাপ রেখে গিয়েছেন। উনার মৃত্যু সংবাদে শোকাহত। পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা রইল।’

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প