কলকাতা: একের পর এক বিতর্কিত মন্তব্য করার জন্যে তৃণমুলের অন্দরেই বিরাগভাজন হয়েছিলেন বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়র সব্যসাচী দত্ত। দলের ভেতরেই তাঁকে নিয়ে তৈরি হয়েছিল ক্ষোভ। দলবদলের রাজনীতিতে অনেকেই হয়তো ভেবেছিলেন দল ছেড়ে হয়তো বিজেপি তে যোগদান করবেন তিনি। বিশেষ করে বিজেপি নেতা মুকুল রায়কে লুচি আলুরদম খাওয়ানোর পরে সেই জল্পনা শুরু হয়েছিল।

অনেকেই মনে করে ছিলেন যে, হয়তো ক্ষমতাহীন হয়ে তিনি দলের মধ্যে থাকবেন না। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন দল ছাড়ছেন না তিনি। আর তাই মেয়র পদ ছেড়ে দিলেও ছাড়েন নি কাউন্সিলার পদ। এখনও তিনি তৃণমূলেরই বিধায়ক। দল বদলের জল্পনা দেখা দিলেও বারবার জানিয়েছেন তিনি দল ছাড়বেন না। কিন্তু বিজেপি যোগের জল্পনা তাঁর পিছু ছাড়েনি।

সল্টলেকে সব্যসাচীর গণেশ পুজোতে যেভাবে বিজেপি নেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা গিয়েছিল তাতে সেই জল্পনা আরও তীব্র হয়েছিল। কৈলাশ বিজয়বর্গীয় থেকে মুকুল রায়, দিলীপ ঘোষ থেকে রাহুল সিনহা কেউ বাদ যাননি। যদিও তখনও সব্যসাচীর বক্তব্য ছিল, পুজোতে সবাই আসতে পারেন। সেই রেশ কাটতে না কাটতে ফের বিতর্কে বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়র সব্যসাচী দত্ত।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিন উপলক্ষে হওয়া যজ্ঞতে উপস্থিত হয়ে ফের বিতর্কে জড়ালেন সব্যসাচী দত্ত। যার ফলে আবারও জোরাল হয়ে উঠলো দল বদলের জল্পনা। যদিও তিনি জানিয়েছেন ওয়ার্ডের অনুষ্ঠান উপলক্ষে তিনি একজন আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে গিয়েছিলেন। তবে তার এই সিদ্ধান্তের জেরে আবারও তিনি দলের বিরাগভাজন হয়ে উঠবেন তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই।

আজ মঙ্গলবার সল্টলেকের সি এফ ব্লকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিন উপলক্ষে একটি যজ্ঞের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই অনুষ্ঠানে হাজির থাকতে দেখা যায় সব্যসাচীকে। শুধু হাজির থাকা নয়, রীতিমত যজ্ঞে সামিল হতেও দেখা যায় তাঁকে। মন্ত্র উচ্চারণের পাশাপাশি যজ্ঞে আহুতিও দিতে দেখা যায় বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়রকে। আর তা নিয়েই বিতর্কের সূত্রপাত।

তবে তিনি জানিয়েছেন, একজন কাউন্সিলর হিসেবে অনুষ্ঠানের নিমন্ত্রণ পাওয়াতে সেখানে হাজির হয়েছিলেন তিনি। আরও জানিয়েছেন, দেশের উন্নয়নের জন্য, সমৃদ্ধির জন্য এই যজ্ঞ করা হয়েছে তাই তিনি এই অনুষ্ঠানে যোগদান করেছেন। যদিও এর সঙ্গে বিজেপিতে যোগের কোনও সম্ভাবনা নেই বলেই জানিয়েছেন তৃণমূলের এই বিতর্কিত বিধায়ক।

যদিও যজ্ঞতে উপস্থিত বাকি সদস্যরা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আয়ুবৃদ্ধি এবং প্রধানমন্ত্রীর শুভ কামনাতে এই যজ্ঞ করা হয়েছে।