স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: বিধাননগর পুরসভার মেয়র সব্যসাচী দত্তের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনল কাউন্সিলররা৷ ৪১ জন কাউন্সিলর মধ্যে ৩৫ জন কাউন্সিলর সইসহ পুরসভার চেয়ারপার্সন কৃষ্ণা চক্রবর্তীর কাছে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দিলেন ডেপুটি মেয়র তাপস চট্টোপাধ্যায়৷

নিয়ম অনুযায়ী ৭ থেকে ১৫ দিনের মধ্যেই একটি বোর্ড মিটিং ডেকে ভোটের দিন ঠিক করা হবে৷ বিধাননগর পুরসভার চেয়ারপার্সন কৃষ্ণা চক্রবর্তী জানান, অনাস্থা প্রস্তাবের চিঠি পেয়েছি ৷ এবার নিয়ম মেনেই সব কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে৷ আমি দলের একজন সৈনিক৷ দলের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করব৷

বিধাননগর পুরসভায় মোট ৪১ জন কাউন্সিলরের মধ্যে রয়েছেন সিপিএম কাউন্সিলর ১ জন ও কংগ্রেস কাউন্সিলর ১ জন। সব্যসাচীসহ ৩৯ জন তৃণমূল কাউন্সিলর রয়েছে৷ পুরসভার চেয়ারপার্সন কৃষ্ণা চক্রবর্তী আরও জানান, মেয়র এর বিরুদ্ধে অনাস্থা চিঠিতে ৩৫ জন কাউন্সিলর সই করেছেন৷ অনাস্থা আনতে এক -তৃতীয়াংশ সমর্থন লাগে৷ সেই হিসেব অনুযায়ী তৃণমূলের এক-তৃতীয়াংশের বেশি সমর্থন রয়েছে। ফলে সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা মেয়র সব্যসাচীকে পরাজিত করার৷

বিধাননগর পুরসভার ডেপুটি মেয়র তাপস চট্ট্যোপাধ্যায় গতকালই জানিয়েছিলেন, মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম তাকে ফোন করে অনাস্থা আনার প্রস্ততি নিতে বলেন৷ সেই অনুযায়ী তিনি তার প্রস্ততি নিচ্ছেন৷ উল্লেখ্য, গত রবিবার পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের ডাকা বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন বিধাননগর পুরসভার ৩৬ জন কাউন্সিলর।

প্রসঙ্গত, সল্টলেকে সব্যসাচী দত্তের বাড়িতে মুকুল রায়ের লুচি-আলুর দম খাওয়ার পর থেকেই বঙ্গ রাজনীতিতে চর্চায় রয়েছেন বিধাননগরের মেয়র। এরপর একাধিকবার দলীয় অবস্থানের বাইরে গিয়ে সরব হতে দেখা গিয়েছে সব্যসাচীকে। এর মধ্যেই সব্যসাচীর বিজেপিতে যোগদান ঘিরে জোর জল্পনা ছড়ায়।

সম্প্রতি গত শুক্রবার সল্টলেকে বিদ্যুৎ ভবনে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিদ্যুৎ বন্টন সংস্থার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে দলের নেতা তথা রাজ্যের বিদ্যুৎমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে নাম না করে কটাক্ষ করেন সব্যসাচী। এর পরই সব্যসাচীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উঠেপড়ে লাগে তৃণমূল নেতৃত্ব। রবিবার বিধাননগরের মেয়রকে বাদ দিয়ে বাকি কাউন্সিলরদের নিয়ে বৈঠক করেন ফিরহাদ। সেই বৈঠকে সব্যসাচীর ডানা ছাঁটাই করে ডেপুটি মেয়র তাপস চট্টোপাধ্যায়কে বিধাননগর পুরনিগমের দায়িত্ব দেওয়া হয়।