স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়কে শ্রদ্ধা নিবেদনের মঞ্চে তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দল প্রকাশ্যে৷

১লা জুলাই বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিধানচন্দ্র রায়ের জন্ম ও মৃত্যু দিন৷ মূলত তাঁর উদ্যোগেই গড়ে ওঠে কলকাতার পাশে উপনগরী৷ নামকরণ হয় বিধাননগর৷ তাঁকেই শ্রদ্ধা নিবেদনে শাসক দলের অন্দরের কোন্দল সামনে চলে এল৷

আরও পড়ুন: জোর করে জয় হিন্দ বলাচ্ছে তৃণমূল, খবর করতে গিয়ে আক্রান্ত সাংবাদিকরা

সোমবার সকালে মেয়র সব্যসাচী দত্ত বিধাননগরের সেন্ট্রাল পার্কের উলটো দিকে বিধান রায়ের মূর্তিতে মাল্য দান করেন৷ সঙ্গে ছিলেন তাঁর অনুগামী বেশ কয়েকজন মেয়র পারিষদ ও কাউন্সিলর৷ মঞ্চে অনুপস্থিত, বিধাননগরের বিধায়ক সুজিত বসু ও ডেপুটি মেয়র তাপস চট্টোপাধ্যায়৷

মেয়রের মাল্যদানের কিছু পরেই অবশ্য সুজিত বসু ও তাপস চট্টোপাধ্যায় ডঃ বিধান রায়ে মূর্তিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন৷ ফলে, সবার সামনে চলে আসে সব্যসাচী বনাম সুজিত, তাপসের লড়াই৷ যা নিয়ে চর্চা রাজ্য রাজনীতিতে৷

বিধাননগরের মেয়রের সঙ্গে বিধায়কের লড়াইয়ের কথা সবার জানা৷ একে অপরের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সোচ্চারও হয়েছেন৷ তারপরই ভোটের আগে ঘটেছে লুচি-আলুর দমের মতো ঘটনা৷ হোলির অনুষ্ঠানে গিয়ে বিজেপির ধ্বনি শোনা যায় তাঁর মুখে৷ জল্পনা চলে সব্যসাচী দত্তের তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে৷

আরও পড়ুন: ‘আর কত ট্যালেন্ট বোরখার অন্ধকারে হারিয়ে যাবে’, অবাক তসলিমা

পরে অবশ্য বিধাননগরের মেয়র নিজেই জানিয়ে দেন তিনি তৃণমূলেই রয়েছেন৷ তারপরও তাঁর বোমা ফাটানো কমেনি৷ লোকসভা ভোটে বিধাননগরে পিছিয়ে তৃণমূল৷ বিধায়কের ওয়ার্ডেও একই ছবি৷ কিন্তু, সব্যসাচী দত্ত তাঁর নিজের ওয়ার্ড ও রাজারহাট নিউটাউন বিধানসভায় এগিয়ে জোড়াফুল শিবির৷ যা নিয়ে দলের অন্দরেই প্রতিপক্ষ মন্ত্রী সুজিত বসুকে ব্যাঙ্গ করতে ছাড়েননি মেয়র৷ ‘‘পচা আলু’’ বলে সম্বোধন করেন তাঁকে৷

ডেপুটি মেয়রের সঙ্গেও তাঁর সম্পর্ক বিশেষ ভালো নয়৷ দিন কয়েক আগেই পুর বৈঠকে মেয়রের অনুপস্থিতি নিয়ে সরব হন তাপস চট্টোপাধ্যায়৷ এদিনের ঘটনাকে অবশ্য, দুপক্ষই আমল দিতে নারাজ৷ মেয়রের কথায়, ‘‘মেয়র প্রথমে মাল্যদান করেন৷ তারপর অন্যরা করেন৷ কেউ দেরিতে বা ব্যক্তিগত ইচ্ছায় পরে বিধান রায়কে মাল্যদান করতেই পারেন৷’’

আরও পড়ুন: নুসরত ইস্যুতে মুখ খুলুন মমতা, সুর চড়ালেন লকেট

ডেপুটি মেয়রের দাবি, ‘‘মন্ত্রী ও বিধায়কেক জন্য তিনি অপেক্ষা করছিলেন৷ তাই দেরি হয়েছে৷ এটা অন্যায়ের কিছু নেই৷ এনিয়ে অযথা বিতর্ক খোঁজা অনুচিত৷’’

মেয়র বা ডেপুটি মেয়র এড়িয়ে যাচ্ছেন৷ কিন্তু, বিতর্ক তাতে থামছে না৷ উলটে অস্বস্তি বাড়াচ্ছে শাসক তৃণমূলের৷