সুভাষ বৈদ্য,কলকাতা: কাকলী ঘোষদস্তিদার ও সব্যসাচী দত্ত৷ শাসক দলের এই দুই নেতা-নেত্রীর বিবাদ তৃণমূলের অভ্যন্তরে কারও অজানা নয়৷ কখনও কখনও তা প্রকাশ্যেও চলে এসেছে৷ সম্প্রতি বিধাননগরের মেয়রের ‘লুচি আলুরদম’ আপ্যায়ণে তাঁর বিজেপি যোগের জল্পনা তুঙ্গে ওঠে৷ ভোটের দিন সেই বিতর্ক আরও বাড়ালেন মেয়র নিজেই৷

ভোটের দিন কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে নিয়ে প্রশ্ন তুলে যখন ধর্নায় বসেছেন রাজ্যের শাসক দলের প্রার্থী কাকলী ঘোষদস্তিদার, সেই সময়ই বাহিনীর পিঠ চাপড়ালেন সব্যসাচী দত্ত৷ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, ‘‘ভালভাবেই ভোট পরিচালনা করেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী৷ মানুষকে ভোট দেওয়ার সুবিধা করে দিয়েছে৷ সুষ্ঠভাবে ভোট হয়েছে৷ মানুষ মানুষের ভোট দিতে পেরেছেন৷ আমরা ভারতবর্ষের নাগরিক৷ এদেশের কেন্দ্রীয় বাহিনী সীমান্ত এলাকা থেকে শুরু করে দেশকেও রক্ষা করেন৷’’

শেষ দফায় ভোট চলাকালীন দেগঙ্গা, বারাসত ও নিউটাউনের কিছু বুথে কর্তব্যরত কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা জয়শ্রীরাম স্লোগান দিয়েছেন৷ বিশেষ করে দেগঙ্গার ১০৪ নম্বর বুথ,বারাসতের ১৪৮ ও নিউটাউনের ২৫৫,২৫৬ নম্বর বুথে ওই ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ৷ এছাড়া তৃণমূল প্রার্থী কাকলী ঘোষ দস্তিদারের দাবি, কিছু এলাকায় মুখ্যমন্ত্রীর ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফ্লেক্স ছিড়ে ফেলা হয়েছে৷ তাদের শাস্তির দাবিতে এদিন নিউটাউন থানায় ধর্নায় বসেন তিনি৷ তাঁর সঙ্গে ছিল দলীয় নেতা ও কর্মীরা৷

দলীয় প্রার্থীর এই পদক্ষেপের সমালেচনা করেন মেয়র সব্যসাচী৷ বলেন, ‘‘থানা হল রাজ্যসরকারের৷ রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হলেন মুখ্যমন্ত্রী৷ তার বিরুদ্ধে নিশ্চই উনি ধর্নায় বসবেন না৷ ’’

সপরিবারে এদিন ঋষি অরবিন্দ মেমোরিয়াল একাডেমিতে ভোট দেন বিধাননগরের মেয়র৷ শেষ দফার ভোটেও দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি৷ যা জোড়াফুলের প্রতি তাঁর জেহাদকেই আবারও স্পষ্ট করল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ৷