নয়াদিল্লি: সুপ্রিম কোর্ট রায় ঘোষণা করার দু’দিন পর খুলছে শবরীমালা মন্দিরের দরজা। মণ্ডালা পুজোর জন্য খুলছে এই মন্দির। তবে মহিলাদের প্রবেশ নিয়ে নিষেধাজ্ঞা কাটলেও, মহিলাদের প্রবেশদ্বারে কোন নিরাপত্তা যে দেওয়া হবে না তা স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। মণ্ডালা উপলক্ষে বহু ভক্তরা এখনই ভিড় জমাতে শুরু করেছে। এখন অপেক্ষা শুধু মহিলাদের প্রবেশাধিকার বজায় থাকছে কি না তা দেখার। মন্দির চত্বরে রয়েছে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

২০১৮ সাল থেকে শবরীমালা বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠার পর থেকেই মহিলাদের প্রবেশ নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে। সুপ্রিম কোর্ট এই মন্দির সংক্রান্ত মামলা ৭ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চে পাঠানোর দুইদিন পরেই খুলল এই মন্দির। এবার থেকে এই মন্দিরে সব বয়সের মহিলারা প্রবেশ করতে পারবেন। কোনরকম বিধিনিষেধ থাকবে না মহিলা সমাজকর্মীদের জন্য। এর আগে আয়াপ্পার এই মন্দিরে মহিলাদের প্রবেশ নিয়ে ছিল কড়া বিধিনিষেধ। ঋতুমতী মহিলারা প্রবেশ করতে পারতেন না এই মন্দিরে। যা নিয়ে সরগরম হয়ে ওঠে গোটা দেশ। ২০১৯ সালে দাঁড়িয়ে কিভাবে এই ধরণের কুসংস্কারকে মানা হয় তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে থাকেন অনেকে। বিরোধিতা করেন অনেক নারীবাদি সংগঠনগুলিও।

এর আগে এই মন্দিরে সব বয়সের মহিলাদের প্রবেশ করার বিষয় নিয়ে রায় দেওয়ার পর থেকে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিল কট্টরপন্থীরা৷ তীব্রভাবে বিরোধিতা করেছিল। অনেকে মন্দিরে প্রবেশ করার চেষ্টা করলেও বাধার মুখে পরে পিছিয়ে আসতে হয়েছিল। অবশেষে দুইজন চল্লিশ বছরের সাহসী মহিলা এই মন্দিরে প্রবেশ করেছিলেন। তা নিয়েও শুরু হয়েছিল বিতর্ক। পরিস্থিতি এমন জায়গায় গিয়েছিল বন্ধ রাখতে হয়েছিল এই মন্দিরকে। অবশেষে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের দুইদিন পরে আবারও খুলল এই মন্দিরের দরজা। এখন দেখার নতুনভাবে এই মন্দিরের দরজা খোলার পরে মহিলাদের ঢুকতে গিয়ে কোনরকম বাধার সম্মুখীন হতে হয় কিনা।

অবসর গ্রহণের আগে সুপ্রীম কোর্টের বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের কাছে এই মামলা ছিল অতীব গুরুত্বপূর্ণ। তিনি সাত বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চে পাঠিয়েছেন এই মামলা। তিনি কি রায় দেন সেদিকে তাকিয়ে ছিল প্রায় সারা দেশ। গত বছর সেপ্টেম্বরে বিচারপতি রঞ্জন গগৈর নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছিল এই মন্দিরে ঢোকার অধিকার সব বয়সী মহিলাদের রয়েছে। তবে এই রায়ের বিপক্ষে মত দিয়েছিলেন বিচারপতি ইন্দু মলহোত্রা। যদিও পাশ হয়েছিল এই রায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার নিরিখে। বিচারপতি গগৈ জানিয়েছিলেন ধর্মীয় বিষয় নিয়ে তাড়াতাড়ি রায় দেওয়া যায় না একটু সময়ের দরকার পরে। তাই তা সাংবিধানিক বেঞ্চে পাঠানো হয়েছে। যার ফলে আগের রায়ই বহাল থাকল। আর আইন অনুসারে যে কোন বয়সী মহিলারা এই মন্দিরে প্রবেশ করতে পারবেন।

কেননা সূত্র মারফত জানা গিয়েছে কেরালা সরকার জানিয়েছে মহিলা সমাজকর্মীদের এই মন্দিরে ঢুকতে গেলে কোন রকম নিরাপত্তা দেবে না সেখানকার পুলিশ। অনেক মন্ত্রীরাও জানিয়েছেন, আইন মেনে কাজ কড়া উচিত তবে মহিলা সমাজকর্মীরা এই মন্দির থেকে দূরে থাকলেই ভাল হয়। এয়ারালার অন্য এক মন্ত্রী কাদাকামপাল্লি সুরেন্দ্রন শুক্রবার জানিয়েছেন শবরীমালা আন্দোলন করার জায়গা নয়। আর শুধুমাত্র প্রচার পাওয়ার জন্য এই মন্দিরে প্রবেশ করা উচিত নয়। এই প্রসঙ্গে এক মহিলা সমাজকর্মী ত্রুপ্তি দেশাই জানিয়েছেন ২০ নভেম্বরের পরে তিনি এই মন্দিরে প্রবেশ করবেন তাতে পুলিশ নিরাপত্তা দিক আর নাই দিক।

২০১৮ সালে এই মন্দিরের রীতি নিয়ে বিদ্রোহ শুরু হওয়ার পর থেকে দেশ জুড়ে এক তীব্র ক্ষোভ দেখা গিয়েছিল। এই নীতির ফলে মহিলাদের প্রতি চূড়ান্ত অসম্মান করা হচ্ছিল যা নিয়ে সিক্ষিত বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায়ের মানুষজন থেকে মহিলা সমাজকর্মীরা গর্জে উঠেছিল। আর এবারে আদালতের এই রায়ের পরে ১০,০১৭ জন পুলিশকে নিয়োগ করা হয়েছে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে নজরদারি করার জন্য। এছাড়াও ৮০০ জন স্বাস্থ্যকর্মী এবং ১৬ মেডিক্যাল ইমারজন্সি সেন্টার বানানো হয়েছে। এছাড়াও ২৪০০ টয়লেট এবং ২৫০ টি জলের কিয়স্ক বসানো হয়েছে। এছাড়া ১০০০ জন কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে যারা এই মন্দিরের আশেপাশের বর্জ্য পদার্থ পরিষ্কার করবেন।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও