ফাইল ছবি

তিরুঅনন্তপুরম: শবরীমালা মন্দিরে ঋতুমতী মহিলাদের প্রবেশাধিকার নিয়ে চলছে রাজনৈতিক দল ও সরকারের মধ্যে দড়ি টানাটানি৷ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলির হুঁশিয়ারি, আয়াপ্পা মন্দিরের পবিত্রতা রক্ষা করতে তারা দায়বদ্ধ৷ কোনভাবেই মহিলাদের মন্দিরে প্রবেশ করতে দেবেন না তারা৷ তাদের আটকাতে সবরকমের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে৷ অপরদিকে রাজ্য সরকারের অভয়, কোনও চিন্তা নেই৷ মন্দির প্রাঙ্গনে রয়েছে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা৷ কোনও ভক্তকে মন্দিরে প্রবেশে আটকাতে পারবে না কেউ৷

রাজনৈতিক ও হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলির প্রবল বিক্ষোভের মাঝেই বুধবার খুলছে শবরীমালা মন্দিরের দ্বার৷ আয়াপ্পা মন্দিরে সববয়সী মহিলাদের প্রবেশাধিকার নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায় কার্যকর করতে কঠিন পরীক্ষার মুখে কেরল সরকার৷ রাজ্য জুড়ে নামানো হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী৷ মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে আশ্বস্ত করেছে সরকার৷ কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে নিলাক্কলকে৷ এখানেই রয়েছে মন্দিরের প্রবেশদ্বার৷

খবরে প্রকাশ, নিলাক্কল ও পম্পা বেস ক্যাম্পে একহাজার পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে৷ তাদের মধ্যে ২০০ জন মহিলা পুলিশও রয়েছে৷ এই পম্পা বেস ক্যাম্পেই প্রতিবাদে বসেছেন বিক্ষোভকারীরা৷ এছাড়া মন্দির প্রাঙ্গনে মঞ্চ বানিয়ে ধরণায় বসেছিল সবরীমালা আচার সংরক্ষণ সমিতি৷ সেখানে আয়াপ্পা মন্ত্র জপ করে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন৷ সেই মঞ্চ ভেঙে দেয় পুলিশ৷ এছাড়া শবরীমালা মন্দির প্রাঙ্গনে নামানো হয়েছে ৫০০ নিরাপত্তা কর্মী৷

এই যুদ্ধের আবহে শবরীমালা মন্দিরের উদ্দেশে রওনা দিতে শুরু করেছে ভক্তরা৷ আর কয়েকঘণ্টার মধ্যে খুলবে মন্দির৷ পুলিশ জানিয়েছে, মন্দিরে আসতে কাউকে বাধা দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷ এর আগে সোমবার তামিলনাড়ু থেকে শবরীমালা আসা এক দম্পতিকে জবরদস্তি বাস থেকে নামিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে৷ পরে পুলিশ তাদের নিরাপত্তা দেয়৷ এছাড়া মহিলা সাংবাদিকদেরও ভক্তে মনে করে তাদের কাজে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ৷ পুলিশের হস্তক্ষেপের পর তারা কাজে যোগ দেন৷

এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন জানিয়ে দেন, কাউকে মন্দিরে প্রবেশে আটকানো হলে তা বরদাস্ত করা হবে না৷ পুলিশ যথাযথ ব্যবস্থা নেবে৷ এদিকে ১৭ অক্টোবর মন্দির খোলার পর পাঁচদিন সেখানে পুজো পাঠ হবে৷ ২২ অক্টোবর ফের বন্ধ হবে মন্দিরের দরজা৷