নয়াদিল্লি: শবরীমালা মন্দিরে ঋতুমতী মহিলাদের প্রবেশাধিকার সংক্রান্ত মামলা সাত বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চে পাঠাল সুপ্রিম কোর্ট।

গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈর নেতৃত্বাধীন বিচারপতি আর এফ নরিম্যান, এম খানউইলকর, ডিওয়াই চন্দ্রচূড় এবং ইন্দু মলহোত্রার ডিভিশন বেঞ্চ রায়ে জানিয়েছিল শবরীমালা মন্দিরে সব বয়সী মহিলা মন্দিরে প্রবেশ করতে পারবেন। এই রায়ের বিচারপতিদের সমর্থন দাঁড়িয়েছিল ৪:১। শবরীমালা মন্দিরে মহিলাদের প্রবেশ সম্পূর্ণ ধার্মিক দিক,কোর্টের সে বিষয়ে হস্তক্ষেপ উচিত নয় বলে এই রায়ের বিপক্ষে মতপ্রকাশ করেন বিচারপতি ইন্দু মলহোত্রা। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠতার নিরিখে পাশ হয়ে যায় এই রায়।

এই রায়ের আগে পর্যন্ত চির কিশোর দেবতা আয়াপ্পার মন্দিরে দশ থেকে পঞ্চাশ বছরের ঋতুমতী মহিলারা প্রবেশ করতে পারতেন না। এই রায়ের পরেই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার একের পর এক আপিল দাখিল হয়। বৃহস্পতিবার এই নিয়েই রায় দেওয়ার কথা ছিল সুপ্রিম কোর্টের। কিন্তু এ দিন সকালে এই মামলা সাত বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চের কাছে পাঠাল সুপ্রিম কোর্ট।

শবরীমালা মন্দিরে মহিলাদের প্রবেশাধিকার ছাড়াও সুপ্রিম কোর্ট এই সাত সদস্যের বেঞ্চকে নির্দেশ দেয় শুধু হিন্দু ধর্মই নয়, অন্যান্য ধর্মীয় ক্ষেত্রে মহিলাদের বিভিন্ন বিষয়গুলি পর্যালোচনা করা হয়। এই প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট উল্লেখ করে মসজিদে মহিলাদের প্রবেশাধিকার, পারসি মহিলার সঙ্গে অ-পারসি পুরুষের বিবাহ এবং দাউডি বোহরা সম্প্রদায়ে নারীদের যৌনাঙ্গহানি বা (genital mutilation)-এর বিষয়টিও।

এই রায় প্রসঙ্গে মুখ্য বিচারপতি রঞ্জন গগৈ জানান, ‘এই ধরনের ধর্মীয় বিষয়ে নিয়ে চটজলদি রায় দেওয়া যায় না। শুধু শবরীমালাই নয় বৃহত্তর ধর্মীয় বিষয়গুলি বিবেচনার জন্যই এই রায়ে সাংবিধানিক বেঞ্চে পাঠানো হল।’
শবরীমালা রায় পুনর্বিবেচনার জন্য প্রায় ৬৫টি পিটিশন জমা পড়েছিল সুপ্রিম কোর্টে। কিন্তু, বৃহস্পতিবার সেইসমস্ত আর্জি খারিজ করে এই মামলা সাংবিধানিক বেঞ্চের তত্ত্বাবধানে পাঠাল সুপ্রিম কোর্ট।

ফলে, আপাতত আগের রায়ই বহাল রাখল দেশের সর্বোচ্চ ন্যায়ালয়। পাহাড়চুড়োয় অবস্থিত আয়াপ্পার মন্দিরে যেতে পারেন সব বয়সী মহিলারাই। গত বছরই ঐতিহাসিক রায়ে শবরীমালা মন্দিরে যে কোনও বয়সী নারীদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করে সুপ্রিম কোর্ট। শবরীমালা মন্দিরে আরাধ্য দেবতা চির কিশোর আয়াপ্পার ধ্যানভঙ্গ হওয়ার যুক্তি দিয়ে ঋতুমতী মহিলাদের মন্দিরে প্রবেশাধিকারে নিষেধাজ্ঞা ছিল।