পুণে: প্রথম টেস্টের পঞ্চমদিন বিশাখাপত্তনমে মহম্মদ শামির আগুনে স্পেলের সামনে কার্যত অসহায় আত্মসমর্পণ করেছিলেন তাঁর দলের ব্যাটসম্যানরা। শামির শিকারের তালিকায় ছিলেন তিনি নিজেও। তাই চেনা পরিবেশের সুবিধা কাজে লাগিয়ে ঘরের মাঠে কীভাবে বিধ্বংসী হয়ে উঠতে হয়, সেটা মহম্মদ শামির থেকে শিখুক তাঁর দলের তরুণ বোলাররা। পুণেতে বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় টেস্টে মাঠে নামার আগেরদিন এমনটাই জানালেন দক্ষিণ আফ্রিকা দলনায়ক ফ্যাফ ডু’প্লেসি।

বিশাখাপত্তনম টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে তেম্বা বাভুমা, ফ্যাফ ডু’প্লেসি, কুইন্টন ডি’কক সহ পাঁচ দক্ষিণ আফ্রিকা ব্যাটসম্যানকে সাজঘরে ফেরান ভারতীয় দলের বঙ্গ পেসার। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল পাঁচজনের মধ্যে বিপক্ষের চারজন ব্যাটসম্যানই শামির বলে ক্লিন বোল্ড হয়ে উইকেট ছুঁড়ে দিয়ে আসেন। আর বল হাতে শামির এহেন আগ্রাসী পারফরম্যান্সে ২০৩ রানের বড় জয় ছিনিয়ে নিয়েছিল কোহলিব্রিগেড। দ্বিতীয় টেস্টের আগেরদিন শামিতে মুগ্ধ প্রোটিয়া দলনায়ক সাংবাদিক সম্মেলনে জানালেন, আমি আমার দলের একজন তরুণ বোলারকে বলছিলাম হোম কন্ডিশনে ফর্মের শীর্ষে থেকে কীভাবে পারফর্ম করতে হয়, সামনে বসে শেখার এটাই সুবর্ণ সুযোগ।’

প্লেসির আরও সংযোজন, ‘শামি ক্রিজের অ্যাঙ্গল কীভাবে ব্যবহার করে, কীভাবে বল রিভার্স স্যুইং করে সবকিছুই ওর থেকে শেখার রয়েছে।’ একইসঙ্গে শামির উইকেট টু উইকেট বোলিংয়ের প্রবণতাও মুগ্ধ করেছে বিপক্ষ দলনায়ককে। প্লেসির কথায়, ‘ও এমন একজন বোলার যে স্টাম্প লক্ষ্য করে প্রচুর বল করে। বিশাখাপত্তনমে বিশেষ করে প্রথম ইনিংসে আমাদের বোলাররা অনেক বেশি বাইরে বল করেছে। যার সুবিধা নিয়ে স্ক্যোয়ার অফ দ্য উইকেটে বিপক্ষ অনেক রান করেছে। সুতরাং শামির বল থেকে শিক্ষা নেওয়ার অনেক কিছু রয়েছে।’

আর প্রথম ম্যাচের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে দ্বিতীয় ম্যাচের একাদশে বেশ কিছু পরিবর্তন আনতে চাইছেন প্রোটিয়া অধিনায়ক। ফ্যাফের মতে, ‘সঠিক দল নির্বাচন করার সময় চলে এসেছে। ম্যাচ জেতাতে সক্ষম এমন ক্রিকেটারদের খুঁজে বের করতে হবে। ব্যাট হাতে প্রয়োজনীয় রান করার পাশাপাশি ম্যাচে ২০ উইকেট তুলে নিতে পারবে এমন ক্রিকেটারদের নির্বাচন করতে হবে।

পাশাপাশি পুণে টেস্ট শুরুর আগেরদিন প্রোটিয়া অধিনায়কের স্মৃতিতে ফিরে এল ২০১৫ নাগপুর টেস্টের স্মৃতি। মাত্র আড়াইদিনে সেই টেস্টে ভারতের কাছে ধরাশায়ী হতে হয়েছিল প্রোটিয়াদের। পরে যদিও আইসিসি’র কালো তালিকায় চলে গিয়েছিল নাগপুরের অভিশপ্ত সেই পিচ। তাই পুণের পিচের চরিত্র তেমন হোক সেটা কখনোই চান না ফ্যাফ। তবে ভারতের আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে প্রথম টেস্টের তুলনায় একটু বেশি টার্ন থাকুক পিচে, চাইছেন দক্ষিণ আফ্রিকা দলনায়ক।

উল্লেখ্য, ২০১৭ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই পুণের পিচে মাত্র তিনদিনে ঘরের মাঠে শেষ টেস্ট হেরেছিল ভারতীয় দল। এরপর পুণের পিচকেও ‘পুওর’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিল আইসিসি। স্বাভাবিকভাবেই সেই ঘটনার পর বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে চলা টেস্ট ম্যাচে পুণের বাইশ গজের চরিত্র কেমন হয়, সেদিকেই নজর অনুরাগী থেকে বিশেষজ্ঞদের।