নয়াদিল্লি: কাশ্মীর ইস্যুতে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে। সীমান্তে ক্রমশ ঠান্ডা মাথায় ছায়া যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। পিছনে থেকে কার্যত পাকিস্তানকে ইন্ধন দিয়ে যাচ্ছে চিন। সেখানে দাঁড়িয়ে গত কয়েক বছর আগে একযোগে চিন এবং পাকিস্তানকে রুখতে রাশিয়ার সঙ্গে বড়সড় প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছে ভারত। দুই দেশের মধ্যে কয়েক শ’ কোটি টাকা মূল্যের একাধিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি মোতাবেক, রাশিয়ার কাছ থেকে অত্যাধুনিক রাশিয়ান মিসাইল সিস্টেম s-400, অ্যাটাক হেলিকপ্টার এবং সাবমেরিন পাচ্ছে ভারত।

প্রসঙ্গত, চিন ও পাকিস্তান থেকে সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে ও নিজেদের আকাশসীমাকে নিরাপদ করতে বেশ কিছুদিন ধরেই অত্যাধুনিক ‘এস-৪০০ ট্রায়াম্ফ’ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম কিনতে ইচ্ছুক ছিল ভারত। চুক্তি অনুযায়ী, রাশিয়া থেকে পাঁচটি এই সিস্টেম পাচ্ছে ভারত। জানা গিয়েছে, অত্যাধুনিক সিস্টেম প্রত্যেকটি হাতে পাওয়া মাত্র সেগুলিকে চিন ও পাকিস্তান সীমান্তে মোতায়েন করবে ভারত। এজন্যে যত দ্রুত সম্ভবত এই অত্যাধুনিক সিস্টেম হাতে পেতে পারে ভারত, সেই চেষ্টা চালানো হচ্ছে কেন্দ্রের তরফে।

অন্যদিকে, যখন যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান, তখন পরমাণু নীতি নিয়ে ইঙ্গিতবাহী মন্তব্য করলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। বাজপেয়ীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে পোখরানে গিয়ে ‌এমনটাই হুশিয়ারি দিয়েছেন রাজনাথ। কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ শুক্রবার বলেন, ভারত প্রথম পরমাণু অস্ত্র প্রয়োগের পক্ষে নয়। আজ পর্যন্ত ভারত ‘নো ফার্স্ট ইউজ’ নীতিতেই বিশ্বাস করে। কিন্তু রাজনাথ এদিন বলেন, ‘‘ভবিষ্যতে কী হবে তা নির্ভর করবে পরিস্থিতির উপরে।”

পোখারনেই ভারতের দু’টি পরমাণু পরীক্ষা হয়েছিল। সেখানে তিনি সাংবাদিকদের জানান, ‘‘ভারতকে পারমাণবিক শক্তিশালী করে তোলা আমাদের দৃঢ় সংক‌ল্প ছিল এবং এখনও আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ‘নো ফার্স্ট ইউজ’ সম্পর্কে। এটাই সত্যি এখনও পর্যন্ত। ভারত এই নীতির প্রবল সমর্থক। ভবিষ্যতে কী হবে তা নির্ভর করবে পরিস্থিতির উপরে।”