লন্ডন: রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিষেধ অমান্য করেই উত্তর কোরিয়াকে গোপনে জ্বালানি সরবরাহ করেছে রাশিয়ার ট্যাংকার। গত কয়েক মাসে কমপক্ষে তিন বার এমন ঘটনা ঘটিয়েছে রাশিয়া। এমনই তথ্য উঠে এসেছে সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে৷

বলা হচ্ছে, উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতি চাঙ্গা করার উদ্দেশেই এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে৷ আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা সম্পন্ন রাশিয়া, রাষ্ট্রসঙ্ঘে জারি করা নিয়ম অগ্রাহ্য করছে৷ এতে নিজের অবস্থানকেই অপমান করছে মস্কো৷

বিশ্বে তেল রপ্তানির ক্ষেত্রে দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ দেশ রাশিয়া। উত্তর কোরিয়ার নৌজাহাজের কাছে রাশিয়া তেল সরবরাহ করেছে অক্টোবরে ও নভেম্বরে। এর আগে সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের আরেকটি প্রতিবেদনে দেখা যায়, উত্তর কোরিয়ার জাহাজ রাশিয়া থেকে রওনা দেয়৷ এর পরেই তেল সরবরাহের ঘটনা ঘটে।

সেপ্টেম্বর মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করে রাশিয়া থেকে জ্বালানি নিয়ে এবছর উত্তর কোরিয়ার অন্তত আটটি জাহাজ নিজের দেশের দিকে গেছে, যদিও খাতা-কলমে সেগুলোর গন্তব্যস্থল ভিন্ন দেশ ছিল। তবে মাঝপথে জাহাজের গন্তব্যস্থল পরিবর্তন করা হয়েছে কিনা বা উত্তর কোরিয়াতেই ওই জাহাজগুলি খালি করা হয়েছে কিনা সেসম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

রয়টার্স জানাচ্ছে, ওই জাহাজগুলি রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলের বন্দর ভ্লাদিভস্তোক বা নাখোদকা বন্দর থেকে রওনা হয়। প্রসঙ্গত, পরমাণু অস্ত্র ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্পের কারণে উত্তর কোরিয়ার ওপর নানা ধরনের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আছে।

এরআগে, শুক্রবার নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়া সত্ত্বেও উত্তর কোরিয়ায় তেল পাঠায় চিন। আর সেই খবরে রীতিমত ক্ষুব্ধ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্যুইট করেন৷ তিনি জানান, চিনকে হাতে-নাতে ধরে ফেলেছেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, উত্তর কোরিয়াকে তেল পাঠাতে থাকলে কোনোদিনই সমস্যার সমাধান হবে না।

গত সপ্তাহেই রাষ্ট্রসংঘে উত্তর কোরিয়ার উপর এই নয়া নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। যার মধ্যে পিয়ংইয়ং-কে ৯০ শতাংশ পেট্রোল পাঠানো বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উত্তর কোরিয়ার ব্যালিস্টিক মিসাইল তৈরি ও পরীক্ষার প্রবণতা কমানোর জন্যই এমন কড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপরই জানা যায়, গোপনে চিন উত্তর কোরিয়ার ভেসেলে তেল পাঠাচ্ছে।