মস্কোঃ  গত কয়েকদিন আগে প্রবল বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে রাশিয়ার সামরিক ঘাঁটির অস্ত্র গুদাম। কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই রাশিয়ার সাইবেরিয়া অঞ্চলে একটি অস্ত্র গুদামে একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটে। আচিনস্ক্ শহরের কাছে বিস্ফোরণের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত দুজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহত দুজনেই সামরিক বিশেষজ্ঞ বলে রাশিয়ার একাধিক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, বিস্ফোরণে সাধারণ এবং সামরিক বাহিনীর আরও ছয়জন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

অন্যদিকে, এই ঘটনার পরেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ওই সামরিক ঘাঁটির আশপাশের গ্রামগুলি থেকে কয়েক হাজার বাসিন্দাকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। জানা গিয়েছে, ওই অস্ত্র গুদামটিতে লাখখানেক কামানোর গোলা ছিল বলে জানা গিয়েছে। ফলে দিন থেকে রাত একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় ওই অস্ত্র গুদামে। প্রথমদিকে কীভাবে এই বিস্ফোরণ তা বোঝা যায়নি।

তবে তদন্তে জানা গিয়েছে যে, একটি রকেট ইঞ্জিন পরীক্ষা করতে গিয়ে প্রবল এই বিস্ফোরণ ঘটে। যদিও পরীক্ষাগারটির নাম জানানো হয়নি। তবে ওই পরীক্ষাগারে রাশিয়ার পারমাণবিক সাবমেরিনের জন্য ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করা হয়।

বিবিসি জানাচ্ছে, সামরিক ঘাঁটিটির চারপাশে ২০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে থাকা সব লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া হয়। প্রায় তিন হাজার লোককে সরিয়ে নেওয়া হয়। ঘটনার পরেই ক্রিসনাইয়াস্ক শহরের পশ্চিমের ওই এলাকায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়। নিকটবর্তী একটি সামার ক্যাম্পে থাকা শিশুদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার পরেই সামরিক ঘাঁটির সেনা সদস্যরা বোম্ব শেল্টারে আশ্রয় নেয় বলে জানাচ্ছে ওই সংবাদমাধ্যম। সম্প্রতি সাইবেরিয়ায় ভয়ঙ্কর গরম আবহাওয়া। সে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বইছে গরম লু।

এই পরিস্থিতিতে সেখানে যে এলাকাগুলোতে বড় ধরনের দাবানল দেখা দিয়েছে তার মধ্যে ক্রিসনাইয়াস্ক অঞ্চলও রয়েছে। তবে যে অঞ্চলগুলোতে দাবানলের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি সেগুলো বিস্ফোরণস্থলের উত্তরপূর্বে কয়েক কিলোমিটার দূরে বলে জানা গিয়েছে। রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীগুলোর অর্ডন্যান্স নেটওয়ার্কের মধ্যে আচিনস্কের অস্ত্র গুদামটি সবচেয়ে পুরনোগুলোর মধ্যে একটি। ২০২২ সালের মধ্যে এই অস্ত্র গুদামটি ভেঙে ফেলার কথা রয়েছে বলে রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রকের বলে জানানো হয়।