নয়াদিল্লি : করোনার সংক্রমণে লাগাম টানতে এবার রাশিয়া থেকে ভারতে আসছে প্রায় ৫০ মিলিয়ন রাশিয়ান করোনার ভ্যাকসিন স্পুটনিক-ভি। করোনাকে প্রতিহত করতে এবং আরও ভালোভাবে দ্রুত টিকাকরণ চালিয়ে যেতে স্পুটনিক- ভি এর ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় বিশেষজ্ঞ দল। সোমবার এই ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।

জানা গিয়েছে, চলতি গ্রীষ্মের মধ্যেই ভারতে চলে আসবে প্রায় ৫০ মিলিয়ন করোনা ভ্যাকসিনের ডোজ স্পুটনিক -ভি। কেন্দ্রীয় বিশেষজ্ঞ দলের অনুমোদনের পর এই টিকা প্রদানের ছাড়পত্র দেবে ‘ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অফ ইন্ডিয়া’। তারপরই বাজারজাত করা হবে রাশিয়ার এই ভ্যাকসিন। যদিও এর আগেও করোনার প্রতিষেধক হিসেবে টিকা প্রদানের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় বিশেষজ্ঞ দলের সুপারিশের পরই ডিসিজিআই তা ব্যবহারের ছাড়পত্র দিয়েছে।

এই বিষয়ে মঙ্গলবার রাশিয়ান ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের (RDIF) তরফে একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, আশা করা যায়, চলতি গ্রীষ্মের মরশুমে করোনার প্রতিষেধক হিসেবে ভারতকে ৫০ মিলিয়ন স্পুটনিক- ভি এর ডোজ সরবরাহ করা হবে। শুধু তাই নয়, ডিসিজিআই – এর অনুমোদনের পর ডঃ রেড্ডির ল্যাবে স্পুটনিক- ভি এর তৃতীয় দফার ট্রায়াল দেওয়া হবে। যাতে জরুরি ভিত্তিতে এই ভ্যাকসিন ব্যবহার করা যায়।

এই বিষয়ে আরডিএফের সিইও কিরিল দিমিত্রিভ একটি ভার্চুয়াল প্রেস কনফারেন্সে বলেছেন, ” করোনাকে বাগে আনতে পাঁচটি ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থার সঙ্গে রাশিয়ান ফার্মের চুক্তি রয়েছে। তাঁরা প্রয়োজনে আরও বেশ কিছু সংস্থার সঙ্গে ভ্যাকসিন সরবরাহের জন্য চুক্তিবদ্ধ হতে ইচ্ছুক। তিনি আরও বলেন , স্পুটনিক-ভি একটি ভারতীয়-রাশিয়ান ভ্যাকসিন। কারণ স্পুটনিক ভি এর প্রচুর উৎপাদন ভারতে করা হবে। তিনি বলেন, ” করোনার দাপট ঠেকাতে ভারতে একমাসে ৫০ মিলিয়ন বা তার বেশি স্পুটনিক- ভি প্রস্তুত করা যাবে। যদিও বেশকিছু ভারতীয় সংস্থা ইতিমধ্যে ভ্যাক্সিন তৈরির কাজ শুরু করে দিয়েছে।

অন্যদিকে, মডার্না ও ফাইজ়ারের পর বিশ্বের সবচেয়ে কার্যকরী করোনা টিকা হল স্পুটনিক-ভি। বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে করোনা রুখতে রাশিয়ান ভ্যাকসিন স্পুটনিক ৯১.৬ শতাংশ কার্যকরী। ভারতে তৃতীয় দফার ট্রায়াল চলাকালীনই ১৯ ফেব্রুয়ারি আপদকালীন অনুমোদনের আবেদন করেছিল স্পুটনিক। ইতিমধ্যেই বিশ্বের একাধিক দেশে অনুমোদন পেয়েছে রাশিয়ার এই করোনার টিকা। ভারতে ১৮ থেকে ৯৯ বছর বয়সী ১ হাজার ৬০০ জনের ওপর ট্রায়াল চালিয়েছে ডঃ রেড্ডির ল্যাব। রাশিয়ার গামালেয়া ইনস্টিটিউটের তৈরি এই ভ্যাকসিন বিশ্ব বাজারে প্রতি ডোজ় ১০ ডলার অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৭৫১ টাকায় পাওয়া যায় এই টিকা।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ডঃ রেড্ডি এবং আরডিআইডিএফ স্পুটনিক-ভি এর ক্লিনিকাল ট্রায়ালের জন্য গামেলিয়া ন্যাশনাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট অফ এপিডেমিওলজি অ্যান্ড মাইক্রোবায়োলজি সংস্থার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিল। সেই সময় ভারতে ১০০ মিলিয়ন স্পুটনিক-ভি সরবরাহের কথা বলা হয়েছিল। যদিও পরে তা ১৫০ মিলিয়ন করা হয়।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.