মস্কো : প্রথম করোনা ভ্যাকসিনের ঘোষণা করল রাশিয়া। সারা বিশ্বের নজর ছিল এই ভ্যাকসিনের ওপর। অবশেষে বহুল প্রতিক্ষিত মুহুর্ত। মারণ করোনার ভ্যাকসিন বাজারে আসা এখন সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করা হচ্ছে। ভ্যাকসিন তৈরির দৌড়ে প্রথম রাশিয়ার ভ্যাকসিনের কার্যকারীতা নিয়ে অবশ্য অনেক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

তবে রাশিয়ার দাবি তাঁদের তৈরি ভ্যাকসিন সম্পূর্ণ নিরাপদ। সামান্য কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রয়া ছাড়া কোনও সমস্যা নেই তাদের ভ্যাকসিনে। বুধবার এই ভ্যাকসিনের সরকারি রেজিস্ট্রেশনের ঘোষণা করেন রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্রাদিমির পুতিন। রাশিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রক আগেই জানিয়েছিল যে এই ভ্যাকসিন বিশ্বে সাড়া ফেলবে। উপকার হবে সাধারণ মানুষের। কিন্তু কীভাবে কাজ করবে এই ভ্যাকসিন ।

এই সম্পর্কে মস্কোর গ্যামলিয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর আলেকজান্ডার গিন্টসবার্গ জানান, এই ভ্যাকসিন কিছু জড় বা নিষ্প্রাণ পার্টিকলস তৈরি করবে। শরীরের অ্যাডিনো ভাইরাসের উপস্থিতির প্রেক্ষিতে এগুলো তৈরি হবে। সেখান থেকেই তৈরি হবে করোনা ভাইরাসের মোকাবিলা করার মত অ্যান্টি বডি। এখনও পর্যন্ত এই ভ্যাকসিনের কোনও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি বলে গ্যামলিয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউট জানাচ্ছে।

মস্কোর তরফ থেকে পরিকল্পনা করা হয়েছে যে, অক্টোবরেই ভ্যাক্সিন দেওয়া হবে। মাস ভ্যাক্সিনেশন অর্থাৎ বহু মানুষকে একসঙ্গে ভ্যাক্সিন দেওয়ার পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে। গ্যামলিয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বিবৃতি জানাচ্ছে ভ্যাকসিনটি শরীরে প্রবেশ করার পর সাধারণত জ্বর আসতে পারে।

কারণ এটি শক্তিশালী অ্যান্টিবডি তৈরি করতে কাজ শুরু করবে। গবেষকদের বক্তব্য সাধারণ প্যারাসিটামল খেলেই এই জ্বর নিরাময় হবে। এরজন্য অতিরিক্ত চিন্তাভাবনার প্রয়োজন নেই। একমাত্র এই পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াই দেখা গিয়েছে এই ভ্যাকসিনটির, যা বেশ সাধারণ উপসর্গ কোনও ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রে। আলেকজান্ডার গিন্টসবার্গ জানাচ্ছেন তিনি নিজে ও তাঁর সংস্থার গবেষকরা প্রথম এই ভ্যাকসিন নেবেন। তারপর তা বাজারে ছাড়া হবে।

রাশিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী মিখাইল মুরাস্কো আগেই জানিয়েছিলেন, যে স্বাস্থ্যকর্মীরা নিজেরা আগে এই ভ্যাকসিন শরীরে প্রয়োগ করবে। তারপর মাস ভ্যাকসিনেশনের কাজ শুরু করবে সরকার। তবে রাশিয়ার তৈরি ভ্যাকসিন নিয়ে বেশ প্রশ্ন রয়েছে বিশ্বে।

বিশ্বের তাবড় বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, হিউম্যান ট্রায়ালের সম্পূর্ণ ডেটা ছাড়া কোনও ভ্যাকসিনকে বিশ্বাস করা উচিৎ নয়। রাশিয়ান ভ্যাকসিনের গুনগতমান ও সুরক্ষা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করল জার্মানি। পাশাপাশি মনে করিয়ে দেওয়া হল, সম্পূর্ণ ক্লিনিকাল ট্রায়ালের পরেই ইউরোপীয় ইউনিয়নে ড্রাগের অনুমোদন দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, রাশিয়ার এই চটজলদি করোনার ভ্যাকসিন নিয়ে আসাকে অনেকেই সন্দেহের চোখে দেখছেন। যদিও খোদ পুতিন জানিয়েছেন, তাঁর মেয়ে এই টিকা নিয়েছেন, তবুও বেশিরভাগ দেশই চাইছেন ট্রায়াল দিয়ে তারপরেই ভ্যাকসিন নিতে। হু জানিয়েছে, ভ্যাকসিনের ব্যাপারে তাঁরা রাশিয়ার সঙ্গে কথা বলবে।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও