মস্কো-ওয়াশিংটনঃ  আমেরিকা এবং রাশিয়ার মধ্যে গত কয়েক বছর যাবত অশান্তি চলছে। রাশিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকায় ক্রমশ সেনা সাজাচ্ছে মার্কিন সামরিক জোট ন্যাটো। এই অবস্থায় মাঝ আকাশে মার্কিন যুদ্ধবিমানকে আটকে দিল রাশিয়ার যুদ্ধবিমান। মাঝ আকাশে দুই শক্তিধর দেশের যুদ্ধবিমানের দাদাগিরিতে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ইতিমধ্যে মার্কিন এয়ারফোর্সের এহেন উস্কানিতে বিপদজনক বলে মন্তব্য করেছে রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রক।

মাঝ আকাশে কার্যত যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়া নিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছে রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রক। সেই বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, বাল্টিক সাগরের আকাশে আমেরিকা ও সুইডেনের দুটি গোয়েন্দা বিমানকে বাধা দিয়েছে রাশিয়ার এসইউ-২৭ বোমারু বিমান। মন্ত্রকের তরফে বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে যে, গত ১০ জুন রাশিয়ার বিমান প্রতিরক্ষা বিভাগ বাল্টিক সাগরের আকাশে দুটি বিমান শণাক্ত করে। যারা একেবারে রুশ সীমান্তের গা ঘেঁষে উড়ে যাচ্ছিল। আর তা দেখেই রাশিয়ার বোমারু বিমান সেগুলির দিকে ধেয়ে যায়।

আর এই অবস্থায় রাশিয়ার একটি এসইউ-২৭ বিমান আমেরিকা এবং সুইডেনের গোয়েন্দা বিমান দুটিকে নিরাপদ দূরত্বে থেকে বাধা দেয়। আমেরিকার পক্ষে মার্কিন বিমান বাহিনীর আরসি-১৩৫ বিমান ও সুইডেনের গাল্ফস্ট্রিম গোয়েন্দা বিমান রুশ সীমান্তের পাশ দিয়ে উড়ছিল বলে জানানো হয়েছে রুশ প্রতিরক্ষা দফতরের দেওয়া বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

রুশ সীমান্ত ঘেঁষে মার্কিন যুদ্ধবিমানের ওড়ার বিষয়টি ইতিমধ্যে স্বীকার করে নিয়েছে আমেরিকা। মার্কিন সেনাবাহিনীর এক আধিকারিক জানিয়েছেন, রুশ যুদ্ধবিমানের বাধা ছিল নিরাপদ ও পেশাদার। তবে আরেক মার্কিন সেনাবাহিনীর আধিকারিক দাবি করেন, মার্কিন আরসি-১৩৫ বিমানটি নিয়মিত মিশনে বাল্টিক সাগরের আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় উড়ছিল। কোনও সীমা লঙ্ঘন করে তারা। কিন্তু মার্কিন ওই বিমানটিকে রুশ ফেডারেশনের এসইউ-২৭ বিমান বাধা দেয়। যা ঠিক হয়নি বলে দাবি মার্কিন ওই আধিকারিকের।

যদিও এমন ঘটনা নতুন কিছু না। মাঝে মধ্যেই এভাবে আকাশে কাছাকাছি চলে আসে আমেরিকা এবং রাশিয়ার যুদ্ধবিমান। গত মাসখানেক আগেও একইভাবে মাঝ আকাশে মুখোমুখি চলে আসে আমেরিকা এবং রাশিয়ার যুদ্ধবিমান। কোনও রকমে মাঝ আকাশে সংঘর্ষ এড়ায় দুদেশের যুদ্ধবিমান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই এবার বাল্টিক সাগরের উপরে কার্যত সংঘর্ষ এড়াল দুই শক্তিধর দেশের যুদ্ধবিমান।