নয়াদিল্লি: এবার রাশিয়ার তৈরি করোনার ভ্যাকসিন এদেশে পরীক্ষায় ছাড়পত্র দিল ভারত সরকার। শনিবারই একথা জানানো হয়েছে রাশিয়ার তরফে। রাশিয়ার ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড ও ভারতের ডক্টর রেড্ডি’জ ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড রাশিয়ার তৈরি করোনার ভ্যাকসিনের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ চালাবে।

শুরুতে রাশিয়ার করোনা ভ্যাকসিন ‘স্পুটনিক’-এর এদেশে ব্যাপক হারে পরীক্ষায় ছাড় দিতে চায়নি সেন্ট্রাল ড্রাগস স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন। তবে শনিবার রাশিয়াকে তাদের তৈরি ভ্যাকসিনের পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন দিয়েছে ভারত সরকার।

জানা গিয়েছে, ভারতীয় সংস্থা ডক্টর রেড্ডিজকে সঙ্গে নিয়ে এদেশে রাশিয়ার ‘স্পুটনিক’ ভ্যাকসিনের পরীক্ষা চলবে। হাজার দেড়েক স্বেচ্ছাসেবকের উপর এই ভ্যাকসিন প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

গোটা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়ে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে করোনার ভ্যাকসিন আবিস্কারের ঘোষণা করে রাশিয়া। ইতিমধ্যেই বিশ্বের কুড়িটিরও বেশি দেশ রাশিয়ার থেকে ভ্যাকসিন সংগ্রহের জন্য যোগাযোগ করেছে। ভেনেজুয়েলা এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির কাছ থেকে সরকারি অনুমোদন পেয়ে গিয়েছে পুতিনের দেশ। যদিও রাশিয়ার তৈরি করোনার ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে ভারত-সহ বিশ্বের একাধিক দেশের।

এদিকে, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের তৈরি করোনার ভ্যাকসিন ভারতে বানাচ্ছে পুণের সেরাম ইন্সটিটিউট। সেরামের দাবি, ভ্যাকসিন আসতে আর খুব বেশি দেরি নেই।

সংস্থার এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ড. সুরেশ যাদব জানিয়েছেন, ২০২১-এর মার্চ মাসের মধ্যেই ভ্যাক্সিন বাজারে এসে যাবে। ডিসেম্বরের মধ্যেই ২০০ থেকে ৩০০ মিলিয়ন ভ্যাক্সিনের ডোজ পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন তিনি। ডিজিসিআই একবার অনুমোদন দিলেই ভ্যাকসিন সম্পূর্ণ রেডি হয়ে যাবে বলেও জানিয়েছেন সেরামের ওই কর্তা।

সেরামের কর্ণধার জানান, ট্রায়াল বন্ধ রাখা হয়েছিল কয়েক সপ্তাহ। আরও বেশি স্বচ্ছতা রাখার জন্য সময়ও নেওয়া হয়েছে। ডিসেম্বরের শেষেই ফেজ থ্রি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ডেটা ডিজিসিআই-কে দেওয়া হবে বলেও জানা গিয়েছে। ডিজিসিআই সন্তুষ্ট হলে এক মাসের মধ্যে এমার্জেন্সি লাইসেন্স দেওয়া হবে। এরপর ‘হু’-র কাছে যাওয়া হবে। এরপর পর আন্তর্জাতিক সংগঠন Gavi ওই ভ্যাক্সিন কিনে নেবে, যাতে সবাইকে সমানভাবে ভ্যাক্সিন দেওয়া যায়।

আগামী বছরের শুরুতেই নোভেল করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন দেশের বাজারে এসে যাবে বলে মনে করছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধনও। ইতিমধ্যেই আমেরিকা, ব্রিটেন-সহ বিশ্বের প্রথম সারির একাধিক দেশ করোনার ভ্যাকসিন বানাচ্ছে। করোনার ভ্যাকসিন তৈরির কাজ চলছে ভারতেও। ভারত বায়োটেক, জাইডাস ক্যাডিলা-সহ বেশ কয়েকটি সংস্থা করোনার ভ্যাকসিন তৈরি করছে।

সপ্তম পর্বের দশভূজা লুভা নাহিদ চৌধুরী।