মস্কো: বিশ্ব প্রতীক্ষায়। রাশিয়া থেকে আসবে নাকি সুখবর। মরণ মিছিলে লাখ লাখ মানুষের ঘাতক অদৃশ্য করোনার যম Avifavir প্রয়োগ শুরু হয়েছে। এই প্রতিষেধকের পরীক্ষামূলক ফলাফলে বলা হয়েছিল, ১০০ জনের মধ্য অন্তত ৬৪ জনের দেহে করোনার আর অস্তিত্ব মেলেনি। রাশিয়া থেকে সেই বার্তা ছড়িয়ে পড়তেই বিশ্বজুড়ে নেমেছিল স্বস্তি। তাহলে আছে কিছু উপায়।

তবে রুশ সরকার জানায় Avifavir নিয়ে পরীক্ষা সফল হলেও এর সুফল বিপুল সংখ্যক রোগীদের উপর প্রয়োগ করেই মিলবে। রুশ সংবাদ সংস্থা তাস জানাচ্ছে, Avifavir প্রয়োগ শুরু হয়েছে দেশ জুড়েই। আর কয়েকদিনের মধ্যে আসল চিত্র প্রকাশ পাবে। ফলে আরও কিছু রুদ্ধশ্বাস প্রহরের অপেক্ষা করতেই হবে। এদিকে ওয়ার্ল্ডোমিটারের পরিসংখ্যান উদ্বেগজনক। রাশিয়ায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৫ লক্ষ ২৮ হাজারের বেশি।

মৃতের সংখ্যা ৬,৯০০ জনের অধিক। এই অহস্থায় হাজার হাজার করোনা রোগীর দেহে Avifavir প্রয়োগ করা হচ্ছে। রুশ স্বাস্থ্য মন্ত্রকের খবর, সব হাসপাতাল, চিকিৎসা কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে প্রতিষেধকটি।

আগেই রাশিয়া সরকার জানিয়েছে, পরীক্ষামূলক সফলতার পর প্রাথমিক প্রয়োগে সেই সফলতা বজায় থাকলে সব দেশকেই Avifavir তৈরির সূত্র জানিয়ে দেওয়া হবে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার খবর, রাশিয়ার তরফে এমন বার্তার পিছনে রয়েছে একটি ইঙ্গিত। কারণ, করোনার টিকা বা ওষুধের দাবি আমেরিকা, ইংল্যান্ড, জাপান করলেও কোনও দেশই প্রতিষেধকের ফর্মুলা জানিয়ে দেবে এমন দাবি করেনি।

এদিকে ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারে যে টিকা তৈরি হয়েছে তাকে ঘিরেও চর্চা তুঙ্গে। এই টিকা ইংল্যান্ড, আমেরিকা, ব্রাজিলে মোট ৪২ হাজার জনের দেহে প্রয়োগ করা হবে। তবে ওষুধের সূত্র থাকবে কেবলমাত্র সে দেশের হাতেই। আর রাশিয়া গতবছর ডিসেম্বর মাসে চিনে ধরা পড়ে করোনাভাইরাস।

তারপর এটি বিশ্ব মহামারির আকার নিয়েছে। চিনের প্রতিবেশী হলেও রুশ সরকার প্রথম দিকে করোনা সংক্রমণ রুখতে বিরাট সাফল্য পায়। পরে রাশিয়াতেই সর্বাধিক করোনা সংক্রমণ হচ্ছে। Avifavir কি এই মৃত্যুর দূত করোনাকে রুখে দেবে, বিশ্ব জুড়েই ঘুরছে এই প্রশ্ন।

সপ্তম পর্বের দশভূজা লুভা নাহিদ চৌধুরী।