নয়াদিল্লি : রাশিয়া যদি ভারত ও চিনের সম্পর্ক উন্নত করতে ইচ্ছুক হয়, তবে যেন ভারতের হাতে কোনও অস্ত্র তুলে দেওয়া না হয়। এমনই সতর্কবার্তা প্রকাশ করল চিনের স্টেট মিডিয়া। মঙ্গলবার এই বার্তা পোস্ট করা হয়েছে ২৫০০ ফলোয়ার গ্রুপের একটি ফেসবুক পেজে। এই পেজটি পিপলস ডেলি চায়নার অফিসিয়াল পেজ বলে জানা গিয়েছে।

উল্লেখ্য, প্রতিবছর ২৪ জুন ‘Victory Day Parade’ হয় মস্কোয়। ওই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে উপস্থিত হন ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। আমন্ত্রিত হিসেবে উপস্থিত থাকবেন চিনের প্রতিরক্ষামন্ত্রীও। এই সফরেই রাশিয়াকে মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম দ্রুত দেওয়ার কথা জানাবে ভারত। ২০১৮ সালের অক্টোবরে মস্কোর সঙ্গে ৫৪৩ কোটি মার্কিন ডলারের চুক্তি করেছিল দিল্লি।

গত ফেব্রুয়ারিতে ‘ফেডারেল সার্ভিস অফ মিলিটারি টেকনিক্যাল কার্পোরেশন অফ রাশিয়া’র ডেপুটি ডিরেক্টর ভ্লাদিমির দ্রঝভ জানিয়েছিলেন, ২০২১ সালের মধ্যেই প্রথম এস-৪০০ সিস্টেম হাতে পাবে ভারত। তবে উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে নাকি তার আগেই তা ভারতে পাঠানোর অনুরোধ জানানো হবে রাশিয়াকে। একইসঙ্গে ফাইটার জেট (Su-30 ও Mig-29), নৌসেনার জন্য যুদ্ধজাহাজ, সাবমেরিন এবং টি-৯০ যুদ্ধ ট্যাঙ্কেরও দ্রুত সরবরাহের দাবি জানানো হবে। এতেই স্পষ্ট, যে কোনও পরিস্থিতির জন্য তিন বাহিনীকেই তৈরি রাখতে চাইছে ভারত।

এই চুক্তির জেরে কি তাহলে ভয় পাচ্ছে বেজিং, প্রশ্ন উঠছে। নয়তো রাজনাথের রাশিয়া সফরের মধ্যেই তড়িঘড়ি এই ফেসবুক পোস্ট কেন করা হল। রাশিয়াকে উদ্দেশ্য করে চিনের স্পষ্ট বার্তা ভারতের হাতে কোনওভাবেই যেন সমরাস্ত্র তুলে দেওয়া না হয়। এতে ভারত চিন সম্পর্কের অবনতি হওয়ারই আশঙ্কা করছে বেজিং।

সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চিনের চারটি সংবাদমাধ্যমকে রাষ্ট্র দ্বারা নিয়ন্ত্রিত বলে ব্যাখ্যা করেছে। এরমধ্যে পিপলস ডেইলি রয়েছে। বাকি তিনটি হল দ্যা গ্লোবাল টাইমস, চায়না সেন্ট্রাল টেলিভিশন ও চায়না নিউজ সার্ভিস। ফলে পিপলস ডেইলিতে প্রকাশিত কোনও তথ্য যে চিন সরকারেই বক্তব্য তা বুঝতে অসুবিধা হয় না।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ