কলকাতা:  বলা হচ্ছে, বাংলায় ব্যান্ড কালচার ফুরিয়ে এসেছে। আগের মতো সেই দাপট আজ নেই। যেখানে মানুষের বিদ্রোহের বুলি, সুখ-দুঃখ-প্রেমের কথা গিটারের টিউন ছিঁড়ে পৌঁছে যেত বাঙালির অন্দর মহলে। তবে ধূমকেতুর মতো মাঝে মাঝে তাঁদের মনে করিয়ে দেয় আমারা ছিলাম, আছি এবং থাকব। সম্প্রতি এমনটাই করছেন রূপম ইসলাম।

দিন কুড়ি আগে বোমা-বিধ্বস্ত সিরিয়ার একটি ছবি দেখে গোটা বিশ্ব স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিল। হয়। কমলা রঙের চেয়ারে বসে আবেগহীন মুখে সামনের দিকে তাকিয়ে বছর পাঁচের ওমরান দাকনিশ। তাকে প্রথমবার দেখেই চমকে ওঠেন রূপম। গান বাঁধেন ওমরানকে নিয়ে। যা তিনি পোস্ট করেছেন নিজের ফেসবুক পেজে।

রকস্টারের কথায়, কমলা রঙের আসনে তুলে এনে বসিয়ে দেওয়া যুদ্ধ-বিধ্বস্ত শিশুটির ভিডিও দেখে স্তব্ধ হয়ে রইলাম কিছুক্ষণ। তারপর অজান্তেই লিখতে শুরু করলাম…
“মৃত্যু পেরনো জন্ম-গান, ছোট্ট শিশুটি বোঝেনি কিছুই…..”

একটা কথা না বললেই নয়। মনে করা হয়, কষ্ট পেলে তবে নাকি কোনও কিছুর সৃষ্টি হয়। কিন্তু রূপম বলেন, এটা তাঁর নাকি বদভ্যাস। তাইতো সোশ্যাল মিডিয়ায় রূপম এই গানের কমেন্ট বক্সে লিখেছেন,  এ আমার এক বদভ্যাস! কিন্তু কী করব? যে ঘটনা যে উপলব্ধি যে অভিজ্ঞতা যে পরোক্ষ শিক্ষা যে প্রচলিত সংস্কার (এবং তাকে ভেঙে বেরনোর ইচ্ছে) যে মতাদর্শ যে শব্দবন্ধ যে প্রবাদ (নীতি-শুদ্ধ বা অনৈতিক যাই হোক না কেন) মনকে নাড়া দেয় ভাল বা বাজে ভাবে, আমায় কলম তুলে নিতেই হয়। তাকে গ্রহণ করতেই হয়। (তাই বলে এই নয়, আমি সব নিয়েই লিখি। মূলত এর জন্য দায়ী সময় পাওয়া বা না পাওয়া। নইলে সব নিয়ে লিখতে পারি বৈকি।) নীতিবাগীশ কেউ বলবেন এই ক্ষেত্রে: এই শিশুটিকে বিন্দুমাত্র সাহায্য না করতে পেরে, শুধুমাত্র তাকে একটা নতুন লেখার বিষয় করে কি আমি চূড়ান্ত অন্যায় করেছি? হ্যাঁ করেছি! প্রচলিত ‘অনৈতিক’ শব্দ বন্ধ ব্যবহারের থেকেও এ অন্যায় বড়। কেউ না বলুক, আমিই বলছি। এই গীতিকবিতার প্রকাশ ধরে নিন আমার একটা জঘন্য খারাপ প্রবৃত্তির উন্মোচন, একটা লজ্জা-উদ্ধত কনফেশন!

কিন্তু কবিরা কি কোনও কালেই ভাল ছিল? আমার মনে হয় না। উল্টো স্রোতে না ভাসলে, সমাজের বিধিবদ্ধ সনাতনী ‘সব ভাল যুগের’ গুডি গুডি মতের নিরিখে ‘দুশ্চরিত্র’ না হলে কবি হওয়া যায় না।
এই কবিগানে আমার চেনা যা খুশি বলে যাও আমি কিচ্ছু মানছি না আমি বিশ্বাস করি আমার বিশ্বাসে মন্ত্রে দীক্ষিত দাপুটে কবি ধরতে চাইছে এক চঞ্চল শিশুর হাত, যার চঞ্চলতা এখন খানিকক্ষণের জন্য বিশ্রাম মোডে।