ঢাকা: কোথাও লেখা হয়েছে এক লক্ষ শিশুর মাথা লাগবে৷ কোথাও বলা হয়েছে হাজার মানুষের মাথা কেটে নিয়ে বিশেষভাবে পুঁতে দেওয়া হয়েছে, শতাধিক মানুষের মাথা কাটা হয়েছে৷ সেই মাথা নির্মীয়মাণ পদ্মা সেতুর স্তম্ভ তৈরির ভিত করতে রাখা হয়েছে৷ এই ধরণের মারাত্মক গুজব ক্রমে বিরাট আকার নিল বাংলাদেশে৷

একাধিক ফেসবুক ও হোয়াটস অ্যাপে গ্রুপে ছড়িয়ে পড়েছে ভয়ঙ্কর ছবি৷ রীতিমতো ফটোশপের কারিকুরিতে তৈরি এই ছবি এক শ্রেণির মানুষের মধ্যে ভীতি সঞ্চার করেছে৷ গুজব আরও ছড়িয়ে হাজার খানেক মানুষের নিখোঁজ বলেই রটানো হচ্ছে৷

পরিস্থিতি এমন যে সোশ্যাল সাইট জুড়ে এই গুজবের রমরমা৷ সেটা আরও ছড়িয়ে পড়ছে৷ এর জেরে তৈরি হওয়া আতঙ্ক রুখতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে পুলিশ৷ বারে বারে এটিকে গুজব বলে পাল্টা প্রচার চালানো হলেও আতঙ্কের সেই ভুয়ো পোস্টার দেওয়া ছবি ও বিবরণ আটকানো সম্ভবই হচ্ছে না৷

বাংলাদেশ পুলিশের আইটি সেল ও সাইবার নিরাপত্তা বিভাগ সক্রিয় হয়৷ ঢাকা, সাতক্ষীরা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও বিভিন্ন এলাকা থেকে এমন গুজব ছড়ানোর অভিযোগে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়৷ জানা গিয়েছে ধৃতদের কয়েকজন জামাত ইসলামির শাখা সংগঠন ইসলামি ছাত্র শিবিরের সক্রিয় সদস্য৷

মঙ্গলবার চট্টগ্রামের বাসিন্দাদের মোবাইলে একের পর এক নোটিফিকেশেন আসতে থাকে৷ তাতে দেখা যায় বিশেষ এক ধরণের ফেসবুক পেজে লেখা হয়েছে, -‘পদ্মা সেতু তৈরি করতে ১ লাখ শিশুর মাথা লাগবে। পুলিশ ও আওয়ামী লীগের লোকজন দেশের বিভিন্ন জায়গায় শিশুদের গুম করে মাথা কেটে নিচ্ছে। কাজেই আপনার বাচ্চাকে ঘর থেকে বের হতে দিবেন না। স্কুল, মাদ্রাসা, খেলার মাঠ কোথাও না। আর আপনি মুসলমান হলে মেসেজটি আরো ১০ জনের কাছে পাঠিয়ে দিন।’

এর জেরে ক্ষোভ তৈরি হয়৷ আবার কিছু অভিভাবক রীতিমতো আতঙ্কিত হন৷ খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গুজবটি চট্টগ্রামের কমবেশি প্রায় সব জায়গায় ছড়িয়েছে। অনেকে বাচ্চাদেরকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠানো থেকে শুরু করে বাইরে খেলাধুলা ও করতে দিচ্ছেন না ।

পদ্মা সেতু বাংলাদেশের পদ্মা নদীর উপর নির্মাণাধীন একটি বহুমুখী সড়ক ও রেল সেতু। এর মাধ্যমে লৌহজং, মুন্সিগঞ্জের সাথে শরিয়তপুর ও মাদারীপুর যুক্ত হবে, ফলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের সাথে উত্তর-পূর্ব অংশের সংযোগ ঘটবে। বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশের জন্য পদ্মা সেতু হতে যাচ্ছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জিং প্রকল্প।