স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে তৈরি হচ্ছে ন্যাশনলিস্ট তৃণমূল কংগ্রেস পার্টি! নিছকই গুজব নাকি পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে শাসক দলের নতুন রাজনৈতিক কৌশল, তা নিয়ে ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা৷ তবে বিষয়টি নিয়ে খুব একটা চিন্তিত নয় বিরোধীরা৷ অতীতের শিক্ষা নিয়ে সাবধানী মন্তব্য সিপিএমের৷ এদিকে কিছু বলার সময় এখনই নয় বলেও মন্তব্য বিজেপির৷

আরও পড়ুন: চলতি মাসেই বিধানসভায় নিশ্চিহ্ন তৃণমূল কংগ্রেস

ন্যাশনালিস্ট তৃণমূল কংগ্রেস পার্টি নিয়ে জল্পনা বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন কিছু নয়৷ নির্বাচন কমিশনের কাছে ২০১৫তে নতুন দলের নাম নথিভুক্ত আগেই করিয়ে রেখেছেন মুকুল রায়৷ শাসক দল ভাঙছে দেখে ২০১৬ নির্বাচনের মুখে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বাঁধে বামেরা৷ তবে শেষ পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ে ‘মাস্টার স্ট্রোকে’ তৃণমূলেই থেকে যান মুকুল রায়৷ তবে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বেঁধে রাজ্যে ফের একবার ভরাডুবি হয় বামেদের৷ বিধায়কের তালিকা অনুযায়ী রাজ্যে তিন নম্বরে ঠাঁই হয় বামেদের৷ এবার অতীতের সেই শিক্ষা থেকেই এই বিষয়ে এখন থেকে কোনও মন্তব্য করতেই চাইছে না বিরোধীরা৷

আরও পড়ুন: তৃণমূল কংগ্রেসের শহিদ সমাবেশ ঘিরে চরম অব্যবস্থায় নাকাল বর্ধমানবাসী

এ বিষয়ে সিপিএম সাংসদ মহম্মদ সেলিমকে প্রশ্ন করা হলে তাঁর বক্তব্য, দল ভাঙা-গড়া সেতো নিত্য নাটক৷ বিজেপির সঙ্গে গোপনে আঁতাত করে এই সব ফন্দি এঁটেছে তৃণমূল কংগ্রেস৷ একই সঙ্গে শাসকদলের নেতাদের কুমড়ো বলেও কটাক্ষ করেন তিনি৷ সেলিম বলেন, তৃণমূলের বহু নেতার উপরটা সবুজ কিন্তু ভেতরটা কুমড়োর মতো গেরুয়া৷ এ প্রসঙ্গে একটি ছবিও নিজের ট্যুইটারে পোস্ট করেন সেলিম৷ তবে শাসক দলের ভাঙন নিয়ে সেলিম তৃণমূল-বিজেপির গোপন আঁতাতের অভিযোগ করলেও নীরব থাকলেন বিধানসভার বামপরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী৷ এ প্রসঙ্গে কোনও মন্তব্য তিনি করবেন না বলেও এদিন সাফ জানিয়ে দেন তিনি৷

আরও পড়ুন: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ তৃণমূল কংগ্রেসের

এদিকে বিজেপির দাবি শাসকদল ভাঙলে বিরোধীরা একটা বাড়তি রাজনৈতিক সুবিধা পায়৷ এটা অস্বীকারের জায়গা নেই৷ তবে না আঁচালে বিশ্বাস নেই বলে মন্তব্য করেন বিজেপির সাধারণ সম্পাদক রাহুল সিনহা৷ একই সঙ্গে তিনি আরও বলেন, এই মুহূর্তে এটা নিয়ে এখনই কিছু বলার সময় হয়নি৷ ২০১৬ নির্বাচনের আগেও তৃণমূলের এই নাটক সকলে দেখেছে৷

আরও পড়ুন: মমতার প্রচারে এবার ‘বঞ্চিত তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীবৃন্দ’

সুতরাং বিজেপি বা বামেদের কথা থেকে একটা বিষয় পরিষ্কার, ২০১৬তে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে মাস্ট্রার স্ট্রোক দিয়েছিলেন তাতে হালে পানি পায়নি বিরোধীরা৷ আর তাই এবার আগ বাড়িয়ে কোনও মন্তব্য করে সেই পথে কোনও ভাবেই হাঁটবেন না তাঁরা৷ যদিও শাসকদলের অন্দরে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে কম করে ১০ জন সাংসদ ও প্রায় ৬০ জনের মতো বিধায়ককে নিয়ে আলাদা দল তৈরি করতে চলেছেন মুকুল রায়৷ তবে সেই দল বাস্তবাতে রূপ পেলে তবেই এই বিষয়ে কথা বলবেন বিরোধীরা৷ তার আগে একদম নয়!