স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: ইডেনে পিঙ্ক বল টেস্টে টিকিটের হাহাকার তুঙ্গে। সেই হাহাকার থেকে বাদ গেল না ইডেনের উল্টোদিকের বিধানসভাও। বিধায়ক সংখ্যার তুলনায় টিকিট কম পাওয়ার ক্ষুব্ধ হয়েছে শাসক-বিরোধী দুই পক্ষই৷ ঐতিহাসিক ম্যাচের টিকিট না পেয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বয়কট করলেন অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়৷

প্রথমবার নৈশালোকের টেস্ট ম্যাচ খেলতে নামছে ভারত। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ইডেনে এই ঐতিহাসিক টেস্ট ম্যাচ ঘিরে উত্তেজনার পারদ এখন তুঙ্গে। তিলোত্তমায় এখন একটাই রঙ গোলাপি। গঙ্গাবক্ষে পিঙ্ক বোট থেকে মাঠে পিঙ্ক বেলুন, শহরের বহুতল ৪২ থেকে শহীদ মিনার এখন গোলাপি রঙে সেজেছে। ম্যাচের পাঁচদিন এভাবেই রাতের শহর গোলাপি রঙে মায়াবীরূপ নিতে চলেছে। কিন্তু তার তাল কাটল বিধানসভার অন্দরে৷

রাজ্যে বর্তমানে ২৯১ জন বিধায়ক। অথচ বৃহস্পতিবার ক্রীড়া দফতর থেকে বিধানসভায় টিকিট পাঠিয়েছে ২৫০টি। যা নিয়ে ক্ষোভ দেখা গেল বিধায়কদের মধ্যেই। জানা গিয়েছে, কম টিকিট দেখে টিকিট ফেরত দিয়ে দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান৷ এমনকি টিকিট না পেয়ে নিজের ক্ষোভের কথা জানিয়েছেন অধ্যক্ষ৷

এক সংবাদমাধ্যমে তিনি বলেছেন, “টিকিট না পাঠিয়ে যেভাবে রাজ্য বিধানসভাকে অপমান করা হল তা কোন মতেই মেনে নেওয়া যায় না। আমার বিধায়করা খেলা দেখতে যাওয়ার টিকিট পায়নি সেই কারণে আমিও উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বয়কট করলাম।”

বৃহস্পতিবার বিধানসভার তৃণমূল পরিষদীয় দলের মুখ্য সচেতক নির্মল ঘোষের অফিস থেকেই সমস্ত বিরোধী দলের নেতাদের টিকিট পাঠানো হয়৷ কংগ্রেস ফিরিয়ে দিলেও বিজেপির ছয় বিধায়কই টিকিট নিয়েছেন৷ এদিন আবদুল মান্নান টিকিট ফিরিয়ে দেওয়ার পর নিজেদের প্যাডে চিঠি লিখে ব্যক্তিগত ভাবে টিকিট সংগ্রহ করেছেন বেলডাঙার বিধায়ক সফিউজামান ও সুতির বিধায়ক হুমায়ুন রেজা। এদিন বাঁকুড়ার বড়জোড়ার সিপিএম বিধায়ক সুজিত চক্রবর্তীকেও টিকিটের জন্য দীর্ঘক্ষণ বসে থাকতে দেখা যায় তৃণমূল পরিষদীয় দলের অফিসে।

শাসক দলের অনেক নেতাও ভীষণ বিরক্ত৷ এক বিধায়ক বক্তব্য, “এত টিকিট গেল কোথায়? সব ব্ল্যাক হচ্ছে নাকি!”