কলকাতা- করোনা মোকাবিলায় সারা দেশজুড়ে চলছে লকডাউন। লকডাউনের চতুর্থ পর্বে কিছু ক্ষেত্র শিথিল হলেও স্তব্ধ প্রায় গোটা দেশই। বন্ধ দেশের সিনেমা হলগুলি। ফের কবে এই সিনেমা হলগুলি খুলবে এবং সেখানে মানুষের ভিড় হবে তার হদিশ কারোর কাছেই নেই। আর এইসবের জন্যই সিঁদুরে মেঘ দেখছেন অভিনেতা অভিনেত্রী থেকে বিনোদন জগতের সঙ্গে যুক্ত সমস্ত কলাকুশলীরা। অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ এই নিয়ে তাঁর ফেসবুকে একটি পোস্ট করেছেন।

রুদ্রনীল লিখছেন, “মুখে কেউ কিছু বলছি না। কিন্তু আমরা আর কতদিন টানতে পারব জানিনা! মানুষের মনোরঞ্জন করে পেট ভরে আমাদের। তাদের মন খারাপ হলে, সে মন একটু ভাল হয় আমাদের কাজ দেখে। তাই আমরা তাদের কাছে ভালবাসার বা প্রিয় হই। তারা আমাদের উপহার দিয়েছেন সম্মান খ্যাতি সব কিছু। সাধারণ থেকে অসাধারণ করে দিয়েছেন তারাই। এ বড় আনন্দের পাওনা। লকডাউনেও আমাদের কাজ দেখে মন হালকা করেছেন গৃহবন্দী প্রায় সবাই। কিন্তু, আমাদের মন?? লকডাউন উঠে গেলেও ভয়ংকর সমস্যায় থাকবে আমাদের সব শিল্পী ও কলাকুশলীদের পেট। আসলে, দিন আনি দিন খাই আমরাও।

মার্চ থেকে আপনাদের মতই আমাদের কারো রোজগার নেই। শুটিং বন্ধ।” করোনা সংকট শুরু হওয়ার পর থেকে কীভাবে বিনোদন জগত থমকে গিয়েছে এবং শিল্পীরা কিভাবে রোজগার হীন হয়ে গিয়েছে সেই চিত্রটি তুলে ধরেছেন রুদ্রনীল। এমনকি লকডাউন পরবর্তী সময়ে তাদের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে যে সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে তাও বুঝিয়েছেন তিনি।

অভিনেতা লিখছেন, “যতদিন না সাধারণ মানুষ আর্থিকভাবে সচ্ছল হচ্ছেন বা করোনা আতংক মন থেকে না কাটাতে পারছেন, ততদিন সিনেমা হলে কেউ যাবেন না,টিকিট কাটবেন না, ফলে টাকা উঠবে কি করে? সুতরাং, প্রোডিউসাররা ততদিন ঝুঁকি নিয়ে কোন ছবি আর বানাবেন না। সুতরাং এই অনিশ্চিত ততদিন আমরা বেকার।

এদিকে টেলিভিশন চলে প্রোডাক্টের বিজ্ঞাপনের ওপর নির্ভর করে। কারখানা বন্ধ, শ্রমিক বেকার,তাই বিজ্ঞাপন থেকে রোজগার বন্ধ টিভি চ্যানেলের। সাথে করোনা চাপে শুটিং বন্ধ। ফলে চালু সিরিয়াল গুলো আসতে আসতে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ টিভির লক্ষ লক্ষ শিল্পী আর কলাকুশলীও বেকার! আরো বাড়বে। কি হবে কেউ জানিনা। আন্দাজ,অন্তত সেপ্টেম্বর অক্টোবর অবধি তো এ চাপ থাকবেই।” লকডাউনের জেরে দৈনন্দিন ভিত্তিতে যাঁরা রোজগার করেন তাঁরা সব থেকে বেশি সমস্যায় পড়েছেন। টলিপাড়ার কয়েকজন তারকা তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছেন।

রুদ্রনীল বলছেন, “আমাদের পি এফ গ্রাচ্যুইটি পেনশান কিছু নেই। পেটে খাবার থাক না থাক হাসিমুখে সেজে গুজে থাকতে হয়, জাস্ট জীবিকার নিয়মে। সব বিত্তের মানুষের সুখে দুঃখে আমরা পাশে দাঁড়াই, আশার কথা বলি! কিন্তু আমাদের হয়ে বলার মানুষ প্রায় নেই। বিনোদনের মানুষদের আবার দুঃখ কষ্ট হয় নাকি?!! ফেসবুকে বা অন্যান্য ঘুরে বেড়ানো ভিডিওগুলো দেখে ভুল ভাববেন না। হাতে কাজ নেই, পেটে রোজগার নেই। যন্ত্রণা ভুলতে আর আপনাদের আনন্দ দিতে বাড়ি বসে এইসব করছি আমরা সবাই। এক টাকাও রোজগার নেই। শুধু আশার বীজ বুনছি।”

এমন স্তব্ধ বিনোদন জগতের যে যে জুনিয়র আর্টিস্ট এবং টেকনিশিয়ানদের অবস্থা আরও সঙ্গীন সেটিও উল্লেখ করেছেন রুদ্রনীল। তিনি লিখছেন, “ছোট আর মাঝারি শিল্পী বা টেকনিশিয়ানরা বাড়িভাড়া দিতে পারছেন না, খাবার টাকা নেই। অধিকাংশ ছেলে মেয়ে কলকাতার বাইরের জেলা গুলো থেকে লড়াই করতে আসে আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে। বিপদে বাড়িও ফিরতে পারেনি। মুড়ি জল খেয়ে ভাড়াবাড়িতে আটকে আছে। বকেয়া টাকা চাইতে গেলে লোকজন পরিস্থিতির দোহাই দিচ্ছে বা ইন্ডাস্ট্রি খুললে পাবে বলছে!!!!মডেলিং বা গ্ল্যামার জগতের সব লোকজনেরও এক হাল! খালি পেট।

কিন্তু প্রকাশ্যে মাথা হেঁট করা যাবে না! জীবিকার নিয়ম। গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ড যে!! কবে এসব দূর হবে জানিনা। অনুরোধ, যদি আপনাদের বাড়িতে বা পাড়ায় এরা ভাড়া থাকেন, সাধ্যমত একটু সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন, তাড়িয়ে দেবেন না!” অভিনেতার এই পোস্ট সোস্যাল মিডিয়ায় মুহূর্তে ভাইরাল হয়। বিনোদন জগতের অন্যান্য শিল্পীরাও তাঁর এই পোষ্টের সমর্থন করেছেন।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প