নয়াদিল্লি: বিতর্ক বাঁধাতে জুড়ি নেই তাঁর৷ নির্বাচনে আগে, নির্বাচনের পরে, তাঁর বিতর্কিত বক্তব্যে সবসময়ই খবরের শিরোনামে তিনি৷ তিনি ভোপালের বিজেপি সাংসদ সাধ্বী প্রজ্ঞা ঠাকুর৷ এবার লোকসভার ভিতরেই নয়া বিতর্ক তৈরি করলেন তিনি৷ সংস্কৃত ভাষায় এদিন শপথ নেন তিনি৷ তবে তাঁর শপথ পাঠের শুরুতেই নিজের গুরুর নাম স্মরণ করেন তিনি৷

তাঁর এই কাজেই বিতর্ক তৈরি হয়৷ বিরোধী দলের সাংসদরা সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ জানান৷ তাঁদের মত, এভাবে শপথের বাক্য নিজের মত করে পরিবর্তন করা যায় না৷ এমনকী নির্বাচনী তথ্যেও এই নাম কোথাও নেই৷ তাই শপথ বাক্য পাঠের সময় নতুন করে সাধ্বী প্রজ্ঞার নামের সঙ্গে তাঁর গুরুর নাম যোগ করা যাবে না৷

গোটা ঘটনায় হস্তক্ষেপ করেন প্রোটেম স্পীকার বীরেন্দ্র কুমার৷ তিনি জানান সাধ্বী প্রজ্ঞার নির্বাচনী তথ্য খতিয়ে দেখা হবে৷ সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷ লোকসভার অধিবেশনে যাতে কোনও বাধা না আসে, তার ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি৷ এই ইস্যুতে সাধ্বী প্রজ্ঞা ঠাকুরের নির্বাচনী তথ্য সম্বলিত ফাইল নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে চেয়ে পাঠানো হবে বলেও জানানো হয়েছে৷

বিরোধী সাংসদদের হই হট্টগোলে দুবার বন্ধ হয়ে যায় সাধ্বী প্রজ্ঞা ঠাকুরের শপথ পাঠ৷ পরে তৃতীয় বারের চেষ্টা শপথপাঠ শেষ করেন তিনি৷

উল্লেখ্য ২০০৮ সালে মহারাষ্ট্রের মালেগাঁওয়ে বিস্ফোরণে ৭জন প্রাণ হারায়, আহত হয় ১০০-এরও বেশি৷ আর এই ঘটনার ষড়যন্ত্রেই অভিযুক্ত হিসেবে নাম উঠে আসে সাধ্বী প্রজ্ঞার৷ আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করলেও, তাঁর বিরুদ্ধে সমস্ত অভিযোগ থেকে এখনও অব্যাহতি মেলেনি৷

২০১৭-র ডিসেম্বরে তাঁকে মহারাষ্ট্র সংগঠিত অপরাধ আইন (মকোকা) থেকে রেহাই দেয় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)-র বিশেষ আদালত। তবে সন্ত্রাস দমন এবং ইউএপিএ আইনে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা চলছে।

হেমন্ত কারকারে মালেগাঁও বিস্ফোরণের বিশেষ তদন্তকারী অফিসার ছিলেন৷ এই ইস্যুকে কারকারেকে সতর্ক করেছিলেন প্রজ্ঞা৷ তাঁর বিরুদ্ধে প্রমাণ যোগাড় করার ব্যাপারে হুমকি দিয়েছিলেন সাধ্বী৷ তবে তাতেও দমেননি এই পুলিশ অফিসার৷ তখনই নাকি হেমন্ত কারকারেকে মৃত্যুর অভিশাপ দেন সাধ্বী প্রজ্ঞা৷ এদিকে, নির্বাচনী প্রচার চলাকালীন একাধিকবার প্ররোচনা ও বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করার জন্য শাস্তির খাঁড়া নেমে এসেছে এই বিজেপি প্রার্থীর উপর৷ তবে তাতে বিশেষ হেলদোল দেখা যায়নি প্রার্থীর৷