কলকাতা: বহুজন সমাজ পার্টি (বিএসপি) প্রধান মায়াবতী নরেন্দ্র মোদীর ব্যাপারে এই লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে মধুর বার্তা দেবেন তা আশা করা যায় না৷ শনিবার, প্রধানমন্ত্রীকে চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ করেছেন বিএসপি প্রধান৷ মায়াবতীর নিশানা থেকে বাদ যায় নি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘও৷ মোদী এবং সঙ্ঘকে যৌথ আক্রমণ শাণিয়ে মায়াবতীর বক্তব্য, মোদী পিছিয়ে পরা শ্রেণীর প্রতিনিধি নন৷ মোদী যদি পিছিয়ে পড়া শ্রেণীর প্রতিনিধিত্ব করতেন, তবে সঙ্ঘ কোনও দিন তাকে প্রধানমন্ত্রী হতে দিত না৷

লোকসভা নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশে একযোগে লড়াই করছেন এক সময়ের শত্রু বহুজন সমাজ পার্টি এবং সমাজবাদী পার্টি৷ রাজ্যে ৮০টি লোকসভা আসনের মধ্যে ৩৮টি করে আসন এই দুই দল লড়াই করবে৷ রায়বেরিলি এবং আমেথি ছাড়া হয়েছে সোনিয়া গান্ধী এবং রাহুল গান্ধীকে৷ দুটি আসন ছাড়া হয়েছে অন্যান্যদের জন্য৷

২০১৭ সালে উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল জয় পেয়েছিল বিজেপি৷ নতুন মুখ্যমন্ত্রী হন যোগী আদিত্যনাথ৷ ৪০৩ আসনের বিধানসভায় ৩০০ এক বেশি আসন পেয়ে মোদী বুঝিয়ে দিয়েছিলেন দেশ জুড়ে মোদী জড় চলছেই৷ অন্যদিকে, সমাজবাদী পার্টির সরকার কংগ্রেসের সঙ্গে যোট করে পেয়ছিল মাত্র ৫৪টি আসন৷ ভারতের রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনটি ছিল বিজেপি-র কাছে মহা পরীক্ষা৷ কারণ ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে মোদী সরকারকে ফিরিয়ে আনতে উত্তরপ্রদেশের ভূমিকা অতি গুরুত্বপূর্ণ৷ অন্য একটি বিষয়ও বিজেপি মাথায় ছিল৷ নোটবাতিলের পর উত্তরপ্রদেশ নির্বাচন ছিল আতশকাঁচের তলায়৷

এছাড়া কেন্দ্রে মোদী সরকারের ৩ বছর পেরিয়ে গিয়েছে৷ ভোটারদের হানিমুন কী কেটে গিয়েছে নাকি মোদী ম্যাজিত তাদের মোদিত করে রেখেছে তা বুঝে নিতে চাইছিল পদ্ম শিবির৷ সেক্ষেত্রে মহা গুরুত্বপূর্ণ ওই নির্বাচনে ফেল করেছিল কংগ্রেস-এসপি৷ বিএসপিও পাশ করতে পারেনি৷

বিজেপির ওই জয়ে এসপি এবং বিএসপি যারা সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল৷ কারণ জাতি-ধর্মের অঙ্কেই ভোটকে ঘুরিয়ে দিতে পেরেছে অমিত শাহ-নরেন্দ্র মোদী৷ তাদের চিরাচরিত যে হিন্দু ভোট, সেটা তো দখলে রাখতে পেরেছে বিজেপি৷ আবার একই সঙ্গে অন্যান্য হিন্দু জাতি বা পিছিয়ে থাকা শ্রেণীদের ভোটও পেয়েছে বিজেপি। ৬-৭ মাস ধরেই তারা এই কাজটা করে সফল হয়েছে৷ যাদবরা ছাড়া প্রায় সকল গোষ্ঠীই বিজেপিকে ভোট দিয়েছে৷ সমগ্র হিন্দু ভোটকে এক করতে পেরেছিল বিজেপি৷

২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি নিজের স্ট্রাটেজি থেকে পিছিলে আসছে না৷ প্রতিটি জনজাতির জন্য অলাতাভিত্তিক স্ট্র্যাটেজি নেওয়া হয়েছে৷ নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা মনে করেছেন, সেই কারণেই মোদীকে পিছিয়েপড়া সমাজের প্রতিনিধি নামতে নারাজমায়াবতী৷ করাণ পিছিয়েপড়া সমাজের ভোট পাওয়ার লক্ষে এবার কাজ করছে এসপি এবং বিএসপি৷ রাহুল গান্ধীর সমর্থন রয়েছে৷