শেখর দুবে, কলকাতা: সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে ফলাফল ঘোষণা হতেই সারা দেশ জুড়ে উৎসব পালন করছেন বিজেপি কর্মীরা৷ বাংলাতেও লোকসভা নির্বাচনে এই প্রথমবারের জন্য ১৮টি সিট জিতে চমকপ্রদ ফল করেছে বিজেপি৷ ভোট গণনার দিন দুপুর থেকে পরের কয়েকদিন ধরে রাজ্যের একাধিক জায়গাতে উৎসবের মেজাজে ভারতীয় জনতা পার্টি এবং তার সহযোগী দলের সমর্থকরা৷

মোদী সরকারের এই জয়ের নেপথ্যে থাকা অন্যতম কারিগর আরএসএসের সদস্যরা কিন্তু উচ্ছাস নিয়ন্ত্রণে রেখে মাঠে নেমে পড়ছেন নতুন লড়াইয়ে, মাত্র দু’বছর পরই বাংলায় বিধানসভা ভোট যে৷ এবিষয়ে বাংলা আরএসএসের এক শীর্ষ নেতা বলেন, ‘‘সংঘের কাজ ধারাবাহিক৷ রাজনীতিতে ভালো লোকের অর্থাৎ যারা রাষ্ট্রহিতে কাজ করবেন তাদের নিয়ে আসা সংঘের দায়িত্ব৷ কিন্তু ওটাই সব নয়৷ রাষ্ট্রের উন্নতিকল্পে কাজ করা আমাদের উদ্দেশ্যে৷ তাই আমাদের বিশ্রাম নেই৷’’

ভারতের প্রথম সমাট্র হিসেবে নিজের নাম ইতিহাসের পাতায় তুলেছিলেন চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য৷ তাঁর এই জয়ের পেছনে চুপ করে কাজ করে যাওয়া বিষ্ণু গুপ্তের কথা ইতিহাস ভোলেনি৷ প্রথমবারের থেকেও বড় ব্যবধানে জয় নিয়ে দিল্লির তখতে আরও একবার ফিরছে মোদী সরকার৷ সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে মোদীর এই সাফল্যের পেছনে আরএসএসের চাণক্য এবং শিষ্যদের যে কয়েক বছরের অক্লান্ত পরিশ্রম রয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না৷ যদিও আরএসএস নেতৃত্ববৃন্দকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তারা সরাসরি বলে দেন, ‘‘সংঘ রাষ্ট্রহিতে কাজ করে কোনও রাজনৈতিক দলের হয়ে নয়৷’’

আরএসএস নেতারা যাই বলুন না কেন কংগ্রেসের প্রধান প্রতিক্ষ হিসেবে বিজেপিকে দাঁড় করানোর পেছনে সংঘ পরিবারই যে প্রধান চালিক শক্তি এ বিষয়টি পরিস্কার৷ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজে জীবনের একটা বড় অংশ আরএসএসের স্বয়ং সেবক এবং প্রচারক হিসেবে কাজ করেছেন৷ সময়ে সময়েই আরএসএস থেকে নেতা এসে বিজেপিকে এগিয়ে নিয়ে গেছে৷ বাংলা বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষও একটা সময় আরএসএসের প্রচারক ছিলেন৷ সরাসরি রাজনীতিতে জড়িয়ে না পড়লেও রাষ্ট্রের কাজে সংঘের কর্মীরা সবসময় নিয়োজিত থাকেন৷ এমনটাই মত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আরএসএস নেতার৷

১৮ সিটে মজে গিয়ে আরএসএস যে বসে নেই সে কথা জানিয়ে রাজ্যের এক আরএসএস শীর্ষ নেতা বলেন, ‘‘১৯ তারিখে ভোট শেষ হয়েছে ২০ তারিখে সংঘের শিক্ষাবর্গ শুরু হয়েছে৷ বেলডাঙা ও তালবেড়িয়াতে সংঘের শিক্ষা বর্গের ক্যাম্প চলছে৷ আমরা দেশের হিতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যায়৷ বিজেপির এই বড় মার্জিনে জয় তাতে ছেদ ফেলেনি৷ বাংলা তথা দেশের মানুষ রাষ্ট্রবাদী নেতাদের পার্লামেন্টে পাঠানোয় আমরা খুশি কিন্তু সামনে আরও প্রচুর কাজ রয়েছে৷ তাই বিশ্রাম বা বিরতীর সময় নেই৷’’

আরএসএস সূত্রের খবর দেশের প্রধানমন্ত্রীর শপথ গ্রহণ হয়ে গেলেই এনআরসি, সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, তিন তলাক বিরোধী বিলের মতো একাধিক ইস্যু নিয়ে বাংলার মানুষকে সচেতন করার জন্য রাস্তায় নামবে আরএসএস স্বয়ং সেবকরা৷ রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় বিজেপিকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামতে চলেছে৷