নয়াদিল্লিঃ  দ্বিতীয়বারের জন্যে ফের ক্ষমতার শীর্ষে নরেন্দ্র মোদী। শুধুমাত্র বিজেপিই এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। শুধুমাত্র বিজেপির প্রাপ্ত ভোট প্রায় ২৯৭ এর কাছাকাছি। ফলে এভাবে বিপুল ভোটে জয় পাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপর আরএসএসের প্রভাব অনেকটাই কমে যাবে, এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিকমহল। উল্লেখ্য, বেশিরভাগ সময়ই নাগপুরের আরএসএসের সদর দফতর থেকে বিজেপির তথা সরকারের একাধিক নীতি নিয়ন্ত্রণের পুরোদস্তুর চেষ্টা চালানো হয় থাকে। কিন্তু এবার আর সেটা সম্ভব হবে না বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

তথ্য বলছে আরএসএসের এই কার্যকলাপে একটা সময়ে কার্যত বিদ্রোহ করেছিলেন খোদ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী। তিনি ঘোষণা করেছিলেন,সরকার চালানোর ব্যাপারে তিনিই শেষ কথা বলবেন৷ যদিও এখনও পর্যন্ত মোদীকে সেই ধরণের কোনও সিদ্ধান্ত নিতে হয়নি। কিন্তু গত পাঁচ বছরে সরকার চালানোর ক্ষেত্রে আরএসএসের বহু সমালোচনাই শুনতে হয়েছে। রামমন্দির ইস্যু সহ একাধিক ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং শাহের উপর একাধিকবার চাপ সৃষ্টি করেছে। বিজেপি ও আরএসএসের মধ্যে সমন্বয়ের জন্য একটি কমিটি পর্যন্ত ছিল৷ আরএসএস নেতা কৃষ্ণগোপাল সমন্বয়ের কাজটা করতেন৷ বিজেপির মন্ত্রীদের ডেকে পাঠানো হত৷ অমিত শাহও থাকতেন বলে বাংলা এক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে।

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর মোতাবেক সব সময়ই যে মোদী আরএসএসকে গুরুত্ব দিতেন তা কখনই নয়। এমনকি আরএসএসের দাবিও মেনে নিতেন না। রাম মন্দির নিয়ে সঙ্ঘের প্রবল চাপের পরেও তিনি অর্ডিন্যান্স করতে রাজি হননি৷ আদালতের রায়ের জন্য অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন৷ কিন্তু যেভাবে মানুষ তাঁকে ভোট দিয়েছে তাতে আগামদিনে আরএসএসের সব দাবি নাও মানতে পারেন মোদী। নিজের যাবতীয় সিদ্ধান্ত রূপায়ণ তিনি করবেনই৷

বাংলা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর মোতাবেক গত কয়েকদিন আগে আরএসএসের এক প্রভাবশালী ব্যক্তি বিজেপি নেতা নীতিন গড়করির বাড়িতে গিয়ে ঘণ্টা দুয়েক ধরে বৈঠক করেছেন৷ বিজেপি মহলে গুজব ছিল, সঙ্ঘ চাইছে, গড়করিকে উপ প্রধানমন্ত্রী করুন মোদী৷ কিন্তু এই জয়ের পর মোদী কাকে মন্ত্রী করবেন, কী দায়িত্ব দেবেন, তা তিনিই ঠিক করবেন৷ সঙ্ঘের তরফে এই চাপ বাজপেয়ীর সময়েও দেওয়া হয়েছিল৷ তাই প্রথমে যশবন্ত সিং-কে অর্থমন্ত্রী করতে পারেননি বাজপেয়ী৷ লোকসভায় হেরে যাওয়ার পর ইচ্ছে থাকলেও প্রমোদ মহাজনকে মন্ত্রী করতে পারেননি৷ পরে দুটো কাজই তিনি করেছিলেন ঠিকই, কিন্তু তার জন্য অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছিল৷ (তথ্য সূত্র-বাংলা সংবাদমাধ্যম)