বিভাস ভট্টাচার্য, কলকাতা: দেশ জুড়ে এ বার অত্যাচারিত মহিলাদের তালিকা তৈরি করছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)৷ তার জন্য সীমান্ত লাগোয়া গ্রাম থেকে শুরু করে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের গ্রাম এবং শহরের ঘরে ঘরে পৌঁছবেন আরএসএস-এর সেবিকা সমিতির সদস্যরা৷ অত্যাচারের পাশাপাশি মহিলাদের শিক্ষার কী হাল, সেই বিষয়েও তাঁরা তথ্য সংগ্রহ করবেন৷

আর, এ ভাবেই অত্যাচারিত মহিলাদের খোঁজে গোটা দেশের ঘরে ঘরে পৌঁছতে চলেছেন সেবিকা সমিতির সদস্যরা৷ তাঁদের কাছে থাকবে একটি ফর্ম৷ ঘর গেরস্থালির অশান্তি থেকে শুরু করে স্থানীয় এলাকার এমন কোনও ঘটনার কারণে কোনও মহিলা ভয়ে ভয়ে আছেন কি না, সে সবও থাকছে ওই ফর্মে৷ আগামী এপ্রিল থেকেই এই কাজ শুরু করে দিচ্ছেন সেবিকা সমিতির সদস্যরা৷

এই বিষয়ে www.kolkata24x7.com-কে আরএসএসের সেবিকা সমিতির নেত্রী মহুয়া ধর বলেন, ‘‘দল থেকে গোটা দেশ জুড়ে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে৷ দলের কেন্দ্রীয় স্তর থেকে এই কাজের জন্য হিন্দি ও ইংরেজি ভাষায় ছাপানো ফর্ম পাঠানো হচ্ছে প্রতিটি রাজ্যে৷ পশ্চিমবঙ্গে কাজের সুবিধার জন্য আমরা এই ফর্মটিকে হিন্দি ও ইংরেজি ছাড়াও বাংলায়ও করে নেব৷ এই কাজটি আগামী এপ্রিল মাস থেকে শুরু হয়ে যাবে৷’’

গ্রাম থেকে শহর, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিদিনই অত্যাচারের শিকার হচ্ছেন মহিলারা৷ কখনও সেই অত্যাচার তাঁদের কর্মক্ষেত্রে হচ্ছে৷ কখনও আবার নিজেদের ঘরে৷ কখনও আবার স্থানীয় এলাকায়ও বিভিন্ন ধরনের অত্যাচারের মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাঁদের৷ বহু ক্ষেত্রেই মুখ বুজে সহ্য করা ছাড়া তাঁদের আর অন্য কিছু করার থাকছে না৷ এ বার এই অত্যাচারিত মহিলাদের একেবারে কাছে যেতে চান সেবিকা সমিতির সদস্যরা৷ যে বা যাঁরা ঘরে ঘরে গিয়ে অত্যাচারিত মহিলাদের সঙ্গে কথা বলবেন, তাঁদের প্রশিক্ষণও দেওয়া হবে৷

সেবিকা সমিতির নেত্রী মহুয়া ধরের কথায়, ‘‘কীভাবে মহিলাদের কাছে গিয়ে তাঁদের সঙ্গে কথা বলা হবে, সে ব্যাপারে আমাদের সদস্যদের একটি প্রশিক্ষণ দেব৷ পাশাপাশি এটাও বলে দেওয়া হবে যে, ফর্মে ছাপানো যে প্রশ্নাবলী আছে, সেই প্রশ্নই যাতে মহিলাদের করা হয়, সে ব্যাপারটি যেন পুরোপুরি খেয়াল রাখা হয়৷ অতি উৎসাহী হয়ে বিড়ম্বনা তৈরি করার মতো কোনও প্রশ্ন যাতে কেউ না করেন, সে ব্যাপারে তাঁদের সতর্ক করে দেওয়া হবে৷’’

সেবিকা সমিতি ঠিক করেছে যে, শুধুমাত্র তাঁদের সদস্যরাই নন৷ বরং, সংগঠনের বাইরেও যে সমস্ত মহিলা বাড়ি বাড়ি ঘুরে এই কাজটি করতে উৎসাহী হবেন, তাঁদেরও প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে৷ খুব স্বল্প সময়ের এই প্রশিক্ষণে তাঁদেরকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে, তাঁদের কী করতে হবে৷ একই সঙ্গে মহুয়া ধর এই ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, আগামী দিনে অত্যাচারিত এই মহিলাদেরকে সংগঠনে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টিও মাথায় রাখা হচ্ছে৷

এই বিষয়টি নিয়ে রাজ্য বিজেপির নেতা সায়ন্তন বসু বলেন, ‘‘এ রাজ্য শাসনের মূল কাণ্ডারী একজন মহিলা থাকলেও, পশ্চিমবঙ্গ শিশু পাচারে ভারতে এক নম্বরে উঠে এসেছে৷ পাশাপাশি মহিলাদের উপর অত্যাচারেও ভারত খুব তাড়াতাড়ি এক নম্বরে উঠে আসছে৷ এই কর্মসূচি পরিষ্কার করে দেবে যে, এ রাজ্যে মহিলারা কী ভয়ঙ্কর অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন৷’’

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

Tree-bute: রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও