ফাইল ছবি

মুম্বই: আরএসএস-এর ইফতার পার্টি নিয়ে সমস্যা শেষ হয়নি এখনও। এবার ওই অনুষ্ঠান বাতিল করার দাবি জানালেন মুম্বইয়ের দুই সমাজকর্মী। ইফতারের অনুষ্ঠান বাতিল করার জন্য মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ ও রাজ্যপাল সি বিদ্যাসাগরের কাছে একটি আবেদনও জানানো হয়েছে।

মুম্বইয়ের দুই সমাজকর্মী আদিল খাত্রি ও শাকিল আহমেদ শেখ এই আবেদন জানিয়েছেন। মুম্বইয়ের মালাবার হিলসের ‘সহায়দ্রি’ গেস্ট হাউসে ওই ইফতারের আয়োজন করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু মুসলিম সংগঠন ওই অনুষ্ঠান বয়কট করেছে। এবার ইফতার পার্টি সম্পূর্ণ বাতিল করার আবেদন জানানো হল। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, ‘ওই গেস্ট হাউসে কোনও ধর্মীয় অনিষ্ঠানের অনুমতি নেই। এই গেস্ট হাউস শুধু অফিশিয়াল কাজের জন্য ব্যবহার হবে।’

২০১৫-তে মহারাষ্ট্রের স্টেট জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ডিপার্টমেন্টের তরফ থেকে সব সরকারি বিভাগকে একটি নির্দেশিকা দেওয়া হয়। সেখানে বলা হয়েছিল, সহায়দ্রি গেস্ট হাউসে কোনও সরকারি মিটিং বা কনফারেন্স ছাড়া অন্য কোনও অনুষ্ঠান করা যাবে না। বিভিন্ন ইস্যুতে মন্ত্রী বা সরকারি আধিকারিকরা এখানে বৈঠক বা ওয়ার্কশপ করতে পারেন। এই বিষয়টিই জানিয়েছেন আবেদনকারীরা।
ওই নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছিল যে, মুখ্যমন্ত্রী, উপমুখ্যমন্ত্রী, মুখ্যসচিব, প্রধান সচিব বা ওই স্তরের মন্ত্রী বা অফিসারেরা ওয়ার্কশপ, প্রেস কনফারেন্স করতে পারেন সেখানে।

এদিকে, আরএসএসের ইফতারে অংশ নিতে অস্বীকার করেছে বেশ কিছু মুসলিম সংগঠন। মুম্বইতে সেই ইফতারের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে ৩০টি মুসলিম দেশের প্রতিনিধিদের যোগ দেওয়ার কথা। শতাধিক অতিথি এই অ-মুসলিম সংগঠনের ইফতারে যেতে অস্বীকার করেছেন।

প্রত্যেকবারের মত এবারও আরএসএসের মুসলিম উইং এই ইফতারের আয়োজন করেছে। অন্তত ২০০ জন অতিথি আসার কথা ছিল সেখানে। ‘মুসলিম রাষ্ট্রীয় মঞ্চ’-এর ন্যাশনাল কনভেনর বিরাগ পাচপোরে জানিয়েছেন, আরএসএস নিয়ে ভুল ধারণ ভাঙার জন্যই এই পার্টির আয়োজন করা হয়। আরএসএস যে সংখ্যালঘুদের বিপক্ষে নয়, সেটাই বোঝাতে চেয়েছে সংগঠন।

তাঁর কথায়, ‘আরএসএস শান্তির বার্তা দিতে চায়। মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ব জাগাতে চায়।

তবে কয়েকটি মুসলিম সংগঠনের বক্তব্য, আরএসএস যতদিন না মুসলিম-বিরোধী পলিসির পরিবর্তন করবে, ততদিন তাঁরা এই সংগঠনের কোনও অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন না। ২০১৯-এ মুসলিম ভোট পেতেই আরএসএস এই আয়োজন করেছে বলে দাবি সংগঠনগুলির। তারা অন্যদেরও এই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে নিষেধ করেছে।

প্রশ্ন অনেক: দ্বিতীয় পর্ব