নয়াদিল্লি: আইন হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারও নেই। দিল্লিতে শান্তির পরিবেশ ফেরাতে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে, কেন্দ্রীয় সরকারকে এমনই বার্তা আরএসএস-এর সাধারণ সম্পাদক সুরেশ ভাইয়াজি যোশির। রবিবার থেকে টানা ৩ দিন ধরে চলা সংঘর্ষের জেরে দিল্লিতে এখনও পর্যন্ত ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। সংঘর্ষে দুশোরও বেশি মানুষ আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। হাসপাতালে ভরতি থাকা অনেকেরই অবস্থা সংকটজনক।

নতুন করে অশান্তির খবর না মিললেও ক্রমেই দিল্লির সংঘর্ষে মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত দিল্লির সংঘর্ষে ৩৫ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। এদিকে, দিল্লিতে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কেন্দ্রকে সবরকম পদক্ষেপ করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন আরএসএস-এর সাধারণ সম্পাদক সুরেশ ভাইয়াজি যোশি। একইসঙ্গে আইন হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারও নেই বলেও মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের ওই শীর্ষ নেতা।

রবিবার থেকে একটানা ৩ দিন ধরে সিএএ সমর্থনকারী ও বিরোধীদের দফায় দফায় সংঘর্ষের জেরে অশান্ত হয়েছিল উত্তর-পূর্ব দিল্লির বিস্তীর্ণ এলাকা। জাফরাবাদ, মৌজপুর, চাঁদবাগ-সহ একাধিক এলাকায় অশান্তি রুখতে কার্ফু জারি করা হয়। লোহার রড, লাঠি হাতে একে অপরের উপর চড়াও হয় দুপক্ষ। বেশ কিছু এলাকায় গুলি চলে বলেও অভিযোগ। প্রকাশ্যে বন্দুক হাতে দুষ্কৃতীদের দাপাদাপির ছবি দেখা যায় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে।

বুধবার রাতের পর বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ছবিটা ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করে। এদিন সকাল থেকে দিল্লিতে নতুন করে অশান্তির খবর মেলেনি। তবে যে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মোকাবিলায় তৎপর রয়েছে প্রশাসন। স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। উত্তর-পূর্ব দিল্লির মোড়ে-মোড়ে অলিতে-গলিতে চলছে পুলিশ ও আধাসেনার টহল।

এরই পাশাপাশি বাইরে থেকে দিল্লিতে কেউ ঢুকে পড়ে যাতে অশান্তি না ছড়াতে পারে সেব্যাপারেও তৎপরতা নেওয়া হয়েছে। দিল্লির সীমনাগুলি সিল করে দেওয়া হয়েছে। রাজধানীতে ঢোকা ও বেরোনর পথে কড়া নজরদারি চালাচ্ছে পুলিশ।

এদিকে, দিল্লির পরিস্থিতি নিয়ে বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে কংগ্রেস প্রতিনিধি দল। কংগ্রেসের ওই প্রতিনিধি দলে ছিলেন সনিয়া গান্ধী, মনমোহন সিং, পি চিদম্বরম-সহ অন্যরা। কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যর্থতার কারণেই দিল্লির আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে বলে অভিযোগ অন্তর্বর্তীকালীন কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধীর। কংগ্রেস সভানেত্রীর অভিযোগ, দিল্লিতে হিংসা ও লুঠে মদত দিচ্ছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার।