নয়াদিল্লি: বাজেটেই বেড়ে গিয়েছে মোদীর নিরাপত্তার খরচ। অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে সেই খরচ। কারণ আপাতত দেশে একমাত্র প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীই পান এসপিজি নিরাপত্তা। আর সেই এসপিজি খাতে একধাক্কায় বাজেট বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে অনেকটাই।

সম্প্রতি লোকসভায় প্রধানমন্ত্রীকে এই সংক্রান্ত প্রশ্ন করেছেন ডিএমকে সাংসদ দয়ানিধি মারান। তিনি জানতে চেয়েছেন যে দেশে এই মুহূর্তে কারা কারা এসপিজি ও কারা সিআরপিএফ নিরাপত্তা পান।

উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী জি কৃষ্ণন জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশে একজনই এসপিজি নিরাপত্তা পান। নাম বলেননি তিনি। সিআরপিএফ কারা পান, সেই হিসেবও দেননি তিনি। তবে জানিয়েছেন বর্তমানে দেশে ৫৬ জন ব্যক্তিকে সিআরপিএফ নিরাপত্তা দেওয়া হয়।

এবার বাজেটে এসপিজি-তে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে ১০ শতাংশ। ৫৯২.৫৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। হিসেব বলছে, ২০১৫-১৬ থেকে বাজেট বেড়ে হয়েছে দ্বিগুণ। হিসেব করে দেখা গিয়েছে, প্রত্যেকদিন মোদীর এসপিজি নিরাপত্তার জন্য খরচ হচ্ছে ১.৬২ কোটি টাকা, অর্থাৎ প্রতি ঘণ্টায় ৬.৭৫ লক্ষ টাকা এবং মিনিটে ১১,২৬৩ টাকা খরচ হয়।

উল্লেখ্য, আগে এসপিজি নিরাপত্তা পেতেন চার জন। গত বছরের নভেম্বরে সোনিয়া গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও রাহুল গান্ধীর এসপিজি নিরাপত্তা তুলে নেওয়া হয়। গান্ধী পরিবারের বিরুদ্ধে একাধিক প্রোটোকল ভাঙার অভিযোগ আনা হয়েছিল বলে সূত্রের খবর। প্রত্যেক দিনই নাকি নিয়ম ভাঙা হয়।

গত অগস্টে তুলে নেওয়া হয় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং-এর নিরাপত্তাও। আরও দুই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এইচডি দেবেগৌড়া ও ভিপি সিং-কেও এই নিরাপত্তা দেওয়া হয় না।

ইন্দিরা গান্ধীকে হত্যার পর ১৯৮৫ সালে এই এসপিজি গঠন করা হয়। প্রধানমন্ত্রীদের নিরাপত্তা দেওয়াই ছিল এই বাহিনীর মূল দায়িত্ব। ১৯৯১-তে রাজীব গান্ধীকে হত্যা করার পর পুরো পরিবারকেই এসপিজি প্রোটেকশন দেওয়া হয়।

১৯৯৯-তে অটল বিহারী বাজপেয়ী সরকার এসপিজি নিরাপত্তার বিষয়টি রিভিউ করা হয়। তন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী পিভি নরসিংহ রাও, দেবে গৌড়া ও আইকে গুজরালের নিরাপত্তা তুলে নেওয়া হয়েছিল। এরপর ২০০৩ সালে বাজপেয়ী সরকার একটি নতুন আইন তৈরি করে, যাতে ১০ বছর অন্তর এই নিরাপত্তার মেয়াদ পুনর্বিবেচনা করা হয়। বিপদের মাত্রার উপর সেই বিবেচনার সময় কমানো বা বাড়ানো হতে পারে বলেও জানানো হয়েছিল। বাজপেয়ীকে মৃত্যু পর্যন্ত এই নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছিল।