জয়পুর: চার ম্যাচ পরও কাটল না রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্সের দৈন্যদশা। চলতি মরশুমে প্রথম চার ম্যাচে টানা চতুর্থ হার হজম করল বিরাট কোহলি অ্যান্ড কোম্পানি। উল্টোদিকে প্রথম তিন ম্যাচ হারের পর রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্সকে হারিয়ে মরশুমে প্রথম জয়ের স্বাদ পেল রাজস্থান রয়্যালস। মঙ্গলবার গোলাপী শহরে আরসিবিকে ৭ উইকেটে পরাজিত করল তারা। মাত্র ১ বল বাকি থাকতে ১৫৯ রানের লক্ষ্যমাত্রা ছুঁয়ে থ্রিলার জয় তুলে নিল রয়্যালস।

আইপিএল অভিযানে শুরু থেকে টানা তিন ম্যাচে জয়ের মুখ দেখেনি রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স কিংবা রাজস্থান রয়্যালস। তাই জয়ের ছন্দ খুঁজে পেতে মরিয়া দু’দলই এদিন একাধিক পরিবর্তন করে মাঠে নামে। ঘরের মাঠে মঙ্গলবার টসে জিতে কোহলিদের ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রণ জানান রাহানে। অধিনায়ক হিসেবে মাইলস্টোন গড়ার দিনে সোয়াই মান সিং স্টেডিয়ামে ব্যাট হাতে খুব একটা সফল হতে পারলেন না আরসিবি অধিনায়ক বিরাট কোহলি। চেন্নাই ম্যাচের পর ফের এদিন ওপেনিংয়ে পার্থিবের সঙ্গী হন অধিনায়ক কোহলি। ওপেনিংয়ে জুটিতে ৪৯ রান তোলার পর ব্যক্তিগত ২৩ রানে প্যাভিলিয়নে ফেরেন বিরাট।

সফল হতে পারেননি এবি ডিভিলিয়ার্স (১৩) কিংবা শিমরন হেটমেয়ারও (১)। প্রথম তিন ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে চমক দেন রয়্যালস লেগ-স্পিনার শ্রেয়াস গোপাল। এরপর আরসিবি ব্যাটিংয়ের হাল ধরেন পার্থিব-স্টোইনিশ জুটি। চতুর্থ উইকেটে এই দুই ব্যাটসম্যানের ৫৩ রানের পার্টনারশিপ দলের রানকে কিছুটা মজবুত জায়গায় নিয়ে যায়। অর্ধশতরান পূর্ণ করে ৬৭ রানে ডাগ আউটে ফেরেন উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান পার্থিব। এরপর মইন আলিকে সঙ্গে নিয়ে আরসিবির রান ১৫০ পার করেন অজি অল-রাউন্ডার স্টোইনিশ।

২৮ বলে ৩১ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। অন্যদিকে ৯ বলে ১৮ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস আসে মইনের ব্যাট থেকে। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৫৮ রান তোলে আরসিবি। জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই চালিয়ে খেলতে শুরু করেন রাজস্থানের ইংরেজ ওপেনার জোস বাটলার। রাহানে-বাটলারের ওপেনিং জুটিতে ৬০ রান উঠতেই ম্যাচের ভাগ্য অনেকটাই ঝুঁকে যায় রাজস্থানের দিকে। অধিনায়ক রাহানে ২২ রানে ফিরলেও স্টিভ স্মিথকে সঙ্গে নিয়ে দলের রান ১০০’র গন্ডি পার করে দেন বাটলার।

অর্ধশতরান পূর্ণ করে ব্যক্তিগত ৫৯ রানে ডাগ-আউটে ফেরেন ইংরেজ ব্যাটসম্যান। এরপর রাহুল ত্রিপাঠির সঙ্গে জুটি বেঁধে তৃতীয় উইকেটে ৫০ রান যোগ করেন স্টিভ স্মিথ। একাধিক ক্যাচ মিস করে রাজস্থানকে ম্যাচ জয়ের সুবর্ণ সুযোগ করে দেন কোহলির দলের ফিল্ডাররা। ১৯ ওভারের শেষ বলে ৩৪ বলে ব্যক্তিগত ৩৮ রানে আউট হন স্মিথ। শেষ ওভারে জয়ের জন্য রাজস্থানের প্রয়োজন ছিল মাত্র ৫ রান।

বেন স্টোকসকে সঙ্গে নিয়ে ১ বল বাকি থাকতেই দলকে লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছে দেন ত্রিপাঠি। ২৩ বলে ৩৪ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। ৪ ওভারে মাত্র ১২ রান খরচ করে ৩টি উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা শ্রেয়াস গোপাল। এদিন তাঁর উইকেট শিকারের তালিকায় ছিলেন কোহলি, ডি’ভিলিয়ার্স ও হেটমেয়ার।