নয়াদিল্লি: আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই ঘোষণা হতে পারে বহু প্রতীক্ষিত অযোধ্যা মামলার রায়। রায় কী হবে জানা নেই, তবে সেই রায়ের প্রভাবে যাতে খারাপ কিছু না হয়, তার জন্য সবরকম ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার। নিরাপত্তার কথা ভেবে রেল পুলিশের সব ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

সাত পাতার একটি অ্যাডভাইসরি দিয়েছে রেল পুলিশ। সব কর্মীদের ছুটি বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। সব ট্রেনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হচ্ছে। যে কোনও পরিস্থিতির মোকাবিলা করার জন্য এই কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

আগামী ১৭ নভেম্বর অবসর নেবেন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ। তাই তার আগে রায় ঘোষণা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সেইজন্যই এই সব ব্যবস্থা করা হচ্ছে। রেলের প্লাটফর্ম, স্টেশন, ব্রিজ, টানেল সব জায়গায় নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

স্টেশনের কাছে থাকা যে কোনও ধর্মীয় স্থানে কড়া নজর রাখা হবে। ওইসব জায়গায় গণ্ডগোল হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ৭৮টি বড় স্টেশনকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

অযোধ্যায় প্রায় ৪ হাজার আধাসামরিক বাহিনীর জওয়ান পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিটি রাজ্যের সরকারকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে বিশেষ অ্যাডভাইজারি পাঠানো হয়েছে। গত অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে অযোধ্যা জেলায় ১৪৪ ধারা জারি আছে। আগামী ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই শহরে কার্ফু জারি থাকবে। বাবরি মসজিদ ধ্বংসের বার্ষিকীর চারদিন পর পর্যন্ত কার্ফু জারি থাকবে।

অযোধ্যা সংক্রান্ত কোনও আলটপকা মন্তব্য না করার জন্য ইতোমধ্যেই মন্ত্রীদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। একইসঙ্গে দেশের শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপরে জোর দিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দেশের সম্প্রীতি রক্ষার দায় এবং দায়িত্ব প্রত্যেকের। ফলে প্রত্যেককে বিতর্কিত মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকতে হবে। একইসঙ্গে দেশবাসীকে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।