স্টাফ রিপোর্টার , হাওড়া: বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামছে। মসজিদের আজান ধ্বনি শোনা যাচ্ছে। সারাদিন ধরে রোজা পালন করা রফিকুল,জামিরুল,মিজানুরদের কাজ যে এখনও অনেক বাকি। তার মাঝেই ভাঙতে হবে রোজা। এই নিয়ে যখন কপালে চিন্তার ভাঁজ সাইফুল,নজিমুলদের তখনই তাঁদের পাশে রোজা ভাঙাতে এগিয়ে এলেন অপর্ণা,সুকান্তরা।

আমতার তাজপুরে আমতা-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সুকান্ত কুমার পালের বাড়িতে বিশেষ কাজে এসেছিলেন পাঁচজন শ্রমিক। কিন্তু,সময় অতিক্রান্ত হওয়ায় সুকান্তবাবু নিজের বাড়িতেই তাঁদের জন্য ইফতারের ব্যবস্থা করেন। বাড়ির গৃহকর্ত্রী অপর্ণা পাল নিজে হাতে ফল,জল ও শরবত তুলে দেন জামিরুল,সাইফুলদের। এভাবেই হিন্দু বাড়িতে ফল,জল ও শরবত খেয়ে রোজা ভাঙল ওদের।

সম্প্রীতির অনন্য এক ছবি। সুকান্তবাবু বলেন , ‘অত ভেবে আমি এই কাজ করিনি। অত ধর্মও আমি দেখি না। বাড়িতে খাবার আছে , সেই খাবার দিয়েছি। ওঁদের রোজা ভেঙেছে। তাছাড়া কাজ করতে ওঁদের দেরি হয়ে গিয়েছিল, রোজা ভাঙতই বা কোথায়। আমিই তাই ওঁদের বলি এখানেই খেয়ে নিতে। ওঁরা রাজি হয়ে যায়।’

ঈদ-উল-ফিতর ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের দুটো সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবের একটি। দ্বিতীয়টি হলো ঈদুল আযহা। দীর্ঘ এক মাস রোযা রাখা বা সিয়াম সাধনার পর মুসলমানেরা এই দিনটি ধর্মীয় কর্তব্যপালনসহ খুব আনন্দের সাথে পালন করে থাকে। সেই ঈদ-উল-ফিতর সামনেই। সেই উপলক্ষ্যেই চলছে এক মাসের রোজা পালন। বারের ঈদ হবে অনারম্বর। এমনটাই জানাচ্ছেন রাজ্যের ইমাম অ্যাসোসিয়েশন।

কীভাবে ? সেই উপায়ও বলে দিয়েছে ইমামদের সংগঠন। তাঁদের আবেদন , ‘ঈদ-উল-ফিতর আরম্বরহীন ভাবে উদযাপন করতে হবে। অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা ও ফজুল খরচ থেকে বাঁচতে হবে। কিছু অর্থ ভবিষ্যতের জন্য বাঁচিয়ে রাখুন।’

পচামড়াজাত পণ্যের ফ্যাশনের দুনিয়ায় উজ্জ্বল তাঁর নাম, মুখোমুখি দশভূজা তাসলিমা মিজি।