কলকাতা ২৪X৭: উনিশের আইপিএলে বিরাটের আরসিবি’র দৈনদশা৷ ম্যাচ ৬ হার ৬৷

নেতা কোহলির কেরিয়ারে এমন দুর্দিন অবশ্য অতীতে কোনও দিন আসেনি৷ আইপিএল হোক বা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কেরিয়ারে অধিনায়ক কোহলির এমন হারের রেকর্ড গুগল করে খুঁজে পাওয়া গেল না৷ টেস্ট ক্রিকেট ধরলে, হ্যাঁ দক্ষিণ আফ্রিকা-ইংল্যান্ডের মাটিতে সিরিজ হেরেছে কোহলির ভারত৷ কিন্তু এভাবে হোয়াইট-ব্রাউন কোনও ওয়াসই হতে হয়নি৷

আরও পড়ুন- নন-স্ট্রাইকারদের ত্রাস হয়ে দাঁড়িয়েছেন অশ্বিন

অন্তত একটা আগ্রাসন ছিল, ছিল লড়াই! ছিল চোখে চোখ রেখে বিপক্ষের মনে ‘ডর’ তৈরির কোহলিয় রংবাজি৷ আইপিএলে টানা পাঁচ ম্যাচ হেরে সেই কোহলিয় গর্জনেও ভাটা পড়েছে৷ সামনেই দেশের হয়ে ইংল্যান্ডের মাটিতে বিশ্বকাপে নামবেন কাপ্তান৷ আইপিএলে নেগেটিভিটি শেষটায় কোহলির ইস্পাত কঠিন লড়াকু মানসিকতাটাই না নাড়িয়ে দেয়!

কোহলির আরসিবি’র কেন এই দৈনদশা৷
ময়নাতদন্তে ১-

শেন ওয়াটসন-

উত্তর খুঁজতে গেলে প্রথমেই প্রশ্ন করতে হয়৷ কোন স্ট্র্যাটাজিতে দল থেকে তারকাদের ছেঁটে ফেলা হয়েছিল৷ অতি বড় আরসিবি ভক্তরা বলবেন, ফর্মের অভাবেই ছেটে ফেলা হয় শেন ওয়াটসনকে৷

২০১৬ সালে ৯.৫ কোটি টাকা খরচ করে ওয়াটসনকে কিনেছিল আরসিবি৷ এরপর ২০১৬ মরসুমে ব্যাঙ্গালোরের হয়ে ১৬ ম্যাচে তাঁর সংগ্রহ ছিল ১৭৯ রান৷ ২০১৭ মরসুমে আরসিবি জার্সিতে ৮ ম্যাচে করেন ৭১!

সেই ওয়াটসনই এখন চেন্নাইয়ে ম্যাচ উইনার৷ মনে না পড়লে৷ শেষ মরসুমটা রিওয়ান্ড করে দেখুন৷ শেষ মরশুমে একাই বিপক্ষের বোলিং আক্রমণ নিয়ে ছেলেখেলা করেছেন ওয়াটসন৷ নামের পাশে রান? ১৫ ম্যাচে ৫৫৫ রান৷ সেই সঙ্গে ৬টি উইকেট৷ দামি অল-রাউন্ডারকে হারিয়ে এখন হাত কামড়াচ্ছেন বিরাট৷ দলে ভালো মানের অলরাউন্ডার কোথায়৷ মার্কাস স্টোয়েনিস রয়েছে৷ তবে অভিজ্ঞতায় ওয়াটসনের সঙ্গে কি তাঁর তুলনা চলে৷ অন্য অল-রাউন্ডার গ্র্যান্ডহোম আবার ফর্মের ধারেকাছে নেই৷

আরও পড়ুন- ধোনিদের বিরুদ্ধে খেলতে চেন্নাই পৌঁছলেন নাইটরা

লোকেশ রাহুল-
সাল ২০১৬, আরসিবি জার্সিতে ৪০০-র কাছাকাছি রান লোকেশ রাহুলের৷ পরের মরসুমটা চোটের জন্য খেলা হয়নি৷ এরপর আর রাহুলের আগ্রহ দেখায়নি আরসিবি ফ্রাঞ্চাইজি৷ ২০১৮ এর নিলামে লোকেশ রাহুলকে মোটা অঙ্কে দলে নেন প্রীতির পঞ্জাব৷ পরের ছবিটা ১৪ বলে আইপিএলের দ্রুততম অর্ধশতরানের রেকর্ড, যেটা করেছিলেন লোকেশ রাহুল৷ চলতি বছরেও ফর্মে রয়েছেন৷ সামনেই বিশ্বকাপের দল ঘোষণা, তার আগে তিনটি দামি অর্ধশতরান হাঁকিয়ে ফেলে ফর্মে ফিরছেন কর্ণটকি ব্যাটসম্যান৷

নিলামে রাহুলকে রিটেন করলে আজ হয়ত এদিন দেখতে হত না আরসিবি’কে৷  পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৮ মরশুমে পঞ্জাবের হয়ে ১৪ ম্যাচে রাহুলের সংগ্রহ ৬৫৯ রান৷ আর ২০১৯তে ইতিমধ্যেই তিনটি অর্ধশতরান, নামের পাশে ২১৭ রান৷ এরপর বিরাটের হাত কামড়ানো ছাড়া আর কীইবা করার আছে!

ক্রিস গেইল-

এবং সব শেষে ক্রিস গেইল! ইউনিভার্সাল বসকে ছেঁটে ফেলা বোধহয় আরসিবি’র সবচেয়ে বড় ভুল৷ আরসিবি জার্সিতে ২০১১ মরশুমে ৬০৮ রান ও ২০১২ মরশুমে ৭৩৩ রান করেন গেইল৷ আর ২০১৩সালে অতিমানবীয় সেই ইনিংস৷ পুণের বিরুদ্ধে ৬৬ বলে ১৭৫ রান করেন গেইল৷ ২০১৭ সালে অবশ্য ব্যাট হাতে ছন্দে না থাকায় আরসিবি’র গেইল মোহে ছেদ পরে৷ সেকারণেই গেইলকে ছেড়ে দেয় আরসিবি৷ সেই গেইলই এখন পঞ্জাবের জার্সিতে বিপক্ষ দলগুলির কাছে ত্রাস হয়ে উঠেছেন৷ ৩৯ বছরের ব্যাট হাতে বিধ্বংসী তারকা ক্রিকেটার৷ গেইলকে ছেঁটে ফেলে এখন সত্যিই হাত কামড়াচ্ছে বিরাটের আরসিবি৷