লন্ডন: এই মুহূর্তে বিশ্বের প্রথম পাঁচ ধনী অ্যাথলিটদের মধ্যে রয়েছেন তিনি৷ কিন্তু তাঁর ছোটবেলায় কেটেছিল দারিদ্রতার মধ্যে৷ পয়সার অভাবে রাতে প্রতিদিন খাবারও জুটতো না৷ ভিক্ষে করেই ক্ষুধা নিবারণ করতেন বিশ্বফুটবলের সর্বাকালের অন্যতম সেরা এই ফুটবলার হলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো৷

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তাঁর জীবনের হারিয়ে যাওয়া তিন মানুষকে খুঁজে পেতে চান বলে জানান সিআর সেভেন৷ তাঁদের একজনকে খুঁজে পাওয়া গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে৷ যিনি ক্ষুধার্ত রোনাল্ডোর হাতে হ্যামবার্গার তুলে দিতেন৷ ব্রিটেনের টিভি চ্যানেল ‘আই টিভি’-তে সাংবাদিক পিয়ার্স মর্গ্যানকে এক সাক্ষাৎকারে তাঁর ছোটবেলার ক্ষুধার্ত দিনগুলির কথা তুলে ধরেন বিশ্বের অন্যতম ধনী এই ফুটবলার৷

বিশিষ্ট সাক্ষাৎকারে রোনাল্ডো বলেছিলেন, ‘আমার যখন ১১-১২ বছর বয়স৷ তখন আমাদের সে রকম অর্থ ছিল না। পেটভরে খেতেও পেতাম না৷ সে সময় খেলার জন্য আমি লিসবনে থাকতাম। আর তিন মাসে একবার করে মাদেইরার বাড়িতে যেতাম৷ সেই সময় আমার জীবন খুব কঠিন ছিল৷ লিসবনে যে স্টেডিয়ামে আমি থাকতাম, তার কাছেই একটা ম্যাকডোনাল্ডসের দোকান ছিল। আমরা বন্ধুরা প্রতিদিন রাত সাড়ে দশটা-এগারোটা নাগাদ ম্যাকডোনাল্ডসে চলে যেতাম। দোকানের পিছনের দরজায় নক করতাম। কোনও বার্গার পড়ে আছে কিনা, জিজ্ঞাসা করতাম৷’

রোনাল্ডো ও তাঁর কয়েকজন বন্ধুর জীবনে ত্রাতা হয়ে উঠেছিলেন ম্যকাডোনাল্ডসের তিন মহিলা। রোনাল্ডো বলেন, ‘এডনা এবং আরও দু’জন মহিলা আমাদের জন্য অসাধারণ ছিল। ওই তিনজনকে কখনও আমি পরে খুঁজে পাইনি। ম্যাকডোনাল্ডেসের সঙ্গে যুক্ত ছিল, এমন কয়েকজনের সঙ্গে আমি এ ব্যাপারে কথাও বলেছিলাম৷ কিন্তু তাঁরা কোনও সন্ধান দিতে পারেনি। ম্যাকডোনাল্ডসের ওই দোকানটাও বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এই সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে যদি আমি তাঁদের খুঁজে পাই, তাহলে আমি দারুণ খুশি হব৷’ শুধু তাই নয়, ওঁনাদের তাঁর লিসবন বা তুরিনের বাড়িতে ডিনারে আমন্ত্রণ জানাবেন বলেও জানান পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই তারকা ফুটবলার৷

পর্তুগিজ তারকার এই সাক্ষাৎকারের তিনেকের মধ্যে একজনের খোঁজ পাওয়া যায়। ওই তিন মহিলার মধ্যে একজনের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। পাওলা লেকা নামে লিসবনের ওই ম্যাকডোনাল্ডসের কর্মী পাওলা লেকা সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, ‘সপ্তাহে প্রায় প্রতিদিন রাতে ক্রিশ্চিয়ানো ও তার বন্ধুরা আমাদের ম্যাকডোলাল্ডসের পিছনের গেটের সামনে দাঁড়িতে থাকব৷ ম্যানেজারের অনুমতি নিয়ে বেঁচে যাওয়া হ্যামবার্গার আমরা ওদের হাতে তুলে দিতাম। এই গল্প আমার ছেলের কাছে করলেও সে বিশ্বাস করত না। কিন্তু আমার স্বামী জানে, রাতে আমাকে আনতে গিয়ে অনেক দিন সেও দেখেছিল রোনাল্ডো ও তার বন্ধুদের।’ কিন্তু শুক্রবার টুইট করে মর্গ্যান জানিয়েছেন, রোনাল্ডো যে তিনজন মহিলাকে খুঁজছে, পাওলা লেকা তাদের মধ্যে কেউ নয়৷