তুরিন: লিগ শিরোপা ঘরে তুললেও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে শেষরক্ষা হল না জুভেন্তাসের। রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্তে শুরুতে গোল হজম করায় কাল হল ইতালির এই ক্লাবের৷ ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডোর জোড়া গোলে ম্যাচ জিতলেও পরের রাউন্ডের টিকিট পেল জুভেন্তাস। অ্যাওয়ে গোলে তাদের পেছনে ফেলে কোয়ার্টার ফাইনালে চলে অলিম্পিক লিওঁ।

শুক্রবার শেষ ষোলোর ফিরতি লেগে ঘরের মাঠে ২-১ গোলে জেতে জুভেন্তাস। কিন্তু প্রথম লেগে লিওঁ ১-০ গোলে জেতায় দুই লেগ মিলে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ২-২। কিন্তু অ্যাওয়ে ম্যাচে গোল করায় শেষ আটের টিকিট হাতে পেয়ে যায় লিওঁ৷ আর চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে ছিটকে যায় জুভেন্তাস৷

এই জয়ের সেলিব্রেশন আরও একটু অন্যরকম হতে পারত লিওঁ গোলকিপাার অ্যান্তনি লোপেজের৷ কিন্তু করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে অ্যাওয়ে মাঠে দর্শকরা সেটা করা হয়নি তাঁর৷ তবে ফাঁকা স্টেডিয়ামে অ্যাডভাটাইজিং হোডিং লাফিয়ে স্টান্ডের উপর উঠে যাওয়া এবং জার্সির ব্যাজে চুম্বন করে শূন্যে ঘুসি মারা উপভোগ করেছে তাঁর সতীর্থরা৷

ম্যাচের পর লোপেজ বলেন, ‘এটা দারুণ জয়৷ অত্যন্ত কঠিন ছিল৷ আমাদের দলটা ব্যক্তিগত ও দলগতভাবে অবিশ্বাস্য৷ এটা পুরো দলের জয়৷’ কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াইয়ে শনিবার ম্যাঞ্চেস্টার সিটির বিরুদ্ধে৷ যারা শুক্রবার রাতে শেষোর লড়াইয়ে রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে শেষ আটে জায়গা করে নিয়েছে৷

তব এদিন জুভেন্তাস-লিওঁ ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দেয় শুরুতে মেমফিস ডিপাইয়ের পেনাল্টি গোল। মরণ-বাঁচন লড়াইয়ে ৮ মিনিটের মাথায় গোল খেতে বসেছিল জুভেন্তাস। তবে হোসাম আউয়ারের পোস্ট ঘেঁষে নেওয়া শট ঝাঁপিয়ে রুখে দেন গোলরক্ষক ভয়চেখ স্ট্যাসনি।

চার মিনিট বাদে বিতর্কিত গোলে এগিয়ে যায় লিওঁ। ডি-বক্সে ঢুকে পড়া আউয়ারকে স্ল্যাইড-ট্যাকল করেন রদ্রিগো বেন্তানকুর। টিভি রি-প্লেতে পরিষ্কার ট্যাকলই মনে হল৷ কারণ বলে পা-লাগিয়েছিলেনও তিনি। তবে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি৷ ভিএআরেও সিদ্ধান্ত একই থাকে। ঠাণ্ডা মাথার পেনাল্টি থেকে বল জালে পাঠান ডাচ ফরোয়ার্ড ডিপাই।

এরপর ১৯ মিনিটে দারুণ সুযোগ তৈরি করেছিলেন বের্নারদেস্কি। ডানদিকের বাইলাইন ধরে গোলকিপার ছাড়াও দু’জনকে কাটিয়ে চলে যান পোস্টের খুব কাছে। তবে তাঁর শট নেওয়ার আগের মুহূর্তে লিওঁ-কে বিপদমুক্ত করেন ডিফেন্ডার মার্সেলো। ৪০ মিনিটে রোনাল্ডোর দারুণ ফ্রি-কিক ঝাঁপিয়ে রুখে দেন গোলরক্ষক লোপেজ। এর তিন মিনিট পর রোনাল্ডোর স্পট-কিকে সমতায় ফেরে জুভেন্তাস। পিয়ানিচের ফ্রি-কিকে বল ডিপাইয়ের বুকের সঙ্গে লেগে থাকা হাতে লাগলে পেনাল্টি দেন রেফারি।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে জুভেন্তাসের পারফরম্যান্স ছিল অতি সাধারণ৷ তবে সিআর সেভেনের একক নৈপুণ্যে এগিয়ে যায় ইতালির ক্লাবটি। ডি-বক্সের বাইরে বল পেয়ে এক-পা দু-পা এগিয়ে আচমকা জোরালো শট নেন তিনি। বল ঝাঁপিয়ে পড়ে আটকানোর চেষ্টা করলেও গোলরক্ষকের হাতে লেগে বল জালে জড়িয়ে যায়।

এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এটি রোনাল্ডোর চতুর্থ গোল। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে তাঁর গোল হল রেকর্ড ১৩০টি। চলতি মরশুমে সব প্রতিযোগিতা মিলে জুভেন্তাসের জার্সিতে রোনাল্ডোর গোলের সংখ্যা হল ৩৭টি।

ম্যাচের বাকি সময়ে জুভেন্তাস কয়েকটি আক্রমণ শানালেও তাতে ধার ছিল না৷ সুযোগও মিলেছিল৷ কিন্তু রোনাল্ডো ও হিগুয়েইনের লক্ষ্যভ্রষ্ট হেডে গোলের সমীকরণ মেলাতে পারেনি জুভেন্তাস। তাই জিতেও ইউরোপ সেরার মঞ্চ থেকে ছিটকে পড়ার হতাশায় মাঠ ছাড়েন রোনাল্ডোরা৷

পপ্রশ্ন অনেক: নবম পর্ব

Tree-bute: আমফানের তাণ্ডবের পর কলকাতা শহরে শতাধিক গাছ বাঁচাল যারা