সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায়: অনেকেই সম্ভবত মধ্য কলকাতায় মহাত্মা গান্ধী রোড মেট্রো স্টেশনের পাশে অবস্থিত মহাজাতি সদনটি দেখেছেন। ওই প্রেক্ষাগৃহে অনুষ্ঠান দেখতে হয়তো কেউ কেউ গিয়েছেন। তবে মনে রাখা উচিত এটি কিন্তু আর পাঁচটা নিছক প্রেক্ষাগৃহ নয় ৷

এর পিছনে রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস৷ এই প্রেক্ষাগৃহের সঙ্গে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর একটা সম্পর্ক ছিল।১৯৩৯ সালের ১৯ অগস্ট সুভাষচন্দ্র, বিধানচন্দ্র রায় প্রমুখ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের উপস্থিতিতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মহাজাতি সদনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন।

তবে তার আগে ১৯৩৭ সালের মে মাসে সুভাষচন্দ্র বসু তাঁদের এলগিন রোডের বাড়িতে তাঁর বন্ধু অ্যাডভোকেড নৃপেন্দ্রচন্দ্র মিত্র এবং স্থানীয় যুবকদের নিয়ে একটি সভা ডেকেছিলেন। সেই সভায় সুভাষচন্দ্র কলকাতার নাগরিকদের সভা সমিতি ডাকার জন্য উপযুক্ত একটি বড় প্রেক্ষাগৃহ স্থাপনের ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেন।

এর কিছুদিন পর সুভাষচন্দ্র মধ্য কলকাতায় সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ (অধুনা চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউ) ও হ্যারিসন রোডের (অধুনা মহাত্মা গান্ধী রোড) সংযোগস্থলের কাছে কলকাতা পৌরসংস্থার ৩৮ কাঠা জমির সন্ধান পান। এই স্থানটিই সুভাষচন্দ্র প্রস্তাবিত প্রেক্ষাগৃহ নির্মাণের জন্য নির্বাচন করেন।

তাঁর আবেদনে সাড়া দিয়ে কলকাতা পৌরসংস্থা ১ টাকা লিজে জমিটি সুভাষচন্দ্রকে দিয়ে দেয়৷ সেই প্রস্তাবিত প্রেক্ষাগৃহের নামকরণের জন্য অনুরোধ করা হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে। এরপর রবীন্দ্রনাথ প্রেক্ষাগৃহের নামকরণ করেন “মহাজাতি সদন”।

শান্তিনিকেতনের বিশিষ্ট স্থপতি সুরেন্দ্রনাথ কর মহাজাতি সদনের নকশা তৈরির দায়িত্ব পান। তারপর সুভাষচন্দ্র রবীন্দ্রনাথকেই এই প্রেক্ষাগৃহের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের অনুরোধ জানান।

এদিকে ১৯৪১ সালে সুভাষচন্দ্র বসু দেশত্যাগ করলে মহাজাতি সদন নির্মাণের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। যেহেতু ওই সময় ব্রিটিশ সরকার তাঁকে ফেরার ঘোষণা করে এবং তাঁর নামে থাকা মহাজাতি সদনের জমির লিজও বাতিল করে দেয়।

তখন সুভাষচন্দ্রের দাদা শরৎচন্দ্র বসু ও নৃপেন্দ্রচন্দ্র মিত্র ব্রিটিশ সরকারের এহেন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে আপিল করেন। আদালতের রায়ে অবশ্য এর কিছুদিন বাদে এভাবে লিজ বাতিল বেআইনি ঘোষিত হয়। ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হয়। ১৯৪৮ সালে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় “মহাজাতি সদন বিল” পাস হয়।

এরপর তদনীন্তন মুখ্যমন্ত্রী বিধানচন্দ্র রায় মহাজাতি সদন নির্মাণের কাজ শুরু করেন। ১৯৫৮ সালের ১৯ অগস্ট তিনিই মহাজাতি সদনের দ্বারোদ্ঘাটন করেছিলেন। এই মহাজাতি সদনের মূল ভবনটি চারতলা। এই বাড়ি মাঝখানে ১৩০০ আসন বিশিষ্ট প্রেক্ষাগৃহটি রয়েছে।

তাছাড়া তার চারপাশে কয়েকটি হল রয়েছে যেখানে নানা প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হয়েছে। একতলা মঞ্চের ডান পাশে একটি বড় হলে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন সংক্রান্ত একটি স্থায়ী প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা আছে। এছাড়া অন্যান্য হলঘরগুলিতে তৈলচিত্র আলোকচিত্র প্রদর্শনের ব্যবস্থা রয়েছে।

তাছাড়া মহাজাতি সদনের মূল প্রেক্ষাগৃহের প্রবেশ পথের দু’ধারে রয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং সুভাষচন্দ্র বসুর দুটি আবক্ষ মূর্তি। এছাড়া সদনের চার তলায় একটি ১০০ আসন বিশিষ্ট সভা কক্ষ রয়েছে।

মহাজাতি সদন প্রতিষ্ঠার সময় থেকে সেখানে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন সংক্রান্ত একটি গ্রন্থাগার ছিল।

১৯৬২ সালে বিধান রায়ের মৃত্যুর পর তার পরিবারের পক্ষ থেকে ওনার ব্যক্তিগত বইগুলি সেখানে দান করা হয়। এরপরে সেখানকার অছি পরিষদ ওই গ্রন্থাগারটির নাম দেয় মহাজাতি সদন বিধানচন্দ্র গ্রন্থাগার। সেখানে এখন প্রায় ২০,০০০ বই রয়েছে।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।