নয়াদিল্লি: মৃত্যুটা স্বাভাবিক নয় সেই সন্দেহ ছিল প্রথম থেকেই। পুলিশ রিপোর্ট পাওয়ার পর তা একরকম নিশ্চিতই হয়ে গেল শুক্রবার। এদিন দিল্লি পুলিশের এক সূত্র দাবি করেছে, উত্তরপ্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নারায়ণ দত্ত তিওয়ারির ছেলে রোহিত শিখর তিওয়ারির মৃত্যু স্বাভাবিক মৃত্যু নয়। সম্ভবত বালিশ জাতীয় কিছু দিয়ে তাকে দম বন্ধ করে তাকে মেরে ফেলা হয়েছে।

দক্ষিণ দিল্লির অভিজাত এলাকা ডিফেন্স কলোনিতে মা উজ্জলার সঙ্গেই থাকতেন বছর চল্লিশের রোহিত। মঙ্গলবার নিজের চিকিৎসা করাতে হাসপাতালে যান উজ্জলা। হঠাৎ ফোন আসে রোহিত গুরুতর অসুস্থ। তার নাক থেকে রক্ত পড়ছে। খবর পেয়েই রোহিতকে আনতে অ্যাম্বুলেন্স পাঠান উজ্জলা। কিন্তু রোহিতকে হাসপাতালে আনলে চিকিৎসকরা জানান, অনেক আগেই মৃত্যু হয়েছে তার। প্রাথমিকভাবে তারা জানান, হৃদ রোগেই মৃত্যু হয়েছে তার। দক্ষিণ দিল্লির ম্যাক্স সাকেত হাসপাতালে মৃত্যু হয় রোহিতের।

মৃত্যুর পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে উজ্জলা শর্মা বলেন, তার ছেলের মৃত্যু সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। এতে কোনও রহস্য নেই। কিন্তু সেই সঙ্গেই অলক্ষ্যে সন্দেহের বীজ পুঁতে দেন উজ্জলা। জানান, ব্যক্তিগত জীবনে কিছু মানুষের জন্য হতাশা গ্রাস করেছিল তার ছেকেকে।

মঙ্গলবার ছেলের মৃত্যুর দিনই তিনি জানান, “ওর মৃত্যু স্বাভাবিক, আমার কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু আমার ছেলে তার ব্যক্তিগত জীবনে কিছু মানুষের জন্য হতাশাগ্রস্থ ছিল। যদিও সেটা আমরা পরে বুঝতে পারি।”

তিনি এও জানান, ” বিয়ের প্রথম দিন থেকেই রোহিত ও তার স্ত্রীর মধ্যে বনিবনা ছিল না। যদিও তাদের বিয়ে ভালবেসে হয়েছিল। “

এরপর মহিলা পুলিশের উপস্থিতিতে রোহিতের দক্ষিণ দিল্লির বাড়িতে হাজির হয় ক্রাইম ব্রাঞ্চের তদন্ত কারী আদিকারিক রা।

খুনের মামলা হিসেবেই তদন্তের ভার গিয়ে পরে দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চের ওপর। শুক্রবার তদন্তকারী অফিসাররা রোহিতের বাড়িতে যান তদন্ত করতে। পরিবারের লোকজন এবং বাড়ির পরিচারকদের জেরা করেন। তাছাড়া ফরেন্সিক দল যায় তার বাড়িতে। পুলিশ জানায়, রোহিতের বাড়ির ৭ টি সিসি টিভি ক্যামেরার ২ টি অকেজো ছিল। বাকি ৫ টি ক্যামেরার একটিতে পুলিশ একটি ফুটেজ উদ্ধার করে। সেই ফুটেজে দেখা গিয়েছে, মৃত্যুর আগের দিন রাতে অপ্রকৃতিস্থ অবস্থায় ছিলেন তিনি। দেওয়াল ধরে নিজের ঘরে পউছতেও দেখা গিয়েছে তাকে। সম্প্রতি ভোট দিতে উত্তরাখণ্ড গিয়েছিলেন রোহিত। সোমবারই ফেরেন দিল্লিতে। তদন্তে বাড়ির পরিচারকদের কাছ থেকে পুলিশ জানতে পেরেছে ঘতনার সময় রোহিতের স্ত্রী অপুরবা ও এক খুড়তুতো ভাই ছিলেন।

পিতৃত্বের পরিচয় পেতে প্রবীণ কংগ্রেস নেতা নারায়ণ দত্ত তিওয়ারিকে কোর্টে টেনে নিয়ে গিয়েছিলেন রোহিত। ২০০৭ সালে মামলার পর দীর্ঘ লড়াই। পরে জেতেনও। সেই সময় থেকেই সংবাদমাধ্যমের নজরে আসেন রোহিত। শুরুতে এন ডি তিওয়ারি রোহিতকে নিজের ছেলে হিসেবে মানতে রাজি হননি। কিন্তু ডিএনএ পরীক্ষার পরে, আদালতের রায়ে রোহিতকে নিজের ছেলে হিসেবে স্বীকার করে নিতে হয় তাকে। তত দিনে অবশ্য কেটে গিয়েছে সাতটি বছর। পরে তাঁর মা উজ্জ্বলাকে বিয়েও করেন তিনি। গত বছর অক্টোবরে মৃত্যু হয় কংগ্রেস নেতা এন ডি তিওয়ারির।

ময়না তদন্তের রিপোর্ট বলছে, রোহিতের মৃত্যু অস্বাভাবিক কারণে ঘটেছে। মেডিক্যাল রিপোর্ট বলছে, শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলা হয়েছে তাকে। দেখা যাক, তদন্তের এই রিপোর্ট কিভাবে চিনিয়ে দেয় রোহিতের খুনিদের। জীবন যুদ্ধে জয় ছিনিয়ে নেওয়া রোহিত বিচার পান কিনা জীবনের ওপারে!