সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়: ১৯৮৬-র শারজার বিকেল বুধের সন্ধ্যায় ফিরে এল হ্যামিলটনে। শেষ বলে দরকার চার রান। আজ থেকে ৩৪ বছর আগে চেতন শর্মার বলে বিরাট ছক্কা হাঁকিয়ে পাকিস্তানকে ম্যাচ জিতিয়েছিলেন জাভেদ মিয়াঁদাদ। কিন্তু হ্যামিলটনের রাতটা ভারতের নামেই লেখা ছিল।সেদিন এক শর্মার বলে হারতে হলেও এদিনের ক্লাইম্যাক্সে হৃদয় জিতলেন বিরাটের দলের শর্মা।

তিনি রোহিত। করলেন মোহিত। আজ রাতের যাত্রা না দেখতে গেলেও হবে। হ্যামিলটনে যাত্রা হোক বা নাটক, সবকিছুরই নায়ক হয়ে রইলেন ‘হিটম্যান’। মিয়াঁদাদ এক ছক্কায় মন ভেঙেছিলেন ভারতের। জোড়া ছক্কায় রোহিত যেন মিয়াঁদাদের ‘বাপ’। ডাবল ছক্কায় হৃদয় জিতলেন ১৩০কোটির।

কি নাটকটাই না হল সারা ম্যাচ জুড়ে। প্রথমেই রাহুল – হিটম্যান জুটিতে বড় রানের পথে ছিল ভারত। হঠাত ছন্দপতন। অবশেষে ছোট মাঠে ১৮০ রানের টার্গেট ছিল কিউইদের সামনে। ব্যাট করতে নেমে একাই ম্যাচ নিয়ে যাওয়া কিউই অধিনায়ক যখন প্যাভিলিয়নে ফিরলেন তখন তাদের ২ রান দরকার সিরিজে বেঁচে থাকতে। নাটকে ভরা ম্যাচে শেষ বলে এক রান দরকার ছিল। শামির বলে রস টেলর বোল্ড। সুপার ওভারে গেল ম্যাচ।

আবার ব্যাট করতে এসে ছন্দ হারিয়ে ফেলা বুমরাহকে বেধড়ক পিটিয়ে ভারতকে ৬ বলে ১৮ রানের টার্গেট দিল নিউজিল্যান্ড। সিরিজ জিততে হলে শেষ ২ বলে দরকার ছিল ১০। চার ছক্কা ছাড়া উপায় নেই। পুট-এ কাজ চলবেই না। উলটো দিকে যখন টিম সাউদি। অতি বড় ভারতীয় সমর্থকও আশা করেননি দু’বলের দুটোই যাবে মাঠের বাইরে। কিন্তু ক্রিকেট দেবতা যেন লিখেই রেখেছিলেন, হ্যামিলটনে দু ম্যাচে রান না পাওয়া ‘শর্মা জি কা বেটা’-কেই নায়ক করবেন তিনি। পঞ্চম বলে রোহিত যে ছয়টা মারলেন মনে হচ্ছিল যেন বল অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে পড়বে। যাক, শেষ বলে দরকার ছিল চার রান। ঠিক শারজার মতোই পরিস্থিতি।

সেখানে বল হাতে ভারতকে ডুবিয়েছিলেন চেতন শর্মা। বিশ্বকাপে ভারতের প্রথম হ্যাট্রিক নেওয়া বোলারকে সবাই মনে রেখেছে ওই কুখ্যাত ম্যাচের জন্য। কাকতালীয় ভাবে ১৯৮৫-র বিশ্বকাপে চেতন শর্মা সেই হ্যাট্রিক করেছিলেন নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধেই। ৩৪ বছর বাদ আরেক শর্মা ভারতকে বিরাট ছক্কা হাঁকিয়ে শুধু ম্যাচই জেতালেন না। ইতিহাসের পাতায় ভারতের নামটি আরও একবার খোদাই করিয়ে দিলেন। চেতন শর্মা বিরাট ছক্কা খেয়ে বসায় ১৯৮৫ সালে অস্ট্রেলেশিয়া কাপ জেতেনি ভারত। ২০২০ সালে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে রোহিতের বিরাট ছক্কায় প্রথমবার টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতে নিল ভারত।

প্রসঙ্গত দীনেশ কার্ত্তিক শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে নিদহাস ট্রফি জেতানোর সিরিজে অধিনায়ক ছিলেন রোহিতই। ঘটনাচক্রে রোহিত সেদিন প্রেস কনফারেন্সে জানিয়েছিলেন, তিনি দীনেশের ছক্কা দেখতেই পারেননি , কারণ তিনি শেষ বলের আগে সুপার ওভার হতে পারে ভেবে ড্রেসিংরুমে চলে গিয়েছিলেন তৈরি হতে। আক্ষেপ ছিল বোধহয়। আজ নিজেই ছক্কা হাঁকিয়ে সব কিছু পুষিয়ে নিলেন সুদে আসলে।