মুম্বই: ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট লিগ আইপিএলে সর্বাধিক রানসংগ্রাহকের তালিকায় দ্বিতীয়স্থানে তাঁর নাম। একদা জাতীয় দলেও মিডল অর্ডারে অন্যতম ভরসার নাম ছিল সুরেশ রায়না। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ফিল্ডিং-ক্যাচিংয়ে তাঁর বাড়তি দক্ষতা একসময় তাঁকে দলের নির্ভরযোগ্য ক্রিকেটার করে তুলেছিল। এহেন রায়না ২০১৮ পর থেকে হঠাতই ছিটকে গিয়েছেন জাতীয় দলের কক্ষপথ থেকে। কিন্তু পুনরায় ভারতীয় ক্রিকেটের মূলস্রোতে দরকার রায়নাকে। এমনটাই জানালেন সংক্ষিপ্ত ফর্ম্যাটে ভারতীয় দলের সহ-অধিনায়ক রোহিৎ শর্মা।

ভারতীয় দলের ক্রিকেটারদের বিদেশের ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট গুলোতে খেলতে দেওয়া উচিৎ। যাতে সেখানে পারফর্ম করে তাঁরা জাতীয় দলের দরজায় কড়া নাড়তে পারে। সম্প্রতি একদা সতীর্থ ইরফান পাঠানের সঙ্গে লাইভ চ্যাট সেশনে এমনই দাবি পেশ করেছেন রায়না। পাশাপাশি জাতীয় দলের প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচক যেভাবে তাঁকে না জানিয়ে দল থেকে ছেঁটে ফেলেছিলেন, সেটা একেবারেই হজম হয়নি তাঁর। দিনকয়েক আগে জানিয়েছিল রায়না।

এবার রোহিত শর্মার সঙ্গে লাইভ চ্যাট সেশনে জাতীয় দল থেকে তাঁর বাদ পড়া নিয়ে অনেক কথা হল রায়নার। যেখানে রায়নার বাদ পড়ার বিষয়টিতে ব্যথিত হিটম্যানও। যেখানে রোহিত নিজে জানিয়েছেন, টিম ম্যানেজমেন্টও চায় রায়না দলে ফিরুক। কিন্তু এর পিছনে যে তাঁর কোনও হাত নেই। তাই ইচ্ছা থাকলে রায়নাকে দলে ফেরাতে অপারক রোহিত। হিটম্যানের কথায়, ‘দীর্ঘদিন ধরে খেলার পরে এভাবে জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ার বিষয়টা হজম করা সত্যিই কঠিন। আমরা নিজেরা প্রায়শই আলোচনা করি যেভাবে হোক রায়নাকে দলে দরকার।’

রোহিতের রায়নাকে বলেন, ‘তোমার অভিজ্ঞতা তোমার সম্পদ। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বোলিং-ফিল্ডিং দু’টোই তোমার রয়েছে। আমরা চাই যেভাবেই হোক তুমি আবার দলে ফেরো। তবে এগুলো আমাদের হাতে নেই।’

উল্লেখ্য, ২০১১ ভারতের বিশ্বজয়ী দলের সদস্য ছাড়াও ২০১৩ ইংল্যান্ডে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ী দলের সদস্যও ছিলেন রায়না। তালটা কাটতে শুরু করে ২০১৫ বিশ্বকাপের পর থেকে। এরপরই জাতীয় দলে অনিয়মিত হয়ে পড়েন আন্তর্জাতিক টি২০’তে দেশের হয়ে প্রথম শতরানকারী এই বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যান। ২০১৮ ভারতের ইংল্যান্ড সফরে জাতীয় দলে তাঁর শেষ আবির্ভাব। ২০১৯ বিশ্বকাপেও একবারের জন্য ভাবা হয়নি তাঁর নাম।

এপ্রসঙ্গে রায়না বলেন, চোট অস্ত্রোপচারের গেরোয় তাঁকে দল থেকে বাদ যেতে হয়েছিল। তবে সিএসকে তারকার কথায় এখনও তাঁর মধ্যে অনেক ক্রিকেট মজুত রয়েছে। কিন্তু দল নির্বাচনের বিষয়টি তাঁর হাতে নেই একেবারেই। উল্লেখ্য, আইপিলে পারফরম্যান্সের মধ্যে দিয়ে ফের নিজেকে প্রমাণের চেষ্টায় মরিয়া ছিলেন রায়না। কিন্তু করোনার জাঁতাকলে সেই সম্ভাবনাও অনিশ্চিত এখন।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প