ভাইজ্যাগ: বিশ্বের প্রথম ওপেনিং ব্যাটসম্যান হিসেবে একই ক্যালেন্ডার ইয়ারে ১০টি শতরান গড়ার নজির গড়লেন ‘হিটম্যান’। ওয়ান-ডে ক্রিকেটে রোহিত শর্মার ২৮তম শতরান সঙ্গে আরেক ওপেনার কেএল রাহুলের ঝকঝকে সেঞ্চুরি, সবমিলিয়ে দুই ওপেনারের জোড়া শতরানে ভাইজ্যাগে দ্বিতীয় ওয়ান-ডে’তে রানের পাহাড়ে চড়ার ইঙ্গিত ভারতীয় দলের।

প্রথম ম্যাচে হারের পর ভাইজ্যাগ ওয়ান-ডে ভারতীয় দলের কাছে সিরিজে টিকে থাকার লড়াই। যদিও ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচে এদিন টসভাগ্য সঙ্গ দেয়নি ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলিকে। প্রথম ম্যাচের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে ভাইজ্যাগেও টস জিতে ভারতীয় দলকে প্রথমে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক কায়রন পোলার্ড। কিন্তু ক্যারিবিয়ান অধিনায়কের প্রথমে ফিল্ডিং নেওয়ার সিদ্ধান্ত এদিন ব্যুমেরাং সাব্যস্ত হতে থাকে সময় গড়ানোর সাথে সাথে। ক্রমেই ক্যারিবিয়ান বোলারদের উপর জাঁকিয়ে বসেন দুই ভারতীয় ওপেনার।

শুরু থেকেই শেলডন কটরেল, আলজারি জোসেফদের বিরুদ্ধে আক্রমণের পথ বেছে নেন রোহিত-রাহুল। প্রথম ম্যাচে ব্যাট হাতে ব্যর্থ হওয়ার পর দ্বিতীয় ম্যাচে ব্যাট হাতে জ্বলে উঠলেন রোহিত। যদিও ১৬তম ওভারে রোহিতের আগেই ৪৬ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন রোহিতের সঙ্গী রাহুল। প্রথম ম্যাচে মাত্র ৬ রানে আউট হওয়ার পর দ্বিতীয় ম্যাচে দলকে নির্ভরতা জোগালো দক্ষিণী ওপেনারের চওড়া উইলো। হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করার নিরিখে রোহিত ছিলেন একটু স্লথ। তাঁর হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করার আগেই ২১তম ওভারে দলের রান ১০০-র গন্ডি পেরিয়ে যায়।

২২তম ওভারে কিমো পলকে সীমানার বাইরে পাঠিয়ে ওয়ান-ডে ক্রিকেটে ৪৩তম অর্ধশতরানটি পূর্ণ করেন রোহিত। এরপরও ক্যারিবিয়ানদের বোলারদের উপর দুই ভারতীয় ওপেনারের শাসন অব্যাহত থাকে। খ্যারি পিয়ের, আলজারি জোসেফদের সাধারণ স্তরে নামিয়ে এনে ৩৪তম ওভারে ওয়ান-ডে ক্রিকেটে ২৮তম সেঞ্চুরিটি পূর্ণ করেন ‘হিটম্যান’। ১০৭ বলে ১১টি চার ও ২টি ছয়ের সাহায্যে ৩৪ তম ওভারে শতরান পূর্ণ করেন কোহলির ডেপুটি। অর্ধশতরানের তুলনায় স্ট্রাইক রেটের গতি অনেকটাই বাড়িয়ে রাহুলের আগে তিন অঙ্কের রানে পৌঁছে যান রোহিত। ওই একই ওভারে দ্বিশতরানের গন্ডি পেরিয়ে যায় মেন ইন ব্লু।

৩৭তম ওভারে আলজারি জোসেফের ডেলিভারি বাউন্ডারিতে ঠেলে কেরিয়ারের দ্বিতীয় ওয়ান-ডে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন রাহুল। যদিও এরপর তাঁর ইনিংস বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ওই একই ওভারে রস্টন চেজের হাতে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নমুখো হন তিনি। ১০৪ বলে রাহুলের ১০২ রানের ইনিংস সাজানো ছিল ৮টি চার ও ৩টি ছয়ে। ওপেনিং জুটিতে ওঠে ২২৭ রান। উলটোদিকে শতরান পূর্ণ করে আরও মারমুখী হয়ে ওঠেন ‘হিটম্যান’। ১৩২ বলে দেড়শতরানের গন্ডি পার করে ফেলেন বিশ্বকাপের সর্বাধিক রানসংগ্রাহক।

শেষমেষ ১৩৮ বলে ১৫৮ রানের ইনিংস খেলে আউট হন রোহিত (১৭টি চার ও ৫টি ছয়)। এর আগে শূন্য রানে ‘গোল্ডেন ডাক’ হন অধিনায়ক। প্রথম ম্যাচের পর দ্বিতীয় ম্যাচেও ব্যর্থ বিরাট। ৪৫ ওভার শেষে ভারতের রান ৩ উইকেট হারিয়ে ৩০৮। বর রানের লক্ষ্যে ক্রিজে শ্রেয়স আইয়ার অপরাজিত ২০ বলে ২০ রান করে। তার সঙ্গী মারমুখী পন্ত অপরাজিত ৭ বলে ১৪ রানে।