দুবাই: সৌরভ তিওয়ারির পরিবর্তে সুযোগ পেয়ে প্রথম ম্যাচেই বাজিমাত। তাঁর ৫৮ বলে ৯৯ রানে ভর করে একসময় ব্যাঙ্গালোরের ২০২ রান তাড়া করে জয় প্রায় হাসিল করে নিয়েছিল মুম্বই। কিন্তু শেষ অবধি সোমবার দুবাইয়ে এক থ্রিলার লড়াইয়ের শেষে ‘ট্র্যাজিক নায়ক’ হয়েই রয়ে যান ইশান কিষান। নির্ধারিত ২০ ওভারে টাই হওয়ায় সুপার ওভারে গড়ায় ম্যাচ। সুপার ওভারে মুম্বইকে হারিয়ে বাজিমাত করে যায় ব্যাঙ্গালোর।

সুপার ওভারে মাত্র ৮ রান তাড়া করে জয় কঠিন হয়নি কোহলির আরসিবির জন্য। কিন্তু সুপার ওভারে মুম্বইয়ের হারের কারণ হিসেবে তাদের স্ট্র্যাটেজিকেই কাঠগড়ায় তুলছেন অনেকে। দুর্দান্ত ইনিংস খেলার পরেও সুপার ওভারে কেন ব্যাট হাতে নামানো হল না ইশান কিষানকে। পরিবর্তে হার্দিক পান্ডিয়াকে নামানোর যৌক্তিকতা নিয়ে উঠে যায় হাজারো প্রশ্ন। কিন্তু কেন ইশানকে নামানো হয়নি তার কারণ জানালেন অধিনায়ক রোহিত শর্মা।

হিটম্যান জানিয়েছেন, ‘দুর্দান্ত একটা ম্যাচ ছিল এটা। আমরা যখন ব্যাট হাতে মাঠে নামলাম তখন আমরা ম্যাচে ছিলাম না। কিন্তু ইশানের অনবদ্য ইনিংস আমাদের ম্যাচে ফিরিয়ে আনে। পলিও ব্যাট হাতে ছিল দারুণ। তবে শুরুটা ভালো না হলেও আমার বাকি ব্যাটসম্যানদের উপর ভরসা ছিল।’ রোহিত আরও বলেন, ‘পলি যতক্ষণ ক্রিজে থাকে ততক্ষণ যা কিছু ঘটে যেতে পারে। সঙ্গে ইশানও যেহেতু ভালো হিট করতে পারে তাই আমাদের আশা ছিল। প্রতিপক্ষ শেষ অবধি নার্ভ ধরে রাখলেও আমরা যথেষ্ট চাপে ফেলে দিয়েছিলেম ওদের।’

কিন্তু কেন সুপার ওভারে নামানো হল না ইশানকে। রোহিত ম্যাচ শেষে জানালেন, ‘ইশান ভীষণভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল। ও ফ্রেশ অনুভব করছিল না। তাই হার্দিকের প্রতি আমরা ভরসা রেখেছিলাম যেহেতু ওর বড় হিট করার ক্ষমতা আছে।’

সোমবার সুপার ওভারে দলের ম্যাচ জয়কে প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন আরসিবি অধিনায়ক বিরাট কোহলি। ম্যাচের পর সাংবাদিক সম্মেলনে বিরাট জানালেন, ‘আমার কাছে বলার কোনও ভাষা নেই। এটা একটা রোলার-কোস্টার ম্যাচ ছিল। ব্যাট হাতে আমরা দারুণভাবে ২০০ রান পেরনোর পর বল হাতেও শুরুটা ভালোই ছিল। গতবারের চেয়ে একেবারে ভিন্ন ফলাফল তাই না?’ আরসিবির সোমবারের জয় ব্যাট হাতে তৈরি করে দিয়েছিলেন নিঃসন্দেহে এবি ডি’ভিলিয়ার্স। তাঁর ২৪ বলে ৫৫ রানের ইনিংসের পাশাপাশি আরও একবার ব্যাট হাতে উজ্জ্বল ওপেনার দেবদূত পারিক্কল। ৫৪ রান আসে তাঁর ব্যাট থেকে। আরেক ওপেনার ফিঞ্চও অর্ধশতরান করেন। সাংবাদিক সম্মেলনে প্রোটিয়া ব্যাটসম্যানকে প্রশংসায় ভরিয়ে বিরাট জানান, ‘আমার মনে হয় সেও দীর্ঘ বিরতির পরেই খেলতে এসেছে। ও এমন কিছু শট খেলল যা এককথায় অসাধারণ।’

দুবাইয়ের আর্দ্রতায় ক্লান্ত এবিও ম্যাচ শেষে তাঁর ম্যাচ সেরার পুরস্কার গ্রহণ করতে পারেননি। পরিবর্তে অধিনায়কই সেই সম্মান গ্রহণ করেন। সুপার ওভারে এবি’র সঙ্গে তাঁর ব্যাটে নামা প্রসঙ্গে কোহলি বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম বুমরাহ লম্বা বাউন্ডারির ফায়দা তোলার চেষ্টা করবে। তাই দৌড়ে দু’রান করে সংগ্রহ করার কথা ভেবে এবি’র সঙ্গে আমার কথাই মাথায় এসেছিল। হার্দিক এবং পোলার্ডের বিরুদ্ধে সাইনির সুপার ওভারটা অনবদ্য ছিল।’

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।