চট্টগ্রাম: আন্তর্জাতিক মহল আলোড়িত, কারণ শুরু করা গেল না বহু আলোচিত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বাংলাদেশ থেকে মায়ানমারে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রথম পর্ব। ফলে থমকে গিয়েছে এই প্রক্রিয়া।

জীবনের ভয় রয়েছে। এই যুক্তিতেই আর দেশে অর্থাৎ মায়ানমারে ফিরতে চাইছেন না রোহিঙ্গারা। বুধবার বাংলাদেশের ঘুমধুম সীমান্ত চেকপোস্ট দিয়ে প্রথম দফায় ৩ হাজারের বেশি রোহিঙ্গাকে পাঠানোর প্রক্রিয়া থমকে গেল। কারণ কোনও রোহিঙ্গাই সেখানে উপস্থিত হয়নি।

বিবিসি জানাচ্ছে, বুধবার বহু প্রতীক্ষিত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফেরত পাঠানো নিয়ে মায়ানমার ও বাংলাদেশের সীমান্তে জড়ো হয়েছিলেন চিন সহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা। ছিল বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে বাস ও খাওয়ার প্রস্তুতি। কিন্তু তা ভেস্তে গিয়েছে। এর আগে গত বছর নভেম্বর মাসে একই রকমের একটি উদ্যোগ রোহিঙ্গাদের অনাগ্রহের কারণেই ভেস্তে যায়।

সরকারি আধিকারিকরাও এই কথা স্বীকার করে নিয়েছেন। রয়টার্সের খবর, রোহিঙ্গা শরণার্থীরা প্রথমে মায়ানমারের নাগরিকত্ব চেয়েছেন। সেই সঙ্গে তারা জীবনের ভয় পাচ্ছেন। দাবি মানা না হলে তারা দেশে ফিরবেন না অবস্থানে অনড়।

এদিকে মায়ানমার থেকে বাংলাদেশে ঢুকে পড়া রোহিঙ্গাদের সংখ্যা ১১ লক্ষের বেশি। বাংলাদেশের চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, টেকনাফে তৈরি হয়েছে শরণার্থী শিবির। বিশ্বের সব থেকে বড় শরণার্থী শিবির এটি।

রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো নিয়ে বাংলাদেশ সরকার বারে বারে মায়ানমার সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা চালায়। কিন্তু তা ভেস্তে যায়। রাষ্ট্রসংঘেও তীব্র সমালোচিত হয় মায়ানমার সরকার ও দেশটির শীর্ষ নেত্রী আউং সান সু কি।

২০১৭ সালে মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশে তীব্র গোষ্ঠী সংঘর্ষের কারণে শুরু হয় রোহিঙ্গাদের দেশ ছাড়ার পালা। রাখাইনের লাগোয়া বাংলাদেশের চট্টগ্রামে ঢুকতে শুরু করে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা। মায়ানমার সরকারের অভিযোগ, রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলা চালিয়েছিল পুলিশ চৌকিতে। তার পর শুরু হয় সেনা অভিযান। সেই অভিযানে গণহত্যা ও গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে বাংলাদেশ সরকার লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গাকে প্রাথমিক আশ্রয় দিতে পারলেও পরে জানায় দ্রুত তাদের ফিরিয়ে নিতে হবে। দীর্ঘ টালবাহানার পরে বুধবার ছিল প্রথম দফার ফেরত প্রক্রিয়া। কিন্তু জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কোনও রোহিঙ্গা আর মায়ানমারে তাদের ভিটে মাটিতে ফিরতে রাজি নয়।