চট্টগ্রাম: আন্তর্জাতিক মহল তাকিয়ে। কিন্তু পরিস্থিতি খুব একটা আশাপ্রদ নয়। অন্তত রোহিঙ্গা শিবিরের। তাঁরা আশঙ্কিত, দেশ অর্থাৎ মায়ানমারে ফিরে গেলে হয়ত মৃত্যুও হতে পারে। পূর্ণ নাগরিকত্বের দাবি যদি সরকার না মানে তাহলে তাঁরা ফিরতে চাননা।

রয়টার্স ও এএফপির খবর, মায়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সংখ্যা ১১ লক্ষের বেশি। তাদের চিহ্নিত করে পরিচয় পত্র সহ ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া ঘিরে সীমান্ত এলাকায় রয়েছে উত্তেজনা। প্রথম দফায় ৩ হাজার ৫৪০ রোহিঙ্গাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। বিষয়টির দেখভাল করেছে রাষ্ট্রসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর (UNHCR)।

ঘুম উড়ে গিয়েছে বিতর্কিত ঘুমধুম সীমান্তে থাকা বিজিবি রক্ষীদের। কারণ ঘুমধুম থেকেই তিন হাজারের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীকে প্রথম দফায় ওপারে রাখাইন প্রদেশে পাঠানো হবে। চলছে প্রস্তুতি। বেলা গড়াচ্ছে যত, ততই বাড়ছে উত্তেজনা।

আরও পড়ুন : ইডি-সিবিআইয়ের থেকে বাঁচতে ডিভোর্স চান শোভন, কিন্তু সেটা পাবেননা: রত্না

বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিভাগের একেবারে দক্ষিণ অংশে ঘুমধুম। তার গায়ে লাগোয়া মায়ানমার। এই সীমান্ত পেরিয়ে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা ২০১৭ সালে প্রাণ হাতে করে পালিয়ে এসেছিলেন।

রয়টার্স জানাচ্ছে , দুই দেশের কূটনৈতিক আলোচনা হলেও আদৌ কতটা তা কার্যকরী হবে তা নিয়েই রয়েছে প্রশ্ন। তবে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দান ও তাদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কূটনৈতিক সফলতা বারে বারে আলোচিত হয়েছে।

বিবিসি জানাচ্ছে, ২০১৭ সালের ২৫শে অগস্টের পর মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশ (পূর্বতন আরাকান) থেকে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় কয়েক লাখ রোহিঙ্গা।

আরও পড়ুন : ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ অবশ্যম্ভাবী, বলছেন বাংলার ভবিষ্যত দ্রষ্টা

মায়ানমার সরকারের দাবি,আরাকানে গোষ্ঠী সংঘর্ষের জেরে প্রথম সশস্ত্র রোহিঙ্গা সংগঠন হামলা চালায়। তারপরেই শুরু হয় সেনা অভিযান। সেই অভিযান ঘিরে গণহত্যা ও গণধর্ষণের অভিযোগ উঠছে। এর জেরে আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচিত হয় মায়ানমার সরকার ও সর্বোচ্চ নেত্রী আউং সান সু কি।

টানা কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় বিশ্বের সবথেকে বড় শরণার্থী শিবির থেকে অবশেষে রোহিঙ্গাদের ফেরত নিয়ে সম্মত হয় মায়ানমার সরকার। দু তরফের বৈঠকে স্থির হয় ঘুমধুম চেক পোস্ট দিয়ে তাদের পাঠানো হবে।