কক্সবাজার: গোপনে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে ভয়াবহ নৌকাডুবির ঘটনা বঙ্গোপসাগরে। বাংলাদেশের উপকূলে বিখ্যাত সেন্ট মার্টিন আইল্যান্ড ( নারিকেল জিঞ্জিরা দ্বীপ)। চট্টগ্রাম বিভাগের অন্তর্গত সেন্ট মার্টিন দ্বীপের নিকটে ঘটেছে এই দুর্ঘটনা অন্ত ১৫ জনের মৃতদেহ এবং ৬৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ নৌ বাহিনি ও উপকূলরক্ষীরা। চলছে তল্লাশি অভিযান। বাংলাদেশ উপকূলরক্ষী জানিয়েছে, ডুবে যাওয়া ওই ট্রলারে কম করে ১২৫ জন ছিলেন। তারা সবাই রোহিঙ্গা।

বিবিসি জানাচ্ছে, মৃত রোহিঙ্গাদের মধ্যে ১৪ জন মহিলা ও এক শিশু। বাংলাদেশে থেকে দালালের মারফত তারা পালিয়ে মালয়েশিয়ার উপকূল পর্যন্ত দীর্ঘ সমুদ্র পথ পাড়ি দিচ্ছিলেন। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ এখনও অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন। বঙ্গোপসাগরের সেন্ট মার্টিন দ্বীপের কাছে কয়েকজনের দেহ ভাসতে দেখা যাচ্ছে। এমনই জানিয়েছেন স্থানীয় মৎসজীবীরা। মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশ বা পূর্বতন আরাকান থেকে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা পালিয়ে সীমান্তবর্তী বাংলাদেশের চট্টগ্রামের বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে রয়েছেন। বাংলাদেশ সরকারের হিসেব ৭ লক্ষের বেশি রোহিঙ্গা রয়েছেন শিবিরগুলিতে।

অভিযোগ, মায়ানমার সরকার রাখাইন প্রদেশে সেনা অভিযান চালাতে নির্দেশ দেয়। তারপরেই শুরু হয় গণহত্যা ও গণধর্ষণ। বছর কয়েক আগের সেই ঘটনার পরেই বিশ্ব জুড়ে ছড়ায় আলোড়ন। যদিও মায়ানমার সরকারের দাবি, রেহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী প্রথমে সেনা বাহিনির উপর হামলা চালিয়েছিল। তারপরেই অভিযানের নির্দেশ দেওয়া হয়। বিতর্কিত এই রোহিঙ্গা শরণার্থী ইস্যু-তে প্রথম থেকে নীরব থাকায় প্রবল সমালোচিত হন দেশটির সর্বময় নেত্রী সু কি। সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক আদালতেও রোহিঙ্গাদের গণহত্যা সংক্রান্ত মামলায় মায়ানমারের কড়া সমালোচনা করা হয়।